শাই হোপ ছুঁলেন শিখর-গেইল-ওয়ার্নারদের নজির! শততম একদিনের আন্তর্জাতিকে দুরন্ত শতরান
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারতের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে সমতা ফেরানোর আশা বা হোপ জাগিয়ে রাখল শাই হোপের ব্যাট। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে কুইন্স পার্ক ওভালে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক নিকোলাস পুরাণ ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ক্যারিবিয়ানদের বড় রানের দিকে এগিয়ে যেতে অগ্রণী ভূমিকা নেন ওপেনার শাই হোপ। তাঁর দুরন্ত শতরানের পাশাপাশি অর্ধশতরান হাঁকিয়েছেন পুরাণ।
|
হোপের দুরন্ত শতরান
আজ শততম একদিনের আন্তর্জাতিক খেলছেন শাই হোপ। সেই ম্যাচই শতরানের সাহায্যে স্মরণীয় করে রাখলেন ক্যারিবিয়ান উইকেটকিপার। একদিনের আন্তর্জাতিকে এটি তাঁর ত্রয়োদশ শতরান। ভারতের বিরুদ্ধে তৃতীয়। এর আগে, ২০১৮ সালে বিশাখাপত্তনমে ভারতের বিরুদ্ধে তিনি ১৩৪ বলে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ে ১৫১ বলে ১০২ রানে অপরাজিত ছিলেন হোপ। ২০১৮ সালেই পুনেতে ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র পাঁচ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেছিলেন। আজ নিজের দেশের মাটিতে একদিনের আন্তর্জাতিকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম শতরানটি হাঁকালেন। ৪৪.৪ ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে লং অন বাউন্ডারি দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি পূর্ণ করেন শতরান।
|
বিশ্বে দশম, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে চতুর্থ
শাই হোপের আগে মাত্র ৯ জন ব্যাটার নিজেদের শততম একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরান হাঁকিয়েছেন। হোপ হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার যিনি এই নজির গড়লেন। ১৯৮৮ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ ১০২ রানে অপরাজিত ছিলেন। একদিনের আন্তর্জাতিকে শততম ম্যাচে শতরানের নজির সেটিই প্রথম। ২০০৪ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৩২ রানে অপরাজিত থেকে সেই নজির স্পর্শ করেন ক্রিস গেইল। তার ঠিক দুই বছর পর রামনরেশ সারওয়ান নিজেদের দেশের মাটিতে, সেন্ট কিটসের বাস্তারে ভারতের বিরুদ্ধে শততম ওডিআইয়ে করেন অপরাজিত ১১৫। ১৬ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে গ্রিনিজ-গেইল-সারওয়ানের নজির স্পর্শ হোপের।

আরও যাঁদের দখলে নজির
ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিখর ধাওয়ান। ভারতীয় হিসেবে একমাত্র ধাওয়ানই শততম একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরান হাঁকিয়েছেন। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিনি করেন ১০৯ রান। তারপর হোপই প্রথম এই কীর্তি স্পর্শ করলেন। এ ছাড়াও এই নজির যাঁদের দখলে রয়েছে তাঁরা হলেন: নিউজিল্যান্ডের ক্রিস কেয়ার্নস (১৯৯৯ সালে ক্রাইস্টচার্চে ভারতের বিরুদ্ধে ১১৫), পাকিস্তানের ইউসুফ ইওহানা (২০০২ সালে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১২৯), শ্রীলঙ্কার কুমার সঙ্গকারা (২০০৪ সালে কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১০১), ইংল্যান্ডের মার্কাস ট্রেসকোথিক (২০০৫ সালে ওভালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০০) এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে ১২৪)।

ফর্মে ফিরলেন দারুণভাবে
শাই হোপ গত মার্চে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১৯ রান করার পর জুনে পাকিস্তান সফরে গিয়ে মুলতানে প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ১২৭ রান। কিন্তু তার পরের দুটি ম্যাচে আউট হন ৪ ও ২১ রান করে। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে তাঁর রান ছিল যথাক্রমে ০, ১৮ ও ২। ভারতের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের প্রথম ম্য়াচে তিনি করেন ১৮ বলে ৭। তবু হোপের ফর্মে ফেরার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অধিনায়ক পুরাণ। সেই আস্থারই পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে দুরন্ত শতরান উপহার দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে সমতা ফেরার আশা জিইয়ে রাখলেন।












Click it and Unblock the Notifications