লর্ডস না ইডেন? গুলিয়ে ফেললেন শেহওয়াগ, শামি-বুমরাহে উচ্ছ্বসিত সচিন-লক্ষ্মণ

লর্ডসে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে ভারতকে হঠাৎই লড়াইয়ে ফেরায় ব্যাট হাতে মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহর জুটি। পরে বল হাতেও প্রথম দশ বলের মধ্যে দুই ওপেনারকে খালি হাতে ফেরত পাঠান এই দুই পেসার। ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ সিরাজরা যোগ্য সঙ্গত দিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করায় স্মরণীয় জয় আসার জোরালো সম্ভাবনা। ৩৮তম ওভারের প্রথম দুই বলে মঈন আলি ও স্যাম কারানকে সিরাজ তুলে নেওয়ায় ইংল্যান্ডের সাত উইকেট পড়েছে ৯০ রানে। এই ম্যাচ তাই বীরেন্দ্র শেহওয়াগকে মনে করাচ্ছে ২০ বছর আগের ইডেনকে।

বীরুর প্রশংসা

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফলো অনে বাধ্য হয়ে স্মরণীয় জুটি গড়েছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়। পরে হরভজনদের দাপটে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারত, থেমে গিয়েছিল স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়ার বিজয়রথ। লর্ডসে চতুর্থ দিনের শেষেও ভালো জায়গায় ছিল ইংল্যান্ড। আজ সকালে নতুন বল নিয়ে দ্রুত ঋষভ পন্থ ও ইশান্ত শর্মাকে আউটও করেছিলেন অলি রবিনসন। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে পিছিয়ে পড়া এবং আজ ২০৯ রানের মাথায় আট উইকেট হারানোর পর জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন জো রুটরা। কিন্তু তারপর মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহকে আর আউটই করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ভারত ২৭১ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে। একদিনের মেজাজে ব্যাটিং করে ৮৯ রানের রেকর্ড-ব্রেকিং পার্টনারশিপ গড়েন শামি ও বুমরাহ। ইংল্যান্ডের মাটিতে নবম উইকেটে টেস্টে ভারতের এটিই সেরা পার্টনারশিপ। এই ইনিংসকে ইডেনে দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তুলনা করে বীরেন্দ্র শেহওয়াগ লিখেছেন, মৌজ করাদি! শামি-বুমরাহ-র জন্য তালি বাজতে থাকুক।

সচিন-স্বীকৃতি

সেরা স্বীকৃতি এসেছে মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরের কাছ থেকে। তিনি টুইটারে লিখেছেন, এই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যবান বললে কম বলা হয়। এর গুরুত্ব তাতে সঠিকভাবে বোঝানো যায় না। বাস্তবে এই ইনিংসটিই ম্যাচের রংটাই বদলে দিয়েছে। ওয়েল ডান সামি ও বুমরাহ!

খুশি ভিভিএস

এই ইনিংসটি দারুণভাবে উপভোগ করেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণও। ফ্যাব ফোরের অন্যতম লক্ষ্মণ টুইট করেছেন, বাহ, মজা আ গ্যায়া! সেরা টেকনিক না থাকলেও তাঁরা অনবদ্য পার্টনারশিপ গড়লেন টেস্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। এরপর ড্রেসিংরুমে শামি ও বুমরাহকে স্বাগত জানানোর ভিডিও শেয়ার করে লক্ষ্মণ আরও লিখেছেন, যেভাবে গোটা দল তাঁদের অভ্যর্থনা জানাল তা দেখে খুব ভালো লাগল। কঠিন পরিস্থিতিতে এমন পার্টনারশিপ গোটা দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। সকলেই চার্জড-আপ হয়ে যান। দলের সকলে একে অপরের সাফল্য যেভাবে উপভোগ করছে, সেটাও খুব ইতিবাচক ও ভালো দিক।

২০১৪ ফেরার অপেক্ষা

ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় লক্ষ্মণের এই একই কথা বলেছেন সুনীল গাভাসকরও। এমনকি ভারত যখন ফিল্ডিং করতে নামে প্রত্যেকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই ছিল আগ্রাসী ভাব। অবশ্যই একের পর এক উইকেট পড়ার পর ক্যামেরার ফোকাস যাচ্ছে বিরাট কোহলির দিকেও। এই টেস্টে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাকযুদ্ধ জড়ানোও ম্যাচের মেজাজকে তপ্ত করেছিল। লোকেশ রাহুলের দিকে শ্যাম্পেনের কর্ক ছোড়া বা স্পাইক দিয়ে বল চেপে ধরা, এ সব অক্রিকেটীয় আচরণের জবাব মাঠেই দিচ্ছে বিরাট কোহলির দল। ২০১৪ সালের লর্ডস টেস্টে জয়ের পুনরাবৃত্তির দিকে তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

(ছবি- বীরেন্দ্র শেহওয়াগের টুইটার)

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+