'আমি ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ'! সুশীল কুমারকে দেখে বললেন ক্যাপিটালস ক্যাপ্টেন, দুর্ঘটনার পর ঠিক কী হয়?
তখনও দিনের আলো ফোটেনি। দিল্লি থেকে দেরাদুনে যাওয়ার রাস্তায় রুরকির কাছে ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ডিভাইডারে ধাক্কা খেল একটা মার্সিডিজ গাড়ি। ছিটকে ঘষটাতে ঘষটাতে তা গেল ২০০ মিটার দূরত্বে। এরপর আগুনও লেগে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে তখন কয়েকজন রয়েছেন। তাঁরা ছুটে যেতেই জ্বলতে থাকা গাড়ির পাশ থেকে শোনা গেল আওয়াজ- আমি ঋষভ পন্থ, ভারতীয় ক্রিকেটার।
|
ডিভাইডারে ধাক্কা পন্থের গাড়ির
ঋষভ পন্থের গাড়িটি আসছিল দিল্লির দিক থেকে। দেরাদুনের দিক থেকে অন্য লেন ধরে বাস নিয়ে যাচ্ছিলেন সুশীল কুমার। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সুশীল জানিয়েছেন, আমি হরিয়ানা রোডওয়েজের ড্রাইভার। হরিদ্বার থেকে ফিরছিলাম। নারসনের কাছে ২০০ মিটার দূরে দেখলাম দিল্লির দিক থেকে আগত একটি গাড়ি ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে গেল। ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়িটি ছুটছিল। ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে গাড়িটি হরিদ্বারের লাইনে এসে পড়ল।

অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা
সুশীল কুমার বলেছেন, আরেকটু হলে তাতে বাসের ধাক্কা লাগতে পারতো। তাহলে কাউকে বাঁচাতে পারতাম না। তখন দুর্ঘটনার কবলে গাড়িটি মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে। আমি তখন সার্ভিস লাইন থেকে গাড়িটি ফার্স্ট লাইনে নিয়ে যাই। সেকেন্ড লাইন থেকে দুটি গাড়ি বেরিয়ে যায়। আমার গাড়িটি ৫০-৬০ কিলোমিটার গতিতে ছিল। দ্রুত ব্রেক কষে দরজা খুলে নেমে পড়ি। দেখি, গাড়িটিতে আগুন লেগেছে। তার পাশেই মাটিতে পড়ে এক ব্যক্তি। ভাবলাম বাঁচানো যাবে না। আমি তাঁকে পাশে সরিয়ে নিয়ে যাই। তাঁকে জিজ্ঞাসা করি গাড়িতে আর কেউ আছে কিনা।
|
'আমি ঋষভ পন্থ, ভারতীয় ক্রিকেটার'
এই প্রশ্নের উত্তর দেন ঋষভ পন্থ। বলেন, গাড়িতে একাই ছিলাম। আর কেউ নেই। আমি ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ। সুশীলের কথায়, আমি ক্রিকেটের বিষয়ে কিছু তেমন জানি না। পন্থের জামা-কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল। তাঁর গায়ে চাদর জড়িয়ে দিই। তখন উনি আমাকে বলেন, আমি ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ। যা টাকা-পয়সা ছিল সব এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়েছে। এটা শুনেই আমি গিয়ে সাত-আট হাজার টাকা কুড়িয়ে তাঁতকে দিই। আমার বাসের কন্ডাক্টর অ্যাম্বুল্যান্সে ফোন করেন। আমি ফোন করি পুলিশ আর ন্যাশনাল হাইওয়েতে। ১৫-২০ মিনিটে অ্যাম্বুল্যান্স এসে যায়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পন্থের শরীর দিয়ে রক্ত পড়ছিল, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। তখন ভিডিও না তুলে পন্থের জীবনরক্ষাই সবচেয়ে জরুরি ছিল।
|
আরোগ্য কামনা
বিসিসিআই পন্থকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সরকার পন্থের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে। প্রয়োজন হলে তৈরি রাখা হয়েছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। দেরাদুনের ম্যাক্স হাসপাতাল সূত্রে যথাসময়ে নিয়মিত মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করা হবে। পন্থকে চিকিৎসা করছেন অর্থো়পেডিক ও প্লাস্টিক সার্জেন। কপালে, মাথায়, পায়ে চোট রয়েছে। দেহের কিছুটা অংশ পুড়েও গিয়েছে। ঋষভ পন্থের স্ক্যান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। শ্রেয়স আইয়ার, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, শিখর ধাওয়ান-সহ ভারতীয় দলের সতীর্থরা এবং প্রাক্তন ক্রিকেটাররা পন্থের আরোগ্য কামনা করেছেন। শোয়েব মালিক, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও পন্থের দ্রুত আরোগ্যলাভের প্রার্থনা করে টুইট করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications