রোহিত অস্ট্রেলিয়াকে দিলেন স্পিন খেলার টিপস! বিরাটের থেকে শিক্ষা নিয়েও দুই বোলার সামলাতে কেন হিমশিম হিটম্যান?
রোহিত শর্মা নিজেও অবাক যেভাবে আজ একটা সেশনেই অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেট হারিয়েছে। বিরাট কোহলির থেকে ক্যাপ্টেন্সির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার কথাও উল্লেখ করলেন হিটম্যান।
নাগপুর টেস্টে ৩০টি উইকেটের মধ্যে ২৪টি নিয়েছেন স্পিনাররা। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা মিলেই তুলে নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। ইনিংস ও ১৩২ রানে জিতে স্বভাবতই খুশি রোহিত শর্মা। তবে ভারত অধিনায়ক স্বীকার করে নিচ্ছেন, অস্ট্রেলিয়া যে একটি সেশনেই ১০ উইকেট হারাবে তা তিনি ভাবেননি।

অজিদের দেখে অবাক
রোহিত এদিন বলেন, আমরা সেশন ধরে ধরে বোলিংয়ের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম। ভাবিনি এদিনই খেলা এভাবে শেষ হয়ে যাবে। পিচ ক্রমেই মন্থর হয়ে যাচ্ছিল। বাউন্স ছিল না। সেই অবস্থাতেও যেভাবে একটি সেশনে অস্ট্রেলিয়া অল আউট হয়ে গেল সেটা অবাক করার মতোই। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করছিল, নাগপুরের পিচে যাতে বাঁহাতিরা খেলতে অসুবিধা পড়েন সে কারণে শেষ মুহূর্তে পিচের চরিত্র বিশেষ উপায় অবলম্বনে বদলানো হয়েছে। যদিও রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেলের ব্যাটিং সেই আজব দাবিকে সপাটে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছে। তাঁরা দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়। তারপরও শিক্ষা নেয়নি অস্ট্রেলিয়া। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ডামিকে নিয়ে অনুশীলনে যে কিস্যু হয় না তা টের পেলেন প্যাট কামিন্সরা।

পিচ প্রসঙ্গে
রোহিত সাফ জানিয়ে দিলেন, আমি অস্ট্রেলিয়া দলের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানি না। তবে আমরা এই ধরনের পিচে খেলতে চাই, গত তিন-চার বছর ধরে এমন পিচেই আমরা খেলে আসছি। এ ধরনের পিচে খেলেই আমরা বড় হয়েছি। ফলে পিচ নিয়ে আমাদের ড্রেসিংরুমে কোনও আলোচনা হয় না। আমি নিজে মুম্বইয়ে খেলে বড় হয়েছি। সেখানকার উইকেটে বল ঘোরে। আমি সব সময় দেখে নিই ব্যাটার হিসেবে আমাকে কোন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। তা করতে গিয়ে কোন ধরনের শট খেলা দরকার। পায়ের ব্যবহার করতে হবে। অর্থোডক্স ক্রিকেটের পাশাপাশি আনঅর্থোডক্স শট খেলতে হবে। স্পিনারদের একই জায়গায় বল ফেলতে দিলে চলবে না। আমি ওপেন করা শুরুর পর থেকেই ঠিক করে নিয়েছি কীভাবে রান করতে হবে।

সফল হতে জরুরি
রোহিতের কথায়, এ ধরনের পিচে ব্যাট করতে গেলে নিজের শক্তি সম্পর্কে সজাগ থাকতে হয়। স্পিনারকে থিতু হতে দেওয়া যাবে না। স্টেপ আউট করে কিংবা স্যুইপ ও রিভার্স স্যুইপ মারতে হবে। নাগপুরের সিভিল লাইন্সে ভারতীয় দলের শিবির যে খুব কাজে লেগেছে সে কথা জানাতে ভোলেননি ভারত অধিনায়ক। নিজে শতরান পেয়েও স্বস্তিতে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভারত ৩৬ রানে অল আউট হওয়ার পরেও সিরিজ জিতে ফিরেছিল। নাগপুরে কামিন্সরা হারলেও তাঁদের সমীহই করছেন রোহিত। তিনি বলেন, ওই সিরিজের অনেকে অস্ট্রেলিয়ার এই দলে নেই। তবে অস্ট্রেলিয়া বরাবরই টেস্ট খেলতে পছন্দ করে। ফলে অজিরা ঘুরে দাঁড়াতে যে চাইবে সে ব্যাপারে আমরা সচেতন। আমরা যেভাবে খেলছি সেটাই আগামী তিনটি টেস্টে ধরে রাখতে চাই। আপাতত দিল্লি ম্যাচেই ফোকাস রাখছি। তার পরেরগুলি পরে পরিকল্পনা করব।

বিরাট শিক্ষা
রোহিত যে বিরাট কোহলির থেকে অধিনায়কত্বের খুঁটিনাটি শিখেছেন তাও জানালেন। তিনি বলেন, ফিল্ডিং সাজানোটা গুরুত্বপূর্ণ। বিরাটের অধিনায়কত্বের সময় দেখেছি, উইকেট যদি নাও আসে তাহলেও চাপ বজায় রাখাটা জরুরি। যাতে প্রতিপক্ষ দল ভুল করতে বাধ্য হয়। আমিও সেভাবেই প্রতিপক্ষকে চাপা রাখার চেষ্টা করে থাকি। উইকেট যে সহজে আসবে না সেটা মাথায় থাকে। তবে উইকেট পেতে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়াটা জরুরি।

মাঠের মজা
রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে বোলিং জুটি উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন অশ্বিন। তবে তাঁদের সামলাতে মাঠের মধ্যে কী হয় সেটাও খোলসা করেন রোহিত। ভারত অধিনায়ক বলেন, আমি পরিসংখ্যান মাথায় রাখি না। তবে জাদেজা বা অশ্বিন সেটা মাথায় রাখেন। জাদেজার ২৪৯টি টেস্ট উইকেট। তিনি আরও বল করতে চাইছিলেন। আবার অশ্বিনও ৫ উইকেট পূর্ণ করার জন্য বোলিংয়ে ডাকতে বলছিলেন। অক্ষর প্যাটেলও খুব ভালো বোলার। তবে অধিনায়ক হিসেবে আমি সব সময় চেষ্টা করে থাকি, কোন প্রান্ত থেকে কে বল করলে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications