Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ওভালে রোহিতের কীর্তির জমাটি সেলিব্রেশন ভারতের ড্রেসিংরুমে, উচ্ছ্বসিত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

ওভাল টেস্টে বিদেশে প্রথম টেস্ট শতরানের স্বাদ পেলেন রোহিত শর্মা। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেললেন আদর্শ টেস্ট ওপেনার হিসেবে। তাঁর ব্যাটিং টেকনিক ও শট সিলেকশনের প্রশংসা করেছেন খোদ সুনীল গাভাসকর। রোহিতের কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দায়িত্ব পাওয়াকে। সেই দায়িত্বই রোহিতের ব্যাটিংকে অনেক পরিণত করেছে বলে দাবি সানির। ওভালেই একাধিক মাইলস্টোন স্পর্শ করে ও রেকর্ড ভেঙে চলতি সিরিজেই মুরলী বিজয়কে টপকে সানির পরে চলে আসার হাতছানি ওপেনার রোহিতের।

দ্রাবিড়ের রেকর্ড ভেঙে

দ্রাবিড়ের রেকর্ড ভেঙে

ওভাল টেস্টে রোহিত শর্মা বেশ কয়েকটি মাইলস্টোন স্পর্শ করার ফাঁকে টপকে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়কেও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান, বিদেশে প্রথম টেস্ট শতরান, টেস্ট ক্রিকেটে তিন হাজার রান, রোহিতের এই মাইলস্টোনগুলি হয়েছে ওভালে সিরিজের চতুর্থ টেস্টেই। বিদেশের মাটিতে এই প্রথম টেস্ট শতরান করলেও ইংল্যান্ডে শতরান করার নিরিখে রোহিত রাহুল দ্রাবিড়কে পিছনে ফেললেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে এই নিয়ে নবম শতরান এল হিটম্যানের ব্যাট থেকে। ইংল্যান্ডে রাহুল দ্রাবিড়ের মোট শতরানের সংখ্যা ৮। ইংল্যান্ডে রোহিতের শেষ আটটি শতরান আবার এসেছে ২০১৮ সালের পর থেকেই। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ১১টি শতরানের রেকর্ডটি অবশ্য রয়েছে ডন ব্র্যাডম্যানের দখলে। তবে রোহিতই বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার যাঁর তিন ফরম্যাটেই শতরান রয়েছে ইংল্যান্ডের মাটিতে।

রো-হিট

রো-হিট

চলতি সিরিজে এই প্রথম ওভালেই সবচেয়ে বেশি সময় ক্রিজে কাটিয়ে সবচেয়ে বেশি বল খেললেন রোহিত শর্মা। উপভোগ করেছেন চেতেশ্বর পূজারার সঙ্গে ১৫৩ রানের পার্টনারশিপ। রোহিতের চেয়ে যখন স্ট্রাইক রেটে পূজারা এগিয়ে, তখনও তাড়াহুড়ো করেননি। বলেছেন, এদিন দুজনের ভূমিকার পারস্পরিক বদল হয়েছিল! লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ভালো শুরুর পর এই জুটিই ভারতকে ম্যাচে ফিরতে সাহায্য করেছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে ভারতীয়রা যে শতরান করেছেন সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি বল খেলার নিরিখে রোহিতের ১২৭ রানের ইনিংস থাকছে মুরলী বিজয় ও রাহুল দ্রাবিড়ের পরেই। ২০১৪ সালে নটিংহ্যামে ৪৬৮ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ৩৬১ বলে ১৪৬ করেছিলেন বিজয়, স্ট্রাইক রেট ছিল ৪০.৪৪। ২৫টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছিলেন। ২০১১ সালে রাহুল দ্রাবিড় ওভালেই ২৬৬ বলে ২০টি চারের সাহায্যে ৩৭৮ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন, স্ট্রাইক রেট ছিল ৫৪.৮৮। রোহিতের ১২৭ রান এসেছে ২৫৬ বলে ৩৫৩ মিনিটে। রোহিত ১৪টি চার ও একটি ছয় মেরেছেন ৪৯.৬০ স্ট্রাইক রেটে। রোহিতের পরই এই তালিকায় রয়েছে লোকেশ রাহুলের লর্ডস টেস্টের শতরান। ৫১.৬০ স্ট্রাইক রেটে ১২টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২৫০ বলে রাহুল ১২৯ করেছিলেন ৩৯৭ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে।

