কপিলের পরেই শার্দুল! ঠাকুরের রেকর্ড অর্ধশতরানেও ওভালে ২০০ পেরোতে ব্যর্থ বিরাটের ভারত
ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের নজির গড়লেন শার্দুল ঠাকুর। টেস্টে ভারতীয় হিসেবে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির নিরিখে তিনি রইলেন কপিল দেবের পরেই। ওভাল টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করে ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দিলেন স্মরণীয় কাউন্টার-অ্যাটাকের মাধ্যমে। ১২৭ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর উমেশ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে ১৯০ রানে পৌঁছে দেন শার্দুল। এরপর বাকি দুই উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।

শার্দুলের রেকর্ড-ব্রেকিং ব্যাটিং
শার্দুল ঠাকুর কেরিয়ারের চতুর্থ টেস্টে পঞ্চম ইনিংস এদিন খেললেন ওভালে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিসবেন টেস্টে করেছিলেন ১১৫ বলে ৬৭। আর ওভালে লেগ বিফোর হওয়ার আগে এক ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে করলেন ৩৬ বলে ৫৭ রান। ৩১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ১৯৮২ সালে করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে কপিল দেব ৩০ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। ফলে শার্দুল রইলেন কপিলের পরেই। ওভালে ১৯৮৬ সালে ইয়ান বোথাম নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান পূর্ণ করেছিলেন ৩২ বলে। সেই রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডে টেস্টে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ডটি নিজের দখলে নিলেন শার্দুল। ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বীরেন্দ্র শেহওয়াগ অর্ধশতরান পূর্ণ করেছিলেন ৩২ বলেই। টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের বিশ্বরেকর্ড অবশ্য রয়েছে পাকিস্তানের মিসবা উল হকের। ২৪ মিনিটে ২১ বলে আবু ধাবিতে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মিসবা। ৩১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে অর্জুন রণতুঙ্গা ও হ্যান্সি ক্রোনিয়ের নজির স্পর্শ করলেন শার্দুল।

ভারতের ১৯১
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৬১.৩ ওভারে ১৯১ রানে। লাঞ্চে ভারতের স্কোর ছিল তিন উইকেটে ৫৪। চা বিরতিতে সেই স্কোর দাঁড়া ৫১ ওভারে ৬ উইকেটে ১২২। জীবন পেয়ে অর্ধশতরান পূর্ণ করেও ফের বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি এদিন হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৫ বলে, ৮টি চারের সাহায্যে। আটে নেমে শার্দুল ৩১ বলে যখন অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তখন তাঁর ইনিংস সাজানো ছটি চার ও তিনটি ছয় দিয়ে। শেষে সাতটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৩৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন ঠাকুর। দলের হয়ে তাঁর রানই সর্বাধিক। ক্রিস ওকসের বলে শার্দুলের বিরুদ্ধে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন ওঠে। আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে এরপর লাভবান হয় ইংল্যান্ড। অলি রবিনসনের বলে কট বিহাইন্ড হন বিরাট, ৯৬ বলে করেন ৫০। টস হেরেও বড় রান তোলার কথা যে বিরাট বলেছিলেন তা হয়নি। বিরাটের নিজের ব্যাটিং-রোগও যে সারেনি, তা বোঝা গিয়েছে তাঁর আউট হওয়ার ধরন দেখে।

ফের ব্যাটিং বিপর্যয়
ভারতের বাকিরা কেউ ২০ পেরোতে পারেননি। রোহিত শর্মা ১১, লোকেশ রাহুল ১৭, চেতেশ্বর পূজারা ৪, অজিঙ্ক রাহানে ১৪ রানে আউট হন। তার আগে রাহানে শুরুর দিকেই লেগ বিফোরের হাত থেকে বাঁচেন বিরাটের পরামর্শে রিভিউ নিয়ে, তাতেও রানে ফিরতে ব্যর্থ ভারতের সহ অধিনায়ক। পাঁচে নেমে কিছুই করতে পারেননি রবীন্দ্র জাদেজা। ৩৪ বল খেলে ১০ করেন জাড্ডু। ব্যাট হাতে ফের ব্যর্থ ঋষভ পন্থ। ইংল্যান্ড পেসারদের বিরুদ্ধে পন্থের টেকনিকের সমস্যা কবে মিটবে তা বোঝাই যাচ্ছে না। ভারতের ব্যাটিং কোচের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে তেমনই পরের টেস্টে ঋদ্ধিমান সাহাকে খেলানোর দাবি ফের জোরালো হতে শুরু করেছে। ৩৩ বলে পন্থ ৯ রানে আউট হন। উমেশ যাদব ১০ রান করেন। একটিও বল না খেলে রান আউট হন জসপ্রীত বুমরাহ। মহম্মদ সিরাজ অপরাজিত থাকেন ১ রানে।

দুরন্ত ওকস
এক বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ক্রিস ওকস ১৫ ওভারে ৬টি মেডেন-সহ ৫৫ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নেন। অলি রবিনসন ৩৮ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট পান। জেমস অ্যান্ডারসন ও ক্রেগ ওভার্টন একটি করে নেন। মঈন আলিকে বোলিংই করতে হয়নি। জবাবে খেলতে নেমে দ্রুত ওপেনারদের হারায় ইংল্যান্ড। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ররি বার্নসকে ৫ রানে বোল্ড করেন জসপ্রীত বুমরাহ। এই ওভারের শেষ বলেই হাসিব হামিদ ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে। ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যায় রুটের দলের।












Click it and Unblock the Notifications