শেন ওয়ার্ন ও সচিন তেন্ডুলকর মাঠের বাইরে প্রিয় বন্ধু, উপভোগ করতেন খেলার মাঠের দ্বৈরথ
তিন কিংবদন্তি। সচিন তেন্ডুলকর, শেন ওয়ার্ন ও ব্রায়ান লারা। বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটার উপভোগ করতেন শেন ওয়ার্নের সঙ্গে খেলার মাঠের দ্বৈরথ। ওয়ার্নের প্রয়াণ তাই বেদনাহত করেছেন সচিন ও লারাকে। ওয়ার্ন লারা ও সচিনের সঙ্গে এক ফ্রেমে নিজেদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকবার পোস্ট করেছেন। মাঠের বাইরের তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিকেটীয় স্পিরিট বজায় রেখে খেলার মাঠে যে দ্বৈরথ উপহার দিয়েছেন তা যেমন ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন, তেমনই তাঁদের অনুপ্রাণিতও করেছে।

দ্বৈরথে এগিয়ে সচিন
সচিন ও ওয়ার্ন পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন ২৯ বার। সচিন অ্যাটাকিং ব্যাটার, ওয়ার্ন অ্যাটাকিং বোলার। মাত্র চারবারই সচিনকে আউট করতে পেরেছেন কিংবদন্তি অজি লেগস্পিনার। দুই কিংবদন্তির দ্বৈরথে ওয়ার্নকে বারবারই ছাপিয়ে গিয়েছেন সচিন। ওয়ার্নের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে সিডনিতে। সেই টেস্টে সচিন ছয়ে নেমে ২১৩ বলে ১৪৮ রান করেছিলেন। মেরেছিলেন ১৪টি চার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দাপট দেখিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া ওয়ার্নের প্রথম টেস্টের বোলিং ফিগার ছিল ৪৫ ওভার ৭ মেডেন ১৫০ রানে ১ উইকেট। ২০৬ রান করা রবি শাস্ত্রী ওয়ার্নের প্রথম টেস্ট উইকেট।

সচিন যখন ওয়ার্নের শিকার
দুই কিংবদন্তির দ্বৈরথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ১৯৯৮ সালে চেন্নাইয়ের প্রথম ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ভারত ২৫৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত চার রানে প্রথমবার সচিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ার্নের শিকার হন এই টেস্টেই। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভরাডুবিতে প্রথম ইনিংসে ভারত ৭১ রানের লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে সচিন ১৯১ বলে ১৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ভারত ৪ উইকেটে ৪১৮ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট ছিল ৩৪৮, তারা ১৬৮ রানে অল আউট হতেই ভারত জয় পায় ১৭৯ রানে।
শারজায় মরুঝড়
১৯৯৮ সালের ২২ এপ্রিল শারজায় কোকাকোলা কাপের ম্যাচে ভারতকে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে হারিয়েছিল ২৬ রানে। কিন্তু এই ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল মরুঝড়। সচিন তেন্ডুলকর ১৩১ বলে ১৪৩ রান করার পাশাপাশি এক উইকেট পেয়ে হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। ড্যামিয়েন ফ্লেমিং, মাইকেল ক্যাসপ্রোভিচ, শেন ওয়ার্নদের হাল বেহাল করে দিয়েছিল মাস্টার ব্লাস্টারের ব্য়াট। ওয়ার্ন ৯ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। এখানেই শেষ নয়। ফাইনালেও ভারতকে জেতায় সচিনের দুরন্ত শতরান। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই সচিন খেলেছিলেন ১৩১ বলে ১৩৪ রানের ইনিংস। ১২টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে। ওয়ার্ন ১০ ওভারে ৬১ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। পরে সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, ঘুমানোর সময়ও সচিনের মারের দুঃস্বপ্ন তাড়া করত তাঁকে। এই টুর্নামেন্টে সচিন ৪৩৫ রান করার পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে সিরিজ-সেরাও হয়েছিলেন। ফাইনালে ভারত ৯ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জিতেছিল ২৭৩ রানের টার্গেট তাড়া করে।

টেস্টে ওয়ার্ন বনাম সচিন
১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে অ্যাডিলেড টেস্টে সচিনকে আউট করেছিলেন শেন ওয়ার্ন। ১৩৩ বলে ৬১ রান করেছিলেন সচিন। এরপর মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে অনেক পিছিয়ে ছিল ভারত। তবে শতরান করেছিলেন সচিন। তিনি খেলেছিলেন ১১৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে সচিন ৫২ রানে ওয়ার্নের শিকার হন। ভারত ১৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়।

দুরন্ত দ্বৈরথ
২০০১ সালে ইন্দোরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া একদিনের আন্তর্জাতিকে সচিন-ওয়ার্নের দ্বৈরথ ছিল উপভোগ্য। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন স্টিভ ওয়া। সচিন ১৯টি চারের সাহায্যে ১২৫ বলে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। ১০ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি ওয়ার্ন। আবার ১৯৯৮ সালে কানপুরে হয়েছিল আরেকটি উপভোগ্য লড়াই। ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২২২ রান করেছিল। জবাবে সচিন ৮৯ বলে ১০০ রান করেন। এই ম্যাচে সচিনের উইকেটটি পেয়েছিলেন ওয়ার্ন।

আইপিএলে ওয়ার্ন
আইপিএলে ২০০৮ থেকে ২০১১ অবধি খেলেছেন শেন ওয়ার্ন। তাঁর ৫৩টি ম্যাচে ৫৭টি উইকেট রয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস তাঁর অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। ২০০৯ সালের আইপিএলে ডারবানে ওয়ার্নের রাজস্থান সচিনের মুম্বইকে হারিয়ে দিয়েছিল। সচিনের উইকেট-সহ তিনটি উইকেট ২৪ রানের বিনিময়ে নিয়ে ম্যাচের সেরা হন ওয়ার্ন।

প্রদর্শনী ম্যাচে
২০১৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট অল-স্টারস টুর্নামেন্টে সচিন'স ব্লাস্টার্সকে তিনটি ম্যাচেই হারিয়েছিল ওয়ার্ন'স ওয়ারিয়র্স। প্রথম ম্য়াচে সচিবন, লক্ষ্মণ ও লারার উইকেট পেয়েছিলেন ওয়ার্ন, ৪ ওভারে ২০ রানের বিনিময়ে। পরের দুটি ম্যাচে ওয়ার্ন আর কোনও উইকেট পাননি। এর আগে ২০১৪ সালে সচিন-ওয়ার্নের দ্বৈরথ দেখা গিয়েছিল লর্ডসে। অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের অধিনায়ক ছিলেন ওয়ার্ন, এমসিসির সচিন। সচিনরা ওয়ার্নের দলকে হারিয়েছিলেন সাত উইকেটে।
Shocked, stunned & miserable…
— Sachin Tendulkar (@sachin_rt) March 4, 2022
Will miss you Warnie. There was never a dull moment with you around, on or off the field. Will always treasure our on field duels & off field banter. You always had a special place for India & Indians had a special place for you.
Gone too young! pic.twitter.com/219zIomwjB












Click it and Unblock the Notifications