অস্ট্রেলিয়া নাস্তানাবুদ করল ভারতকে, রোহিত শর্মা পরাজয়ের জন্য আঙুল তুললেন কোন দিকে?
দেশের মাটিতে ভারতের বিজয়রথ থামিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে অজিরা প্রথম দুটি টেস্টে পরাস্ত হয়েছিল। এরপর থেকে স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেন। ইন্দোরে অজিরা জেতে, আমেদাবাদ টেস্ট ড্র। মুম্বইয়ে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিকে হেরে যাওয়ার পর দুটি ম্যাচ জিতে আজ সিরিজের দখল নিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া হয়ে গেল বিশ্বের ১ নম্বর ওডিআই দল।

ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দুষলেন রোহিত
২০১৯ সালের পর ফের দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হেরে হতাশ ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এই রান (২৭০ রানের টার্গেট) খুব বেশি ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। কিন্তু আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটাও আমরা ঠিকঠাকভাবে গড়তে পারিনি। এই ধরনের উইকেটে খেলেই সকলে বড় হয়েছেন। ফলে নিজেদের সঠিকভাবে মেলে ধরাটা জরুরি।

পরাজয়ের দায় সমষ্টিগত
যে কোনও একজন ব্যাটার শেষ অবধি থেকে গেলে জয় আসতো বলে মনে করেন রোহিত। ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের জন্য দায়ী করা ভারত অধিনায়ক এরপর বলেন, আমরা সকলেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তা পরিকল্পনামাফিক ঠিকঠাক হয়নি। যদিও গত জানুয়ারি থেকে শেষ যে ৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক আমরা খেললাম তার মধ্যে অনেক ইতিবাচক বিষয় রয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় কারও একার নয়। সমষ্টিগত।

মিশন আইপিএল
আগামী কয়েক মাসে খামতি মিটিয়ে ভারত বিশ্বকাপে ভালো খেলবে বলে আশা রোহিতের। জেতার জন্য অজিদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন হিটম্যান। আপাতত সামনে আইপিএল। বিসিসিআই জানিয়ে দিয়েছে, চাইলে ওয়ান ডে সিরিজ খেলা ক্রিকেটাররা সরাসরি চেন্নাই থেকে তাঁদের আইপিএল দলে যোগ দিতে পারেন। নয়তো তিন-চারদিন বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন ক্রিকেটাররা। ওডিআই সিরিজ খেলা ক্রিকেটাররা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্র্যাকটিসে নামবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

উপভোগ্য সফর
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বলেন, খুবই উপভোগ্য সফর আমাদের জন্য। ভারতের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা জরুরি ছিল। দিল্লি টেস্টের পর আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। চেন্নাইয়ের উইকেট কিছুটা আলাদা ছিল। সবমিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। টেল এন্ডাররা ২৭০-এর কাছাকাছি রান নিয়ে গিয়েছেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল ২২০ হয়তো হবে না। এরপর বোলিং করতে গিয়ে আমরা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিতে পেরেছি।

সেরাদের কথা
তিন ম্যাচে ১৯৪ রান করে সিরিজের সেরা হয়েছেন মিচেল মার্শ। তিনি বলেন, ওয়াকায় খেলে বড় হয়েছি। ফলে আগ্রাসী ব্যাটিং করাটা আমার সহজাত। গোটা সিরিজ দারুণ উপভোগ করেছি। ভারতে এসে পারফর্ম করতে পেরে ভালো লাগছে। লম্বা বিরতির পর মাঠে ফিরেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। ফ্রেশ হয়ে নেমে যে এনার্জি নিয়ে খেলেছি তাতে সন্তুষ্ট। ৪৫ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নিয়ে ম্য়াচের সেরার পুরস্কার পেয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। তাঁর কথায়, আমি আগেও সাফল্য পেয়েছি। ভারতে এসে খেলাটা খুব কঠিন, বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাশটন এদিন খেলা ঘুরিয়েছেন। ফলে আমি মনে করি না এই পুরস্কার আমার পাওয়া উচিত। আমার আগেও অনেকে ভালো বল করেছেন। আমরা একে অপরের উপর বিশ্বাস রেখেই গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলি।












Click it and Unblock the Notifications