অক্ষর প্যাটেল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের আত্মবিশ্বাস পেলেন কীভাবে? ভারতের জয়ে নিশ্চিত কোন নয়া নজির?
অক্ষর প্যাটেল ব্যাট হাতে ভারতকে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই একদিনের সিরিজ জিতিয়ে দেবেন, ম্যাচ শুরুর আগে বা চলাকালীনও কেউ ভাবেননি। কিন্তু উইকেটের অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও অপর প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল এবং আগ্রাসী ব্যাটিং উপহার দিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। ভারত জিতল ২ বল বাকি ২ উইকেটে। সেই সঙ্গে একদিনের আন্তর্জাতিকে রবীন্দ্র জাদেজাকেও কড়া চ্যালেঞ্জ অক্ষর ছুড়ে দিলেন।

অনবদ্য অক্ষর
ভারত অধিনায়ক শিখর ধাওয়ানকে ম্যাচ শেষে দেখা গেল দোভাষীর ভূমিকায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অক্ষর যখন ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়ে ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতে দিচ্ছিলেন, সেটাই অনুবাদ করে দিচ্ছিলেন ধাওয়ান। অক্ষর বোলিংয়ের সময় এক উইকেট তোলার পর ব্যাট হাতে ৩৫ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন। বলেন, এই পুরস্কার অবশ্যই আমার কাছে স্পেশ্যাল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ইনিংসটি খেলা এবং তা সিরিজ জয়ে অবদান রাখায় খুবই ভালো লাগছে। অক্ষর আরও বলেন, যখন ব্যাট করতে নামি তখন প্রতি ওভারে ১০ থেকে ১১ রান তোলা লক্ষ্য ছিল। আইপিএলের অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিত ছিলাম এটা করতে পারলেই জয় আসবে। শান্ত থেকে আস্কিং রেটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই বাজিমাত বলে জানান অক্ষর। ২০১৭ সালের পর একদিনের আন্তর্জাতিক খেলছেন চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ওডিআই কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরান, তাও আবার অপরাজিত থেকে দলকে ম্যাচ তথা সিরিজ জিতিয়ে। সিরিজ জয়ের অনুভূতিকেই অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের এই অলরাউন্ডার।

ভারতের নজির
২০০১ সালের পর থেকে একদিনের আন্তর্জাতিকে শেষ ১০ ওভারে সবচেয়ে বেশি রান তুলে জয়ের নিরিখে এটিই ভারতের সেরা পারফরম্যান্স। ২০১৪ সালে মীরপুরে পাকিস্তান বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ১০৯ রান তুলে। ২০০৫ সালে ক্রাইস্টচার্টে নিউজিল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল, যখন ১০ ওভারে দরকার ছিল ১০২। চলতি বছর ডাবলিনে শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজনীয় ১০১ রান তুলে নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তারপরেই রইল ভারতের নজির। শেষ ১০ ওভারের মধ্যে ১০০ রান তুলে ফেলে ভারতের এই জয়। এর আগে ভারত ২০১৫ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজনীয় ৯১ রান তুলেছিল। সেটিই এতদিন ছিল ভারতের সেরা পারফরম্যান্স। যে নজির ভেঙে গিয়েছে রবিবাসরীয় ম্যাচে। একইসঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টানা ১২টি একদিনের সিরিজ জিতে বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে মেন ইন ব্লু।

উচ্ছ্বসিত শিখর
দলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শিখর ধাওয়ান। ভারত অধিনায়ক এই সিরিজ জয়ের নেপথ্যে দলগত সংহতিকেই চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যেমন ভুলও করেছি, তেমনই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছি আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমেই। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকে যেভাবে জিতলাম তাতে আমি নিজেও কিছুটা অবাক। মিডল অর্ডারকে হ্যাটস অফ! সকলেই অসাধারণ খেলেছেন। অক্ষর ও আবেশ যেভাবে শেষের দিকে বাউন্ডারি মারছিলেন তা অনবদ্য। যখন গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে আমরা খেলি, তখন কীভাবে খেলা উচিত সেই অভিজ্ঞতা ক্রিকেটাররা সঞ্চয় করেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএল খেলে। সেটাই বড় মঞ্চে সহায়ক হয়েছে। মাঝামাঝি সময় অবধি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কম রানে বেঁধে ফেলব বলে মনে করছিলাম। কয়েকটি উইকেট তুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু তারপর নিকোলাস পুরাণ ও শাই হোপ রাশ ধরলেন। তবে প্রতিপক্ষ যেহেতু এই রান তুলেছে, তা আমরাও পারব বলে বিশ্বাস ছিল। আমাদের শুরুটা মন্থরই হয়। বাঁহাতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল। আমি আউট হওয়ার পর শ্রেয়স আইয়ার ও সঞ্জু স্যামসন ভালো খেলেন। সিলি মিসটেকের কারণে স্যামসন রান আউট হন। অবশেষে অক্ষর যেভাবে খেললেন তা অনবদ্য। দলের সাপোর্ট স্টাফদেরও কৃতিত্ব দেন ধাওয়ান।
|
স্নায়ুযুদ্ধে জয়
বিশ্বের দশম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে শততম একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরানের নজির গড়েন হোপ। ভারতীয়দের মধ্যে এই নজির রয়েছে শুধু ধাওয়ানের। শিখর বলেন, আমিও যখন এই নজির গড়েছিলাম তখন খুব ভালো অনুভূতি ছিল। হোপ একজন কোয়ালিটি প্লেয়ার, তিনি এই নজির গড়ায় অভিনন্দন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে আরও উজ্জ্বল হয়ে হোপ নিজেকে মেলে ধরবেন বলে আশাবাদী ধাওয়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক নিকোলাস পুরাণ শেষ পাঁচ ওভারে প্রত্যাশিতভাবে খেলতে না পারাকেই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন। মেনে নিয়েছেন শেষ ওভারে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা। অক্ষর প্যাটেলের প্রশংসাও করেন পুরাণ। আকিল হোসেনকে দিয়ে বাঁহাতির বিরুদ্ধে বল করানোর কৌশল কাজে লাগেনি। বুধবার শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া ক্যারিবিয়ান বাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications