রবীন্দ্র জাদেজাকে শাস্তি দিল আইসিসি! নাগপুর টেস্টের সেরা ক্রিকেটারের অপরাধটা কী?
রবীন্দ্র জাদেজা বল হাতে ৮টি উইকেট এবং ব্যাট হাতে ৭০ রান করে নাগপুর টেস্টের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও তাঁর ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি। জানুন বিস্তারিত।
রবীন্দ্র জাদেজা পাঁচ মাস পর ভারতীয় দলে ফিরেই দখলে নিলেন নাগপুর টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটি। যদিও একইসঙ্গে তাঁকে পড়তে হলো আইসিসির শাস্তির মুখেও। ক্রিকেটীয় স্পিরিট-বিরোধী কাজ করার জন্য তাঁর ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়েছে। জাদেজার অস্বস্তি বাড়িয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

জাদেজাকে ঘিরে বিতর্ক
নাগপুর টেস্টের প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৪৬তম ওভার ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। রবীন্দ্র জাদেজা বাঁ হাতে ব্যাটিং ও বোলিং করেন। ওই ওভারটি করার ফাঁকে মহম্মদ সিরাজের হাত থেকে কিছু নিয়ে বাঁ হাতের আঙুলে ঘষতে দেখা গিয়েছিল জাদেজাকে। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে ওঠে বিতর্ক। তবে জাদেজা যে বলে কিছু লাগাননি সেটাও বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন-সহ অনেকেই কার্যত রে-রে করে ওঠেন!
|
বল বিকৃতির দাবি ওড়াল আইসিসি
জাদেজা বল বিকৃতি ঘটাচ্ছেন কিনা তা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। যদিও বল ট্যাম্পারিংয়ের যে কোনও ঘটনাই ঘটেনি তা আইসিসির বিবৃতিতে স্পষ্ট। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে ম্যাচ রেফারিকে জানানো হয়, যে হাত দিয়ে তিনি বোলিং করেন তাতে চোট ছিল। সে কারণে ব্যথা কমানোর মলম লাগিয়েছিলেন জাড্ডু। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই জাদেজার ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ জরিমানা ধার্য করেছে আইসিসি। আইসিসির আচরণবিধির ২.২০ অনুচ্ছেদের শর্ত লঙ্ঘনের কারণে তাঁকে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ওই অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে ক্রিকেটীয় স্পিরিট বজায় রাখতে কী কী করা উচিত একজন ক্রিকেটারের। আইসিসি মনে করছে, জাড্ডু সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।

নিয়ম মেনেই জরিমানা
জানা গিয়েছে, জাদেজা ওই মলম লাগালেও সে ব্যাপারে মাঠের দুই আম্পায়ারের একজনকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। ব্যথা কমানোর জন্যই তিনি যে ওই মলম ব্যবহার করেছেন, এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না, সে ব্যাপারে জাদেজার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েছেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট। বল বিকৃতির কোনও চেষ্টা জাদেজা না করলেও তিনি যে ক্রিকেটীয় স্পিরিটের শর্ত হুবহু মানেননি, সেটাও স্পষ্ট করেছে আইসিসি। জরিমানাও ধার্য হয়েছে।

ম্যাচের সেরা
রবীন্দ্র জাদেজা নাগপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ২ উইকেট। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়ে জাদেজা বলেন, দারুণ অনুভূতি। পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। ১০০ শতাংশ দিয়েছি। উইকেট পেয়েছি, রান করেছি। রিহ্যাব চলাকালীন এনসিএতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেখানকার ফিজিও, স্টাফ, ট্রেনার সকলেই সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন। সঠিক জায়গায় বল ফেলাই লক্ষ্য ছিল। বল ঘুরছিল, সোজাও যাচ্ছিল, নীচু হয়ে যাচ্ছিল। জানতাম অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা স্যুইপ, রিভার্স স্যুইপ খেলবেন। সেটা মাথায় রেখে স্বাভাবিক বলই করে গিয়েছি। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ৫, ৬, ৭ নম্বরে চাপ থাকে। সেইমতো নিজেকে প্রস্তুত রাখাই লক্ষ্য জাদেজার।












Click it and Unblock the Notifications