সানির পরে আসার হাতছানি

সানির পরে আসার হাতছানি

চলতি সিরিজের শেষ টেস্টে রোহিত শর্মা আরেকটি রেকর্ডের নিরিখে উঠে আসতে পারেন সুনীল গাভাসকরের ঠিক পরের স্থানেই। ভারতীয় ওপেনার হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে সবচেয়ে বেশি বল খেলার নিরিখে রোহিত শর্মা শেষ টেস্টে টপকে যেতে পারেন মুরলী বিজয়কে। ১৯৭৯ সালের ইংল্যান্ড সফরে সুনীল গাভাসকর ভারতের ইনিংসের গোড়াপত্তন করে চারটি টেস্টে খেলেছিলেন মোট ১১৯৯টি বল। শতরান করেছিলেন একটি, চারটি অর্ধশতরান। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডে পাঁচটি টেস্টে মোট ১০৫৪টি বল খেলেন মুরলী বিজয়, একটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান করেছিলেন, শূন্যে আউট হন ১ বার। রোহিত শর্মা এখনও অবধি সিরিজে ৮৬৬টি বল খেলেছেন। একটি শতরান ও দুটি অর্ধ-শতরান করেছেন। গোটা বিষয়টি স্বস্তি দিয়েছে রোহিতকে। তিনি গতকাল খেলার শেষে বলেছিলেন, ২৫০-র বেশি বল খেলতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি সিরিজে প্রায় প্রতিটি ইনিংসেই ১০০-র কাছাকাছি বল খেলেছি। এটা আমার একটা লক্ষ্য ছিল। এই ইনিংসেও যত বেশি সম্ভব বল খেলে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করি। জানতাম, বেশি বল খেললে পরে ব্যাট করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই এই সিরিজ থেকে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে কাটাতে পারা।

তৃপ্ত হিটম্যান

তৃপ্ত হিটম্যান

ছক্কা মেরে শতরান হাঁকিয়েও খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। শুধু ব্যাটটা তুলে ধরেছিলেন। এটা যে তাঁর স্পেশ্যাল ইনিংস তা স্বীকার করেছেন রোহিত। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ইনিংস তাই তাঁকে তৃপ্তি দিচ্ছে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের আগে থেকেই নিজের সেরাটা দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুতও রাখেন নিজেকে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে সব ধরনের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে রোহিত যেভাবে নিজেকে আদর্শ টেস্ট ওপেনারের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন তা সমীহ করার মতোই। মিডল অর্ডারে ছন্দে না থাকায় ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর তাই রোহিতকে টেস্টে ওপেন করার কথা বলেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে ওপেন করতে নেমে জোড়া শতরান করেছিলেন, এমনকী প্রথম দ্বিশতরানও করেন ওই সিরিজেই। সেই ওপেনার হিসেবেই কেরিয়ারের ৪৭তম ইনিংসে বিদেশে টেস্ট শতরান পেলেন। সুযোগ কাজে লাগাতে পেরে তৃপ্ত রোহিত বলেছেন, দেশ হোক বা বিদেশ, শতরান পেলে সব সময়ই একটা ভালো অনুভূতি হয়। বিদেশে শতরান নিয়ে মাথা ঘামাইনি। প্রসেসটা ঠিকভাবে যাতে চলে নেট সেশনেও সেদিকে ফোকাস রাখি। জানতাম সুফল আসবে। সব সময় সব কিছু সহজে আসে না। তবে কঠোর পরিশ্রমের যে বিকল্প নেই তা জানিয়ে দিয়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+