আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্মুখ সমরে জয় শাহ? জল্পনা তুঙ্গে
২০২৩ সালে ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর বসছে ভারত। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময় আইসিসির প্রেসিডেন্ট ছিলেন শরদ পওয়ার। তেইশে কে? তা নিয়েই আপাতত জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রকে উল্লেখ করে দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার লড়াইটা হতে চলেছে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও বোর্ড সচিব জয় শাহর মধ্যেই।

বার্কলে সরতে চান
চলতি বছরের নভেম্বরেই আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের গ্রেগ বার্কলের। প্রতি দুই বছর অন্তর আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়, একজন ৬ বছরের বেশি এই পদে থাকতে পারেন না। সূত্রের খবর, বার্কলে আর এই পদে থাকতে রাজি নন, তাঁর সঙ্গে বিসিসিআই সভাপতি ও সচিব- দুজনেরই ভালো সম্পর্ক। বার্কলে অকল্যান্ডের খ্যাতনামা আইনজীবী, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অনেক সংস্থার বোর্ডে রয়েছেন, কয়েকটি সংস্থার ডিরেক্টর পদেও তিনি আসীন। ব্যস্ততার কারণেই তিনি আর পরবর্তী মেয়াদের আইসিসি চেয়ারম্যান থাকতে চাইছেন না। যদিও আইসিসির মুখপাত্র বার্কলের সরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।

আইসিসিতে ফের ভারতীয় চেয়ারম্যান?
বার্কলে দায়িত্বে এসেছিলেন ২০২০ সালের নভেম্বরে। আইসিসির বার্ষিক কনফারেন্স হবে আগামী জুলাইয়ে। তবে টি ২০ বিশ্বকাপ অবধি তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান পদে থাকছেনই। চলতি সপ্তাহে আইসিসি বোর্ড মিটিং রয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আইসিসির পুরুষদের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান, তিনি দুবাইয়ে যাচ্ছেন। আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য সৌরভের দিকেই যে বেশিরভাগের সমর্থন থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লড়াইয়ে ডার্ক হর্স বিসিসিআই সচিব জয় শাহ। জয় শাহ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট পদেও রয়েছেন।

সৌরভ বনাম জয়?
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ ভারতে হবে, এই সময় আইসিসিতে ভারতের কেউ চেয়ারম্যান পদে থাকলে বিষয়টি দারুণ হবে। আর সে কারণেই আইসিসির শীর্ষপদে যেতে আগ্রহী জয়। সৌরভ সম্প্রতি জয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, তাঁর বয়স ৪৯, হাতে প্রচুর সময়। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনও কাজ তিনি করবেন না। উল্লেখ্য, বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে সৌরভের তিন বছরের মেয়াদ ফুরোচ্ছে অক্টোবরে, আরও তিন বছর তিনি ওই পদে থেকে কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতেই পারেন। নিজের প্রতি কত সমর্থন রয়েছে তা আঁচ করেই সৌরভ আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার লড়াইয়ে নামবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। কেন না, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতীয় কাউকে সমর্থন নাও করতে পারে। সৌরভ কী করবেন, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

বিকল্প এবং নিয়ম
সৌরভ ও জয় শাহ যদি আইসিসি চেয়ারম্যান পদের জন্য না ঝাঁপান, সেক্ষেত্রে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলির পুত্র রোহন জেটলিও আইসিসির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে পারেন। আইসিসির চেয়ারম্যান হতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনও প্রাক্তন বা বর্তমান ডিরেক্টর হতেই হবে এবং অন্তত একটি বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে হবে। আইসিসির ডিরেক্টররা প্রত্যেকে একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও নমিনি নিয়োগ করতে পারেন দুই বা তার বেশি ডিরেক্টরের সমর্থন নিয়ে। সৌরভের পাশাপাশি জয় শাহও ডিরেক্টর হিসেবে আইসিসির একাধিক বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে ২০১৬ সালে প্রথমবার শশাঙ্ক মনোহর যখন আইসিসি চেয়ারম্যান হন তখন গোপন ব্যালটের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের টার্মে তিনি একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হন। বার্কলেও সর্বসম্মতভাবেই আইসিসি চেয়ারম্যান হন। আইসিসি বোর্ডে ১৭ জন ডিরেক্টর রয়েছেন। ১২ জন পূর্ণ সদস্য দেশগুলি থেকে, তিনজন অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব করেন। এ ছাড়াও রয়েছেন চেয়ারম্যান বার্কলে, আইসিসির চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার জিওফ অ্যালারর্ডিস ও একজন স্বাধীন মহিলা ডিরেক্টর ইন্দ্রা নুয়ি। সিইওর ভোটাধিকার নেই। দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ন্যূনতম ১১টি ভোট।












Click it and Unblock the Notifications