Ranji Trophy: বোলারদের দাপটে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় বাংলার

বোলারদের দাপটে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় বাংলার

রঞ্জি ট্রফিতে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল বাংলা। বোলারদের দাপটে টানটান উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচে হায়দরাবাদকে ৭২ রানে হারিয়ে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিল বাংলা। মুকেশ কুমার- আকাশ দ্বীপ এবং শহবাদ আহমেদের সুদক্ষ বোলিং-এর উপর বল করে সাফল্য পেল বাংলা। ব্যাট এবং বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করা শাহবাজ আহমেদ ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছে।

Ranji Trophy: বোলারদের দাপটে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় বাংলার

প্রকৃত অর্থেই এই ম্যাচেরর নায়ক শাহবাজ। এই বাম হাতি ক্রিকেটার প্রথম ইনিংসে এক উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে হায়দরাবাদের তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে শাহবাজের ব্যাট থেকে আসে ৪০ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫১ রানের ইনিংস। শহবাজের পাশাপাশি বোলারদের মধ্যে আগুন ঝড়ানো মুকেশ কুমার দুই ইনিংস মিলেয়ে সংগ্রহ করেছেন ছয় উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে আকাশ দ্বীপের সংগ্রহ পাঁচ উইকেট। যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি পেয়েছেন চারটি উইকেট। বোলারদের কারণেই শক্তিশালী হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পুরো পয়েন্ট তুলে নিতে সমস্যা হয়নি বাংলার।

টসে জিতে বাংলাকে প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠান হায়দরাবাদের অধিনায়ক তন্ময় আগারওয়াল। প্রথমে ব্যাটিং করে ২৪২ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। হায়দরাবাদের বোলারদের দাপটে একমাত্র অভিষেক পোড়েল ছাড়া বাংলার কোনও ব্যাটসম্যান রান পাননি। অভিষেকের ৭৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যেই লড়াই চালানোর মতো রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পেরেছিল বাংলা।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আড়াল হয়ে যায় বোলারদের দাপটে। মুকেশ কুমারের চার উইকেট বাংলা ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আকাশ দ্বীপ, ঈশান পোড়েল, শাহবাজ একটি করে উইকেট পান। হায়দরাবাদের ইনিংস ২০৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রানের লিড পেয়ে যায় বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতা জারি থাকে বাংলার। ঋত্বিক রায় চৌধুরি (৪১), অনুষ্টুপ মজুমদার (৪২) এবং শাহবাজ আহমেদ (৫১) ছাড়া বাংলার কোনও ব্যাটসম্যান বড় রান পাননি। অধিনায়ক অভিমূন্য ঈশ্বরন ২৪ রান করেন এই ইনিংসে। যদিও প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন তিনি। ২০১ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। ২৩৮ রান ঝুলিতে রেখে ম্যাচ বাঁচাতে নেমেছিল বাংলা।

এত কম রান বোর্ডে নিয়ে হায়দরাবাদের মতো দলের বিরুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখাটা অনেকটা বিলাসিতার মতো। কিন্তু যেই দলে শাহবাজ, আকাশ দ্বীপ, মুকেশের মতো বোলার থাকে সেই দল অল্প রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জিতের স্বপ্ন দেখতে পারে। ত্রয়ীর দাপটে ১৬৬ রানে শেষ হয়ে যায় হায়দরাবাদের দ্বিতীয় ইনিংস।

হনুমা বিহারি ছাড়া হায়দরাবাদের লাইন আপে খ্যাত ব্যাটসম্যান খুব একটা ছিল না। কিন্তু প্রথম ইনিংসে রবি তেজা ও তনয় ত্যাগরাজন অষ্টম উইকেটে ১০৯ রান যোগ করে বঙ্গশিবিরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তৃতীয়দিনের শেষে বিপক্ষের ১৬ রানে ৩ উইকেট ফেলে দেওয়ার পর দলের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। শেষদিনের সকালে সেই আগ্রাসন নিয়ে শুরুটা করলেন আকাশ দীপ। দিনের প্রথম বলেই দলকে সাফল্য এনে দেন এই ডানহাতি পেসার। হায়দরাবাদ তখন ১৬ রানে ৪। প্রবল চাপে থাকলেও হায়দরাবাদ পালটা লড়াই শুরু করে। পঞ্চম উইকেটে ৪২ রান যোগ করেন তিলক ভার্মা ও প্রতীক রেড্ডি। বিপক্ষের এই জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই প্রতীকের স্টাম্প উপড়ে দেন শাহবাজ। সপ্তম উইকেটে রবি তেজাকে সঙ্গে নিয়ে তিলক ৪৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। তিলক বর্মা অল্পের জন্য শতরান মিস করেন এই ম্যাচে। ৯০ রানে আকাশ দ্বীপ তাঁর উইকেট নেওয়ার সঙ্গেই ধসে পড়ে হায়দরাবাদের প্রতিরোধের বাঁধ।

প্রথমে বরোদা এবং পরবর্তী ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বাংলার জয়ে যেমন ফুটছেন রাজ্যের ক্রিকেট প্রেমীরা, তেমনই দলের পারফরম্যান্সে অভিভূত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। গোটা দলকে এই জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, "জয় পেলে সব সময়ই ভাল লাগে, কিন্তু এই রকম ভাবে দাপট দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়া সব সময়েই বিশেষ আনন্দ দেয়। ছেলেরা যে ভাবে চোয়াল শক্ত রেখে দৃঢ়তা বজায় রেখে লড়াই করেছে বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা তা এক কথায় অনবদ্য।আমি পুরো কোচিং ইউনিটকে অভিনন্দন জানাই ছেলেদের মধ্যে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তোলার জন্য এবং জয়ের মানসিকতা তৈরি করার জন্য।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+