Wriddhiman Saha: রঞ্জি ফাইনাল পাখির চোখ ঋদ্ধিমানের, সৌরভ ও রোমির কথাতেই অবসর-পরিকল্পনা বদল
Wriddhiman Saha: চলতি রঞ্জি মরশুম শেষেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। খেলবেন না আইপিএলেও। রবিবার রাতে ফেসবুকে এমন বার্তা দেওয়ার পর মুখ খুললেন ঋদ্ধিমান সাহা।
বেঙ্গালুরুতে আজ থেকে শুরু হয়েছে বাংলা বনাম কর্ণাটক ম্যাচ। প্রথম দিনের শেষে অপরাজিত রয়েছেন ঋদ্ধিমান। তিনি জানিয়ে দিলেন, রঞ্জি ফাইনাল খেলাই লক্ষ্য। তবে তা না হলে ইডেনেই শেষ ম্য়াচ খেলতে চান।

ঋদ্ধিমান জানিয়েছেন, গত মরশুম চলাকালীনই চোট-আঘাতের সমস্যা ও শারীরিক ফিটনেস দেখে তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন এটাই শেষ। চলতি মরশুমে খেলার পরিকল্পনা ছিল না। জুনে ইডেনে গিয়েছিলেন। তারপর কথা হয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
সৌরভই ঋদ্ধিকে বলেছিলেন, এত তাড়াতাড়ি অবসর নেওয়ার দরকার নেই। বাংলার হয়ে একটা মরশুম খেলে প্রয়োজনে অবসর নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন মহারাজ। একই মত ছিল স্ত্রী রোমির। ফলে অবসর-পরিকল্পনায় বদল আনেন ঋদ্ধি।
সিএবির একাংশের প্রতি অভিমানে ত্রিপুরায় চলে গিয়েছিলেন। দুই মরশুম সেখানে খেলেই ফের ঘরে ফেরা। তবে বাংলা দলের ম্যানেজমেন্ট ও সিএবি কর্তাদের ঋদ্ধি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সব ফরম্যাটে খেলার মতো শারীরিক পরিস্থিতি তাঁর নেই। শুধু রঞ্জি ট্রফিতেই খেলবেন।
ঋদ্ধি গুজরাত টাইটান্সকেও জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগামী বছরের আইপিএলে খেলার পরিকল্পনা তাঁর নেই। ২০২১ সালেই ভারতের হেড কোচ ঋদ্ধিকে বলে দিয়েছিলেন, জাতীয় দলের জন্য তাঁকে আর ভাবা হবে না। তারপরও প্রায় চার বছর খেলতে পেরে তৃপ্ত তিনি।
ঋদ্ধির দাবি, অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই কঠিন ছিল না। সহজভাবেই নিয়েছেন। ক্রিকেটকে ভালোবেসেই খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে গত মরশুম থেকেই সেই ভালোবাসাটায় খামতি লক্ষ্য করছিলেন। সে কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারত তো বটেই, উইকেটকিপিংয়ের মানের নিরিখে বিশ্বের অন্যতম সেরা কিপারের।
কেরিয়ারের প্রথম দিকে তেমনভাবে সুযোগ পাননি মহেন্দ্র সিং ধোনি থাকায়। কেরিয়ারের শেষের দিকে ঋষভ পন্থের উত্থান পথ কঠিন করে দেয়। তবে তা নিয়ে কোনও খেদ নেই ঋদ্ধির। তিনি বলেন, অমল মুজুমদার, পদ্মকর শিভালকরের মতো অনেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য পেয়েও দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। আমি ভাগ্যবান ৪০টি টেস্ট খেলেছি।
অবসরের পর মেন্টর বা কোচ হওয়ার পরিকল্পনা আছে। বাংলা দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন প্রস্তাব এলে। অন্য কোনও রাজ্যের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলেও ঋদ্ধি প্রস্তুত। মজা করে ঋদ্ধি বলেন, কোনও প্রস্তাব না এলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব।
ঋদ্ধির উপলব্ধি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং আরও কিছুটা ভালো করতে পারতেন। তাঁর কথায়, আমি উইকেটকিপার হিসেবে শুরু করি। জানতাম কখনও সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়, বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ বা বিরাট কোহলির মতো হতে পারব না। সে কারণে উইকেটকিপিংয়েই জোর দিই, যাতে লোকে আমাকে চিনতে পারে এই লক্ষ্যে।
কিরণ মোরে, সাবা করিম, দীপ দাশগুপ্ত, এমনকী মহেন্দ্র সিং ধোনির থেকে পরামর্শ নিয়েছেন। নিজেকে আরও উন্নত করতে কথা বলেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ইয়ান হিলির সঙ্গেও। ঋদ্ধি মহিলা ক্রিকেট দলের উইকেটকিপারদের সঙ্গেও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। যেমন করেছেন ধ্রুব জুরেল বা ঋষভ পন্থের সঙ্গেও। পন্থ যেমন তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন, তেমনই নিজের অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রয়োজনীয় ইনপুট দিয়েছেন ঋদ্ধিমান।












Click it and Unblock the Notifications