রবি বিষ্ণোইয়ের ভারতীয় দলে স্বপ্নের অভিষেকে গর্বিত পিতা, কোন সিদ্ধান্তকে এখন সঠিক মনে হচ্ছে?
ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে রবি বিষ্ণোইয়ের। আইপিএলে তাঁকে নিয়েছে লোকেশ রাহুলের নেতৃত্বাধীন লখনউ সুপার জায়ান্টস। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে নজর কেড়েছিলেন এই রিস্টস্পিনার। ইডেনে প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে ক্যাচ ধরে বাউন্ডারি লাইনের দড়ি স্পর্শ করায় রবির ফিল্ডিং উদ্বেগ বাড়িয়েছিল রোহিতদের। তবে বল হাতে ম্যাজিক দেখিয়ে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন। গর্বিত রবির পিতাও।
|
রবির স্বপ্নের অভিষেক
ইডেনে অভিষেক ম্যাচে ৪ ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে রবি বিষ্ণোই ২ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে দেন। এই পারফরম্যান্স তাঁকে এনে দেয় ম্যাচের সেরার স্বীকৃতি। একাদশ ওভারে তিনি ফিরিয়ে দেন রস্টন চেজ ও রভম্যান পাওয়েলকে। ইন্ডিয়া ক্যাপ রবিকে দিয়েছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। এটি তাঁর কেরিয়ারের যে বিশেষ মুহূর্ত ছিল তা অকপটে স্বীকার করেছেন রবি। তিনি বলেছেন, দলে সুযোগ পেয়ে সেরাটা দেওয়াই লক্ষ্য ছিল। সঠিক লাইন, লেংথে বল করার পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম। ব্যাটাররা যাতে বেশি জায়গা না পান সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি ছিল।

রোহিতের প্রশংসা
ম্যাচের শেষে ভারত অধিনায়ক বিষ্ণোই সম্পর্কে বলেন, দলের যেমন প্রয়োজন ছিল সেটা চিন্তা করেই রবির মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে রাখা হয়। তাঁর বোলিংয়ে আলাদা কিছু একটা রয়েছে। অনেক বেশি বৈচিত্র্য ও স্কিল-সেট রয়েছে। যে কোনও জায়গায় বিষ্ণোই বল করতে পারেন। এতে অন্য বোলারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করার কাজটা সহজ হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে বিষ্ণোইয়ের পারফরম্যান্সে খুশি রোহিত মনে করেন আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

গর্বের মুহূর্ত
যে মুহূর্তে চাহাল বিষ্ণোইয়ের হাতে ইন্ডিয়া ক্যাপ তুলে দেন ঠিক সেই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিল যোধপুর। মঙ্গিলাল বিষ্ণোইয়ের বাড়িতে তখন প্রবল উচ্ছ্বাস। একে একে বাড়িতে ভিড় জমতে থাকে প্রতিবেশীদের। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে রবির পিতা মঙ্গিলাল বিষ্ণোই বলেন, বাড়িতে আগত অতিথির সংখ্যা এতই বেশি ছিল যে পুরো ঘর ভরে গিয়েছিল। আমরা সকলে মিলে রবির বোলিং দেখেছি। এটা এক অসাধারণ রাত ছিল। ছেলেকে ভারতের জার্সিতে দেখা খুবই গৌরবজনক মুহূর্ত।

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত
মঙ্গিলাল বিষ্ণোই বলেন, আমি বরাবরই চাইতাম ছেলে পড়াশোনায় মন দিক, এতে চাকরি পেতে সুবিধা হবে। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইনি। গ্রামে বসবাস করলেও রবিকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেই ভর্তি করাই। কিন্তু রবির পড়াশোনায় আগ্রহ ছিল না, ক্রিকেটের প্রতিই তাঁর যাবতীয় আকর্ষণ লক্ষ্য করি। স্কুলে ভালো ফল না করায় শিক্ষকরা বারেবারেই ফোন করে নানা অভিযোগ করতেন। আমি তবু চেয়েছিলাম রবি পড়াশোনা চালিয়ে যাক। কিন্তু একটা সময় তাঁর কোচ প্রদ্যোৎ সিং রাঠোর ও শাহরুখ পাঠান আমাকে আশ্বস্ত করে অনুরোধ করেন রবির ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে। তাঁর প্যাশনের কথা ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আজ তা আরও গর্বিত করল। ২০১৫ সালে যোধপুরের স্পার্টান্স আকাদেমিতে ভর্তি হওয়া রবি ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেটশিকারী হয়েছিলেন। ৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছে লখনউ। আজ ইডেনে ফের রবি-ম্যাজিকের অপেক্ষায় সকলে।












Click it and Unblock the Notifications