উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের পাশে মানবিক মহারাজ, ইসকনের সঙ্গে সৌরভ হাত মিলিয়ে মনে করালেন করোনাকাল
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে মানবিক মহারাজ। ইসকনের মাধ্যমে কয়েক হাজার দুর্গতর জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠালেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
শিলিগুড়ি ও তার আশেপাশে আড়াই হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে রোজ রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করছে সৌরভ গাঙ্গুলি ফাউন্ডেশন ও ইসকন।

জানা গিয়েছে, অন্তত ১০ দিন ধরে এই পরিষেবা চলবে। দুর্যোগে ভিটেমাটি হারানো মানুষজনের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে সৌরভ উত্তরবঙ্গে ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। অন্নপূর্ণা স্ন্যাকসের জাতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে ওই সংস্থার কর্ণধারকেও সৌরভ অনুরোধ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
কোভিডকালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইসকনের মাধ্যমেই লক্ষাধিক মানুষের অন্নসংস্থানের বন্দোবস্ত করেছিলেন। আয়লা-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনেও তিনি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকাতেও সৌরভ প্রতিবার ত্রিপল, শুকনো খাবার পাঠিয়ে থাকেন তাঁর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন সৌরভের উদ্যোগের ফলে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো উত্তরবঙ্গের নাম।
কলকাতায় ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন, "বাংলার মানুষের সেবায় ইসকনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর ফাউন্ডেশনের কাছে কৃতজ্ঞ। কোভিড-১৯ সংকটের সময়ও তিনি আমাদের মাধ্যমে কলকাতায় বহু পরিবারে অন্নসংস্থানের বন্দোবস্ত করেছিলেন। যা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ যখন বিপর্যয়ের সম্মুখীন, তখন আমাদের লক্ষ্য কাউকে যাতে অর্ধাহার বা অনাহারে থাকতে না হয়। এটিই বাংলার আসল চেতনা - যেখানে সহানুভূতি এবং দলবদ্ধ কাজ সমস্ত বাধা অতিক্রম করে।"
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, "এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। বন্যা ও ভূমিধসে এত মানুষের জীবন বিঘ্নিত হতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ অসংখ্য মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এই সময়ে আমাদের একত্রিত হয়ে দুর্গতদের সাহায্য করা উচিত। আমি সব সময় ইসকনের অক্লান্ত মানবিক কাজের প্রশংসা করি - তা বন্যা, ভূমিকম্প, যুদ্ধক্ষেত্র বা কোভিড-১৯ মহামারী- যা-ই হোক না কেন। অন্নসংস্থান-সহ নিঃস্বার্থভাবে মানবজাতির সেবা এই সংস্থা যেভাবে করে থাকে তা অনুপ্রেরণামূলক। এই মহৎ কাজে ইসকনের সঙ্গে আবারও সহযোগিতা করতে পারা আমার ফাউন্ডেশনের জন্য সম্মানের বিষয়।"
ইসকনের স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে তাঁদের শিলিগুড়ি কেন্দ্র এবং মোবাইল কিচেন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রান্না করা খাবার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং বিতরণ করছেন। দুর্গতদের কাছে সময়মতো খাবার পৌঁছে যাওয়ায় তাঁদের চিন্তা, উদ্বেগ কিছুটা লাঘব হচ্ছে। ইসকনের ফুড ফর লাইফ মিশনের মাধ্যমেই এই পরিষেবা চলছে। ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রভুপাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের কোথাও কেউ যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পান, বিশেষ করে সংকটের সময়। সেই ভাবধারাতেই উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসকন এই পরিষেবা জারি রেখেছে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে রাজ্য ফুটবল সংস্থা আইএফএ। চলতি আইএফএ শিল্ডের মাধ্যমে দুর্গতদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যপূর্ণ আইএফএ শিল্ড ফাইনালের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের একাংশ উত্তরবঙ্গের ত্রাণ তহবিলে তুলে দেবে বাংলার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।












Click it and Unblock the Notifications