শিখর ধাওয়ান বোঝা না হয়ে সম্পদ থাকতে চান, ঝড়ঝাপটা সামলে শান্ত থাকার কৌশল কী?
টেস্ট ও টি ২০ আন্তর্জাতিক দলে শিখর ধাওয়ানের এখন আর জায়গা হচ্ছে না, হবেও না। ফলে অবসর নেবেন দেশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেই। সামনেই ভারতের জিম্বাবোয়ে সফরে তিন ম্য়াচের একদিনের সিরিজে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন। অক্টোবরে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় সারির দল একদিনের সিরিজ খেলবে ধাওয়ানের নেতৃত্বে।

বোঝা নয়, সম্পদ
শিখর ধাওয়ান পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি যতদিন ভারতীয় দলের সম্পদ থাকব, ততদিন অবধিই খেলব। বোঝা হতে চাই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে একদিনের সিরিজ ভারত ধাওয়ানের নেতৃত্বেই জিতেছে। ২০২০ সাল থেকে এখনও অবধি ২২টি একদিনের আন্তর্জাতিকে শিখর ৯৭৫ রান করেছেন, ১০টি অর্ধশতরান-সহ। ভারতীয়দের মধ্যে এই সময়কালে সবচেয়ে বেশি রান। শিখরের উপলব্ধি তাঁর বেসিকস বা প্রাথমিক বিষয়গুলি ঠিক রয়েছে। টেকনিকের উন্নতি ঘটাতে কঠোর পরিশ্রম করেন। একদিনের ক্রিকেটের খুঁটিনাটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকায় সুবিধাই হয়।

শিখর-মন্ত্র
আগামী বছর দেশের মাটিতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ রয়েছে। এমনিতে ভারত অনেকটা সময়ের ব্যবধানে দ্বিপাক্ষিক একদিনের সিরিজ খেলে থাকে। শিখরের কথায়, আমি শুধু একটা ফরম্যাটে খেলছি বা অনেক সময়ের পর একদিনের সিরিজ খেলছি, এ সব ভেবে আমি কুঁকড়ে থাকতে পছন্দ করি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে তাল মেলানোর পরিস্থিতিতে আমার শরীর আছে সে সব ভাবনাকেও গুরুত্ব দিই না। বরং দুই বা তিন মাস পর যখন কোনও সিরিজ খেলতে নামি তখন এই মাঝের বিরতি আমাকে তরতাজা থাকার সুযোগ করে দেয়। পুরো ফিট হয়ে, নিজের খেলার প্রতি অনেকটা সময় দিয়ে নামতে পারি। দেশের হয়ে একটা ফরম্যাটে খেললেও সেখানে নিজের সেরাটা দিতে সব সময় প্রস্তুত থাকতে পছন্দ করেন ভারতীয় দলের গব্বর। তাঁর কথায়, আমি একজন পজিটিভ মানুষ। আমার মধ্যে নেগেটিভ কিছু পাওয়া যাবে না।

বিরতিতে প্রস্তুতিতে
আর কিছুদিন পরেই ৩৭ পূর্ণ করবেন। নিজের ফিটনেস নিয়েও সন্তুষ্ট ধাওয়ান। তিনি বলেন, এই ৩৬ বছর বয়সে এসে মনে হচ্ছে এখনই আমি সবচেয়ে বেশি ফিট এবং দক্ষতার নিরিখেও সেরা জায়গাতেই রয়েছি। জিম সেশন, স্কিল সেশন, দৌড়ানো ও যোগাভ্যাসই যে তাঁর প্রস্তুতির চার প্রধান ফ্যাক্টর, সে কথা জানিয়ে ধাওয়ান বলেন, যখন আমার কোনও খেলা থাকে না তখন গুরগাঁওয়ে আকাদেমিতে আমার ট্রেনিং চলে। কয়েকজন ভালো নেট বোলারকে ডেকে নেটে ব্যাট করি। গুরগাঁওয়ে ক্রিকেট পরিকাঠামো ভালো, অনেক ভালো বোলার বল করার জন্য তৈরি থাকেন।

আধ্যাত্মিকতার আশ্রয়ে
শিখর ধাওয়ান বলেন, জীবনে ভারসাম্য বজায় রেখেই চলি। আমি ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেছি, সেখানে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী হয়েছিলাম। এরপর ৯ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে টেস্ট অভিষেকের জন্য। অর্থাৎ প্রায় এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি যদি ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতাম তাহলে জাতীয় দলে সুযোগ হয়তো পেতাম না। পজিটিভ থাকার সুফল পেয়েছি। শিখর ধাওয়ান অবসর সময়ে বাঁশি বাজান। সম্প্রতি জগজিৎ সিংয়ের একটি জনপ্রিয় গান তুলে ধরেছেন বাঁশি বাজিয়ে। যা ভাইরাল হয়। শিখর বলেন, আমার জীবনেও অনেক চড়াই-উতরাই গিয়েছে। আধ্যাত্মিক বিষয়ে মনোনিবেশ করাতেই সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠেছি। আমি স্পিরিচুয়াল গুরু শিবাণি দিদি ও গৌরগোপাল দাসের শিক্ষামূলক বাণী শুনে থাকি। তাঁদের কথা শুনেই নিজেকে যে শান্ত রাখেন সে কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার। ভালো জীবনের জন্য ভালো মন থাকা যে জরুরি সেটাই মনে করেন ধাওয়ান।












Click it and Unblock the Notifications