অস্ট্রেলিয়াকে চূর্ণ করল জিম্বাবোয়ে, ডাউন আন্ডারে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ঐতিহাসিক জয়

জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজটি আগেই পকেটে পুরে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। টাউন্সভিলে তৃতীয় তথা শেষ ওডিআই জিতলে অ্যারন ফিঞ্চের দল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করতে পারতো। কিন্তু তা তো হলোই না, জিম্বাবোয়ে নিশ্চিত করল ঐতিহাসিক জয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে ১৪১ রানে বেঁধে ফেলে জয় এসেছে ৩ উইকেটে।

অস্ট্রেলিয়া ১৪১!

টস জিতে জিম্বাবোয়ে প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠায়। ব্যাটিং ব্যর্থতার জেরে মাত্র ৩১ ওভারে ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় অ্যারন ফিঞ্চের দল। মাত্র দুই ব্যাটার দুই অঙ্কের রান পান। এই ১৪১ রানের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার একাই করেন ৯৪, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল করেন ১৯। অ্যারন ফিঞ্চ ৫, স্টিভ স্মিথ ১, অ্যালেক্স ক্যারে ৪, মার্কাস স্টইনিস ৩, ক্যামেরন গ্রিন ৩, অ্যাশটন অ্যাগার ০, মিচেল স্টার্ক ২ ও জশ হ্যাজলউড ০ রানে আউট হন। ১ রান করে অপরাজিত থাকেন অ্যাডাম জাম্পা। ওয়ার্নার ১৪টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৯৬ বলে ৯৪ রান করে আউট হন।

বার্লের চমক

জিম্বাবোয়ের বোলারদের মধ্যে সফলতম লেগ স্পিনার রায়ান বার্ল। তিনি ৩ ওভার বল করে ১০ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট। ওয়ার্নার, ম্যাক্সওয়েল, অ্যাগার, স্টার্ক ও হ্যাডলউডকে তিনি সাজঘরে ফেরান। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ১২৯ রানে পড়েছিল ষষ্ঠ উইকেট, সেখান থেকে ১৪১ রানেই অল আউট অজিরা। ব্র্যাড ইভান্স ২টি এবং রিচার্ড নাগারভা, ভিক্টর নিয়াউচি ও সিন উইলিয়ামস ১টি করে উইকেট নেন। জবাবে খেলতে নেমে ৩৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবোয়ে। অধিনায়ক রেজিস চাকাভা ৭২ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদিওয়ানাশে মারুমনি করেন ৩৫। জশ হ্যাজলউড ২টি মেডেন-সহ ১০ ওভারে ৩০ রানের বিনিময়ে নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট দখল করেন স্টার্ক, গ্রিন, স্টইনিস ও অ্যাগার। ফলে সিরিজ জিতলেও শেষ ম্যাচে লজ্জার হার এড়াতে পারল না অস্ট্রেলিয়া।

৩০ বছর পর

১৯৯২ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। অবশেষে ৩০ বছর পর অজি-ভূমে একদিনের ম্যাচে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের স্বাদ পেল তারা। যা নিশ্চিতভাবেই টি ২০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী রাখবে রেজিস চাকাভার দলকে। এই ম্যাচ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১০ পয়েন্ট আদায় করে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সুপার লিগে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমাল জিম্বাবোয়ে। প্রথম আটে না থাকতে পারলে খেলতে হবে যোগ্যতা অর্জন পর্ব। আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে ১১ ও জিম্বাবোয়ে ৪৫ নম্বর নিয়ে রইল ১২ নম্বরে। অস্ট্রেলিয়া রয়েছে সাতে। বল হাতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩টি ক্যাচ নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ বার্ল। সিরিজ-সেরা অ্যাডাম জাম্পা।

সিরিজ জিতেও খচখচানি

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ফিঞ্চ প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেছেন, জিম্বাবোয়ে সকালে ভালো বোলিং করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে কোনও দল যে কোনও দলকে যে কোনও দিন হারাতে পারে। আমাদের বল হাতে ম্যাচ জেতার সুযোগ থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আমাদের বোলিং আক্রমণ খুবই ভালো। স্টার্ক ও হ্যাজলউড আরও একবার দেখিয়েছেন কেন তাঁরা বিশ্বের দুই সেরা বোলার। ব্যাট হাতে ওয়ার্নারের ভালো খেলারও প্রশংসা করেন ফিঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেওয়ার কৃতিত্ব বোলারদেরই দিয়েছেন জিম্বাবোয়ে অধিনায়ক চাকাভা। বোলাররা কতটা ভালো বোলিং করেছে তা অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে বেঁধে ফেলার মধ্যেই স্পষ্ট। দেশে ফিরে টি ২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দেবে জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার থেকে সেই সিরিজ শুরু।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+