অল্প সময়ের জন্য হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে দাগ কেটেছিলেন যশপাল, নাছোড় মানসিকতাই ছিল শক্তি
অল্প সময়ের জন্য হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে দাগ কেটেছিলেন যশপাল
অল্প সময়ের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন যশপাল শর্মা। তাতেও দাগ কেটে গিয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন ক্রিকেটার। ভারতীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের নির্মাণের পিছনে যে রথীদের নাম উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে যশপাল শর্মার নাম অবধারিতভাবেই থাকবে। দেশের অন্যতম ক্রিকেটবোদ্ধার প্রয়াণ শূন্যতা তৈরি করল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে যশপাল শর্মার কেরিয়ার
১৯৭৮ সালে ভারতীয় দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন যশপাল শর্মা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেছিলেন এই প্রাক্তন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১৯৭৯ সালে ভারতের হয়ে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন যশপাল। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত লাল বলের ফর্ম্যাটে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন শর্মা। ১৯৮৫ সালের পর দেশের হয়ে ওয়ান ডে ম্যাচও খেলতে তাঁকে দেখা যায়নি। সাত বছরের কেরিয়ারে ভারতের হয়ে ৩৭টি টেস্ট ও ৪২টি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছিলেন যশপাল। দুই ফর্ম্যাটে যথাক্রমে ১৬০৬ ও ৮৮৩ রান করেছেন শর্মা। দুটি আন্তর্জাতিক শতরান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।
ছবি সৌজন্য ডিডি নিউজ

শুরুটা কীভাবে হয়েছিল
১৯৫৪ সালের ১১ অগাস্ট পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মেছিলেন যশপাল শর্মা। স্কুল ক্রিকেটের হাত ধরে ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে পাঞ্জাবের স্কুল দলের হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ২৬০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে প্রথম নজরে এসেছিলেন শর্মা। এর এক বছর পর রাজ্য দলে ডাক পেয়েছিলেন প্রয়াত ক্রিকেটার। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে দেখা গিয়েছে। দলীপ ট্রফিতে উত্তরাঞ্চল দলের সদস্য হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলে সাড়া জাগিয়েছিলেন যশপাল। ভাগবত চন্দ্রশেখর, এরাপল্লী প্রসন্ন এবং ভেঙ্কটরাঘবন সম্বৃদ্ধ বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ওই পারফরম্যান্স করে তিনি রাতারাতি জাতীয় নির্বাচকদের নজরে পড়ে গিয়েছিলেন। এক বছর পর ইরানি ট্রফিতে ৯৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ভারতের ওয়ান ডে দলে ডাক পেয়েছিলেন যশপাল শর্মা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬০টি ম্যাচ খেলে ৮৯৩৩ রান করেছেন যশপাল শর্মা। তাতে ২১টি শতরান সামিল রয়েছে।
ছবি সৌজন্য ডিডি নিউজ

চড়াই-উতরাই
ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেও যশপাল শর্মার পারফরম্যান্স নিয়ে সবসময়ই আলোচনা এবং সমালোচনা হয়েছে। ফলে দলে নিজের জায়গা পাকা করতে বারবার বেগ পেতে হয়েছে প্রয়াত ক্রিকেটারকে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩-র মধ্যে পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না দেখাতে পারার কারণে বারবার তাঁকে জাতীয় দলের প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। ১৯৮২ সালে চেন্নাইয়ের চিপকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে ১৪০ রানের ইনিংস খেলে ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন পাঞ্জাব তনয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের বিচারে যশপালকে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপগামী ভারতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তে যে কোনও ভুল ছিল না, তা নিজেই প্রমাণ করেছিলেন প্রয়াত ক্রিকেটার।

১৯৮৩-র বিশ্বকাপ
১৯৭৫ ও ১৯৭৯-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে দিয়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছিল ভারত। ওই ম্যাচে ১২০ বলে ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে কপিল দেব নেতৃত্বাধীন দলকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যশপালই। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ওই ম্যাচেও ৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দেশকে ফাইনালে তুলেছিলেন প্রয়াত ক্রিকেটার। এরপরেও দীর্ঘ হয়নি যশপাল শর্মার আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর তাঁকে আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছেন। দুই বছর জাতীয় নির্বাচকের ভূমিকাও পালন করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার।












Click it and Unblock the Notifications