শ্রেয়সের অনন্য নজির বেঙ্গালুরুতে দিন-রাতের টেস্টে, তিন দিনেই ফের রোহিতরা সারবেন শ্রীলঙ্কা-বধ?
বেঙ্গালুরুতে দিন-রাতের টেস্টে অনন্য নজির গড়লেন শ্রেয়স আইয়ার। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নবনিযুক্ত অধিনায়ক দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত রাখলেন দ্বিতীয় ইনিংসেও। প্রথম ইনিংসে শতরান হাতছাড়া হয়েছিল ৮ রানের জন্য। এদিন আউট হলেন ৬৭ রানে। তা সত্ত্বেও গড়ে ফেললেন নয়া রেকর্ড। এদিকে, জয়ের জন্য ৪৪৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৭ ওভারে ১ উইকেটে ২৮। অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে ১০ ও কুশল মেন্ডিস ১৬ রানে ক্রিজে রয়েছেন। টেস্ট তিন দিনেই শেষ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা। আর তা হলে রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে ভারত পাঁচটি সিরিজ জিতবে হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করেই।

ছন্দে শ্রেয়স
৩৫.৪ ওভারে বিরাট কোহলি দলের ১৩৯ রানের মাথায় আউট হলে ছয়ে ব্যাট করতে নামেন শ্রেয়স আইয়ার। ১৮৪ রানের মাথায় ঋষভ পন্থ ব্যক্তিগত ৫০ রানে আউট হন। সেখান থেকে শ্রেয়স ও রবীন্দ্র জাদেজার জুটি ভারতকে পৌঁছে দেয় ২৪৭ রান অবধি। জাদেজা ৫৮.৫ ওভারে ২২ রান করে বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে বোল্ড হন। শ্রেয়সের সঙ্গী হন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁদের জুটি ভারতের লিড চারশো রান পার করে দেয়। ৬৫.৪ ওভারে ২৭৮ রানের মাথায় ২৫ বলে ১৩ রান করে প্রবীন জয়বিক্রমার বলে কট বিহাইন্ড হন অশ্বিন। ৬৬.১ ওভারে ২৭৮ রানের মাথাতেই শ্রেয়স আইয়ার লাসিথ এম্বুলডেনিয়ার বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

আইয়ারের নজির
সাতটি চারের সাহায্যে ৬৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শ্রেয়স। তিনিই প্রথম ভারতীয় ব্যাটার যিনি দিন-রাতের টেস্টে দুই ইনিংসেই অর্ধশতরান হাঁকালেন। উল্লেখ্য, গোলাপি বলে এই প্রথম দিন-রাতের টেস্ট খেলছেন শ্রেয়স। টেস্টে ভারতীয়দের মধ্যে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরির নজির রয়েছে রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলি, সুনীল গাভাসকর, ভিভিএস লক্ষ্মণ, সচিন তেন্ডুলকরের। সেই তালিকায় যোগ হলো শ্রেয়সের নাম। প্রথম ইনিংসে তাঁর ৯২ রানের দৌলতেই ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়ে ভারত পৌঁছেছিল ২৫২ রানে। এবার শ্রেয়স দলের লিড চারশো পার করতে অগ্রণী ভূমিকা নিলেন। ৪ টেস্টে ৭ ইনিংসে তিনি ৩৮৮ রান করেছেন, একটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান। ব্যাটিং গড় ৬৭.১২।

এলিট তালিকায়
দিন-রাতের টেস্টে দুই ইনিংসে ৫০-র বেশি রান দুবার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্নাস লাবুশানে। ২০১৯ সালে পারথে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৪৩ ও ৫০ এবং গত বছর অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০৩ ও ৫১। ২০১৬ সালে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন ব্র্যাভো ৮৭ ও ১১৬ রান করেছিলেন। স্টিভ স্মিথ ২০১৬ সালে ব্রিসবেনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই করেছিলেন ১৩০ ও ৬৩। সেই তালিকায় এবার নিজের নাম লেখালেন স্বপ্নের ফর্মে থাকা শ্রেয়স। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতরানের পর তাঁর সেলিব্রেশনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যেভাবে সেলিব্রেট করেছিলেন তা সেঞ্চুরি করলেই সাধারণভাবে করে থাকেন ব্যাটাররা। শ্রেয়স বলেন, চিন্নাস্বামীর পিচ যেমন ছিল সেখানে হাফ সেঞ্চুরিতেই সেঞ্চুরির অনুভূতি ছিল। ডিফেন্সিভ খেলতে গেলে আউট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকাতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছি। এদিনও কঠিন পিচে শ্রেয়স ছিলেন মারমুখী মেজাজেই।

জয়ের দিকে ভারত
৬৮.৫ ওভারে ৩০৩ রানের মাথায় অক্ষর প্যাটেল ৯ রান করে বোল্ড হতেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শ্রেয়সের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে কপিল দেবের রেকর্ড ভেঙে ঋষভ পন্থ করেন ৫০। শ্রীলঙ্কার টার্গেট ৪৪৭ রান। মহম্মদ শামি ২টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ৮ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। কেরিয়ারের শেষ ইনিংসে ১০ ওভারে ২টি মেডেন-সহ ৩৪ রান দিয়ে কোনও উইকেট পেলেন না সুরঙ্গা লকমল। তাঁর সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলিদের। প্রবীণ জয়বিক্রমা ৭৮ রানে চারটি, লাসিথ এম্বুলডেনিয়া ৮৭ রানে তিনটি উইকেট নেন। ধনঞ্জয় ডি সিলভা ও বিশ্ব ফার্নান্দো ১টি করে উইকেট পেয়েছেন। ৯টি উইকেটের মধ্যে ৮টিই গিয়েছে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের ঝুলিতে। জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই লাহিরু থিরিমানের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। জসপ্রীত বুমরাহর বলে লেগ বিফোর হন তিনি, স্কোরবোর্ডে রান ওঠার আগেই।












Click it and Unblock the Notifications