দক্ষিণ আফ্রিকা একাধিক নজির গড়ে সিরিজে এগিয়ে, ভারতকে হারাতে কখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন ডুসেন?

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ২১২ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০৬ রান তাড়া করে জেতাই ছিল প্রোটিয়াদের সেরা জয়। সেই নজির ভেঙে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তেম্বা বাভুমার দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিল ডেভিড মিলার ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের দুরন্ত পার্টনারশিপ।

রেকর্ড গড়ে জয়

রেকর্ড গড়ে জয়

শেষ ১০ ওভারে দরকার ছিল ১২৬। কোনও উইকেট না হারিয়ে পাঁচ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়া করতে গিয়ে শেষ ১০ ওভারে এত রান তুলে এর আগে কেউ জেতেনি। ২০১০ সালের টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানকে হারিয়েছিল, সেই ম্যাচে শেষ ১০ ওভারে অজিদের দরকার ছিল ১২৫। ৮১ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ডেভিড মিলার। অবিচ্ছেদ্য চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাঁরা যোগ করলেন ১৩১ রান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সেরা তো বটেই, চতুর্থ বা তার পরবর্তী উইকেট জুটিতে ওঠা সর্বাধিক রানের তালিকায় থাকছে চার নম্বরে।

ক্যাচ মিসের ফায়দা

ক্যাচ মিসের ফায়দা

ক্যাচ ফেলা মানেই ম্যাচ ফেলা। এই প্রবাদটি ফের প্রমাণিত হলো দিল্লিতে। শ্রেয়স আইয়ার ম্যাচের ১৬তম ওভারে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের সহজ ক্যাচ ফেলেন। এই ওভারে আসে ১৪ রান। সেই সময় ৩০ বলে ২৯ রানে ব্য়াট করছিলেন ডুসেন। শেষ অবধি তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৬ বলে ৭৫ রান করে। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলা এই প্রোটিয়া ব্য়াটার জানিয়েছেন, শ্রেয়স আইয়ার ক্যাচ ফেলতেই ভারতকে হারানোর বিষয়ে তিনি আরও প্রত্যয়ী হয়ে যান। এমনকী তার আগেই ডেভিড মিলারকে তাঁর স্বাভাবিক খেলা খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন ডুসেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, উইকেটে থাকতে পারলে শেষ ১০ ওভারে ১২-১৩ রান তোলা কঠিন হবে না। তাছাড়া উইকেটের একদিকের শর্ট বাউন্ডারিকে কাজে লাগিয়ে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনে ওভারপিছু ১৪-১৫ রান তুলে ফেলাও সম্ভব। তাই ডুসেন ও মিলার কেউই প্যানিকড হননি।

কার্যকরী আইপিএল

কার্যকরী আইপিএল

আইপিএলে থাকাকালীন এখানকার চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন। ভারতীয় বোলারদের কীভাবে সামলাবেন সে সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করতে পেরেছেন। ডুসেন বলেন, আইপিএল অবশ্যই সাহায্য করেছে। অনেকগুলি আইপিএল ম্যাচ দেখেছি। খেলার সুযোগ বেশি না পেলেও কোন বোলার কেমন বল করেন সেটা আঁচ করতে পেরেছি। ভারতের কন্ডিশনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ফারাক রয়েছে। ভারতে দুই মাসের বেশি কাটিয়ে এখানকার গরম, পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পেরেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেই আইপিএলে ছিলেন। তার ইতিবাচক ফলই হলো প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে জয়লাভ। ডুসেন আরও বলেন, উইকেটের পেসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রথম দিকে অসুবিধা হচ্ছিল। চাপ অনুভব করছিলাম। কিন্তু ডেভিড আইপিএলের ফর্ম অব্যাহত রাখায় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। এতে আমারও ছন্দ পেতে সুবিধা হয়। মিলারের একটি বা দুটি ছক্কাই মোমেন্টাম তৈরি করে দেয়। আমি ভাগ্যবান। তবে ভাগ্যের সঙ্গ পাওয়া খেলারই অঙ্গ। শ্রেয়স ক্যাচটি ধরে ফেললে খেলার গতিপ্রকৃতি অন্যরকম হতেও পারতো। কিন্তু তারপরও আমাদের অনেক ভালো মানের ব্যাটারই ছিলেন।

কিলার-মিলার

কিলার-মিলার

আজ ডেভিড মিলারের জন্মদিন। গতকাল তিনি ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন। কিলার মিলার বলেন, নিজের প্রতি আস্থা রেখেই কামব্যাক করতে পেরেছি। ম্য়াচ জেতা ধারাবাহিকতা বাড়ায়, বাড়ায় আত্মবিশ্বাসও। যে কোনও জায়গায় ব্যাট করতে প্রস্তুত। ফারাক গড়তে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই। খেলাকে বুঝতে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার দক্ষতা বিগত কয়েক বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্জন করেছেন বলে জানান মিলার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+