ঋষভ পন্থ হাতছাড়া করলেন শতরান! দক্ষিণ আফ্রিকায় রাহুলের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি, ভারতের চিন্তা মিডল অর্ডার নিয়ে
পার্লে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে দাপুটে ব্যাটিং করে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরালেও বেশি আগ্রাসী হতে গিয়ে নিশ্চিত শতরান মাঠেই ফেলে এলেন ঋষভ পন্থ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এদিন একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম অর্ধশতরান পেলেন ভারত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। রাহুল-পন্থ জুটিতে উঠল ১১৫ রান। ১০টি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে ৭১ বলে সর্বাধিক ৮৫ রান করলেন পন্থ।

শতরান অধরা
আজ একদিনের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০তম ম্যাচটি খেলছেন ঋষভ পন্থ। চতুর্থ অর্ধশতরান পেলেও শতরান রইল অধরাই। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত বছর করেছিলেন ৭৮ ও ৭৭। ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৭১। বিদেশে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম অর্ধশতরানের পাশাপাশি কেরিয়ারের সর্বাধিক রান পেলেও শতরান থেকে থামলেন ১৫ রান দূরে।

রাহুলের জীবন-প্রাপ্তি
ম্যাচের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে প্রথমবার জীবন পান অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। লুঙ্গি এনগিডির বলে রাহুলের ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি গালিতে দাঁড়ানো জ্যানম্যান মালান। তিনি ক্যাচ মিসের ফলে এক রান নেওয়ায় রাহুলের রান তখন দাঁড়ায় ১৩ বলে ৯। এরপর ১৫তম ওভারের শেষ বলে ঋষভ পন্থের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হতে হতে বাঁচেন রাহুল।
|
বড় রেহাই
কেশব মহারাজের বল মিড উইকেটের দিকে ঠেলে এক রান নেওয়ার জন্য কিছুটা এগিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেন ঋষভ পন্থ। তেম্বা বাভুমা বল ধরে বোলারের দিকে ছুড়লে তিনি সেটি ধরতে পারেননি। মহারাজ যদি বলটা ধরতে পারতেন তাহলে তখনই আউট হয়ে যেতেন রাহুল। কারণ, তিনি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অপর প্রান্তে পন্থের পাশে দাঁড়িয়ে। মহারাজ বল ধরতে না পারায় তা ফিল্ডার ধরে পাঠানোর আগে রাহুল নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে ফিরে আসেন। তখন রাহুলের স্কোর ৪২ বলে ২৭।
|
অধিনায়ক হিসেবে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম অর্ধশতরানটি রাহুল এদিন পূর্ণ করেন ৭১ বলে। যদিও হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে পারেননি। সিসান্ডা মাগালার বলে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফেরেন ৭৯ বলে ৫৫ রানে। মেরেছেন চারটি চার। রাহুল আউট হলেন ৩১.১ ওভারে দলের ১৭৯ রানের মাথায়।

ছন্দে ছিলেন পন্থ
৩২.৩ ওভারে তাবরেজ শামসির বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে এইডেন মার্করামের হাতে ধরা পড়েন ঋষভ পন্থ। ১৮৩ রানের মাথায় পড়ে ভারতের চতুর্থ উইকেট। একদিনের আন্তর্জাতিকে সর্বাধিক রান এদিন করলেও ১৫ রানের জন্য শতরান মাঠে ফেলে এলেন। ৬টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৪৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেছিলেন পন্থ। অল্প রানের ব্যবধানে শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির উইকেট পড়ার পর রাহুলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন পন্থ। তিনিই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করায় দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল।
|
চিন্তা মিডল অর্ডার নিয়ে
যদিও চার রানের ব্যবধানে রাহুল ও পন্থ আউট হওয়ায় প্রোটিয়ারা স্বস্তি পায়। দক্ষিণ আফ্রিকা রিভিউ নিয়ে শ্রেয়স আইয়ারকে প্যাভিলিয়নে ফেরাতে সক্ষম হয়। আম্পায়ার লেগ বিফোর না দিলেও তাবরেজ শামসি নিশ্চিত ছিলেন। আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্টস্টক সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। ১৪ বলে ১১ রান করে শ্রেয়স আইয়ার আউট হলে ৩৬.৫ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২০৭। এর কিছুক্ষণ পর লুঙ্গি এনগিডির বলে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ক্যাচ মিস করেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। ৪০ ওভারে ভারতের স্কোর ৫ উইকেটে ২১৭। ১৯.১ ওভারে ১০০, ২৬.৫ ওভারে ১৫০ করার পর ৩৬তম ওভারে ভারত ২০০ রান পূর্ণ করে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে কত রানের চ্যালেঞ্জ ভারত দিতে পারে সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications