এক ওভারে ৬টি চার! রাহানে-পৃথ্বী-গেইলের সঙ্গে আর কারা এই নজির গড়েছেন জানেন? দেখুন ভিডিও
আমেরিকার জসকরণ সিং মালহোত্রা সম্প্রতি ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ছয় ছক্কার নজির অবশ্য এখন বিশ্বে অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু ছয় বলে ৬টি চার? আশ্চর্য হলেও এটাই সত্যি, ছয় বলে ছটি চার বিশ্ব ক্রিকেটে মাত্র ৭ জনই মেরেছেন। তার মধ্যে পাঁচজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। টেস্টে চারবার, একদিনের আন্তর্জাতিকে ১ বার। ২ জন মেরেছেন আইপিএলে।

সন্দীপ পাটিল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম এক ওভারে ৬টি চারার নজির গড়েন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা প্রাক্তন ভারতীয় কোচ ও নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান সন্দীপ পাটিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বব উইলিসের ওভারে তিনি এই কীর্তি গড়েন। ১৯৮২ সালে। তখনও ক্রিকেটে এখনকার মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখা যেত না। বরং তা ছিল ডিফেন্সিভ এবং শৈল্পিক। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৪২৫ রানের জবাবে ভারত তখন ৬ উইকেটে ১৭৩। ১২৯ রান করার ফাঁকে পাটিল ৬টি চার মেরেছিলেন, কখনও স্কোয়্যার কাটে, কখনও বা হুক মেরে। ওভারের চতুর্থ বলটি ডট হলেও যেহেতু তার আগের নো বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছিলেন পাটিল তাই ওভার শেষে দেখা যায় তিনি ৬ বলে ৬টি চার মেরেছেন।
ক্রিস গেইল
২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ৬ বলে ৬টি চার মারেন। ওভাল টেস্টে। টেস্টের প্রথম বলে ছয় মারার রেকর্ডটিও রয়েছে গেইলের দখলে। সিরিজের চতুর্থ টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৪৭০ রান। স্টিভ হার্মিসন ৬ উইকেট নেওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল ১৫২ রানে। ফলো অন ইনিংসে গেইল ম্যাথু হগার্ডের ওভারের প্রথম বল মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান। পরের তিনটি বল অফ দিয়ে চার। এরপর একটি পুল ও একটি কাট শট মেরে ছয় বলে ছটি চারের নজির গড়েন গেইল। যদিও তিনি ১০৫ রান করেও দলের হার বাঁচাতে পারেননি।
রামনরেশ সারওয়ান
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রামনরেশ সারওয়ান ভারতের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে একটি টেস্টে মুনাফ প্যাটেলের বলে ৬ বলে ৬টি চার মারেন। ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চার টেস্টের সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি হয়েছিল সেন্ট কিটস ও নেভিসের বাস্তারে। রামনরেশ সারওয়ান করেছিলেন ১১৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১ উইকেটে ২৮০, এই পরিস্থিতিতে বল করতে আসেন মুনাফ প্যাটেল। প্রথম বল অফ দিয়ে চার। পরের দুটি শট হুক ও কভার ড্রাইভ মেরে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান সারওয়ান। চতুর্থ বলটি ইনসাইড এজে লেগে অল্পের জন্য উইকেটের কাছ ঘেঁষে চলে যায় বাউন্ডারির দিকে। পরের দুটি বলে স্কোয়্যার কাটে দুটি চার। ষষ্ঠ বলটি আবার নো বল ছিল। যদিও অতিরিক্ত বলটিতে সারওয়ানের শট সোজা ফিল্ডারের কাছে জমা পড়ে।
সনৎ জয়সূর্য
২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান সনৎ জয়সূর্য ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচেই ৬ বলে ৬টি চার মেরেছিলেন। তাও আবার জেমস অ্যান্ডারসনের ওভারে। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্যান্ডিতে সফররত ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯তম ওভারটি করতে এসেছিলেন অ্যান্ডারসন। লফটেড কভার ড্রাইভে প্রথম বলে চার। পরের বলটি ফার্স্ট স্লিপের উপর দিয়ে বাউন্ডারিতে চলে যায়। এর পরের বলেও চার হজম করে রণকৌশল বদলান জিমি। শর্ট বল হলেও সেটিতেও চার মারেন জয়সূর্য। শেষ দুটি বলেও বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬ বলে ৬টি চারের নজির স্পর্শ করেন।

তিলকরত্নে দিলশান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এরপর ৬ বলে ৬টি চার মারেন শ্রীলঙ্কারই তিলকরত্নে দিলশান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। সাত ম্যাচে দুটি শতরান-সহ ৩৯৫ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন দিলশান। শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ৩৭৬ রান তুলেছিল। ৫ ওভারের শেষে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে ২২, এই অবস্থায় বল করতে আসেন মিচেল জনসন। প্রথম দুই বলেই দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভে দুটি চার। পরের দুটি বলে চার মারেন পুল শটের মাধ্যমে। শেষ ২ বলে আরও ২টি ড্রাইভ মেরে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম ৬ বলে ৬টি চার মারার নজির গড়েন দিলশান। যদিও শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল ৬৪ রানে। দিলশান ৬২ করেছিলেন।

অজিঙ্ক রাহানে
৬ বলে ৬টি চার মারার নজির রয়েছে আইপিএলেও। সেই রেকর্ডটি রয়েছে অজিঙ্ক রাহানের দখলে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে ম্যাচের ত্রয়োদশ ওভারে রাহানে শ্রীনাথ অরবিন্দর এক ওভারে ৬টি চার মেরেছিলেন। তখন রাহানে রাজস্থান রয়্যালসে। অপরাজিত ১০৩ রান করে ওই ম্যাচে সেরার পুরস্কারটিও পান রাহানে।

পৃথ্বী শ
চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১৫৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই শিবম মাভির বলে ৬টি চার মারেন পৃথ্বী শ। এই ওভারে ২৫ রান দেন মাভি।












Click it and Unblock the Notifications