বেঙ্গালুরু টেস্টে সঙ্গীর অভাবে শতরান অধরা শ্রেয়সের, ভারত প্রথম ইনিংসে থামল ২৫২ রানে
বেঙ্গালুরু টেস্টের প্রথম সেশনে ভারত চারটি উইকেট হারিয়েছিল। দ্বিতীয় সেশনে ডিনারের আগে ২৫২ রানে গুটিয়ে গেল ভারতীয় ইনিংস। দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিলেন শ্রেয়স আইয়ার। তবে সঙ্গীর অভাবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে শতরান হাতছাড়া করলেন মাত্র ৮ রানের জন্য। শ্রেয়স আইয়ার ও হনুমা বিহারীর ব্যাটিংয়ে আরও কঠিন হয়ে গেল অজিঙ্ক রাহানে ও চেতেশ্বর পূজারার দলে ফেরার রাস্তা।

পন্থের কাউন্টার-অ্যাটাক
৮৬ রানে চারটি উইকেট পড়ার পর থেকে কাউন্টার অ্যাটাকের রাস্তা বেছে নিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। চা বিরতিতে ভারতের স্কোর ছিল ২৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৩। দ্বিতীয় সেশনে প্রথমে ঋষভ পন্থের উইকেট হারায় ভারত। সাতটি চারের সাহায্যে ২৬ বলে ৩৯ রান করে লাসিথ এম্বুলডেনিয়ার বলে বোল্ড হন পন্থ। ৩২.৪ ওভারে ভারতের পঞ্চম উইকেটটি পড়ে ১২৬ রানের মাথায়। ৩৬.৪ ওভারে ১৪৮ রানে পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ১৪ বলে ৪ রান করে এম্বুলডেনিয়ার শিকার হন। এরপরও ভারতকে দুশোর কমে বেঁধে রাখতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তাঁদের ফিল্ডিং যেমন প্রত্যাশিত মানের ছিল না, তেমনই সঠিক লেংথে বল করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারাও বড় কারণ। ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখাতে পারেনি দিমুথ করুণারত্নের দল।

ব্যাটিং ধস
ভারতের সপ্তম উইকেটটি পড়ে ৪৭.১ ওভারে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩৩ বলে ১৩ রান করে ধনঞ্জয় ডি সিলভার বলে কট বিহাইন্ড হন। অক্ষর প্যাটেল ৭ বলে ৯ রান করে সুরঙ্গা লকমলের বলে বোল্ড হন। ৫০তম ওভারে ২১৫ রানের মাথায় ভারতের অষ্টম উইকেটটি পড়ে। ৫৩.৫ ওভারে ২২৯ রানের মাথায় আউট হন মহম্মদ শামি। অক্ষর প্যাটেল ফেরার পর থেকেই ওভারের বেশিরভাগ স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখছিলেন শ্রেয়স। কিন্তু শামি ব্যাট করতে গিয়েই বিপত্তি, ৮ বলে ৫ রান রান করে আউট হন তিনি। শামি যখন আউট হন তখন শ্রেয়স দাঁড়িয়ে ৭৬ বলে ৬৯ রানে।

মান বাঁচালেন শ্রেয়স
শ্রেয়স এরপরেও বেশিরভাগ স্ট্রাইক নিজের কাছে রেখে কয়েকটি বল খেলার জন্য দিচ্ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহকে। বুমরাহ সামলেও দিচ্ছিলেন। চ্যালেঞ্জিং পিচে শতরানের প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করতে থাকেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি টি ২০ আন্তর্জাতিকেই অপরাজিত ছিলেন ৫৭, ৭৪ ও ৭৩ রানে, সিরিজসেরাও হন। মোহালি টেস্টে ২৭ রান করেছিলেন। এদিন সঙ্গীর অভাব বাধা না হলে শতরান ধীরেসুস্থে পেতেই পারতেন। ছক্কা মেরে ৫৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এদিন। স্টেপ আউট করতে গিয়ে তিনি ৬০তম ওভারের প্রথম বলেই প্রবীণ জয়বিক্রমার শিকার হন। ৯৮ বলে ৯২ রানের ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার ও চারটি ছয়। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই ভারত টার্নিং ট্র্যাকে ৪.২৫ রান রেট বজায় রেখে ৫৯.১ ওভারে ২৫২ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয় সেশনে শ্রীলঙ্কা ৬টি উইকেট তুললেও ভারত যোগ করেছে ১৫৯ রান।

ব্যর্থ টপ অর্ডার
ময়াঙ্ক আগরওয়াল ৪, রোহিত শর্মা ১৫, হনুমা বিহারী ৩১ ও বিরাট কোহলি ২৩ রান করেছেন। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে লাসিথ এম্বুলডেনিয়া ২৪ ওভারে ২টি মেডেন-সহ ৯৪ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নেন। প্রবীণ জয়বিক্রমা ১৭.১ ওভারে ৩টি মেডেন-সহ ৮১ রান খরচ করে তিনটি উইকেট দখল করেছেন। ধনঞ্জয় ডি সিলভা ৩২ রানে ২টি এবং সুরঙ্গা লকমল একটি উইকেট নেন।












Click it and Unblock the Notifications