ধোনি, গাভাসকর ইস্যুতে বোর্ডকে একহাত রামচন্দ্রর, দিলেন বিস্ফোরক বয়ান
ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিসিসিআইয়ের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পদ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিসিসিআইয়ের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পদ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। এই ঘটনার পরেরদিনই বিরাট কোহলি ও অনিল কুম্বলে বিতর্ক সহ একাধিক প্রসঙ্গে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর-কে কড়া ভাষায় বিদ্ধ করলেন তিনি।
গুহর অভিযোগ, কোহলি-কুম্বলে বিতর্কে মৌন ব্রত অবলম্বন করে থেকেছে সিওএ। সিওএ চেয়ারম্যান বিনোদ রাইকে লেখা নিজের চিঠিতে অনেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর জায়গায় প্রাক্তন ভারতীয় জোরে বোলার জাভাগল শ্রীনাথকে নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন রামচন্দ্র গুহ।
তিনি চিঠিতে লিখেছেন, সিওএ-র হয়ে কাজ করা আমি উপভোগ করেছি। তবে কিছুক্ষেত্রে মতে পার্থক্য হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরে দাঁড়ানোর। আমার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টকে লিখিত জানিয়েছি। স্বচ্ছ্বতার স্বার্থে আমি কোন জায়গায় ক্ষুণ্ণ হয়েছি তা জানাচ্ছি।

প্রথমত
কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের সংঘাত প্রশ্নে এই কমিটি নীরব থেকেছে। এবং আমি প্রথম থেকেই এই প্রশ্নে সরব ছিলাম। বিসিসিআই কিছু জাতীয় কোচকে দশ মাসের জাতীয় কন্ট্রাক্ট দিচ্ছে যাতে তারা বাকী দুমাস আইপিএলের কোচিং করাতে পারে। এতে একেবারেই স্বার্থের সংঘাতের ইস্যু জড়িয়ে রয়েছে। এবং লোধা কমিটির সুপারিশের সঙ্গে খাপ খায় না। ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দায়িত্ব সবসময় বড় হওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত
বিসিসিআইয়ের ভাড়া করা ধারাভাষ্যকাররা একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে। সুনীল গাভাসকরের কোম্পানি খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করছে, আবার তিনি ধারাভাষ্যকারের প্যানেলেও রয়েছেন। এটা চূড়ান্তভাবে স্বার্থের সংঘাত। একইভাবে ধোনি অধিনায়ক থাকার সময়ে এমন কোম্পানির মালিকানা পেয়েছিল যারা ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত।

তৃতীয়ত
ভারতীয় ক্রিকেটে সুপারস্টার প্রবণতা দলের চুক্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ধোনি যেখানে টেস্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সেখানে তাঁকে A চুক্তি তালিকায় রাখার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। এতে সকলের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।

চতুর্থত
যেভাবে বর্তমান কোচ অনিল কুম্বলে ইস্যুকে হ্যান্ডল করা হল তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সাম্প্রতিক অতীতে ভারতীয় দল দারুণ সাফল্য পেয়েছে। এবং তার কৃতিত্ব কোচিং স্টাফদেরও পাওয়ার কথা। সাফল্যের কথা বিচার করলে কুম্বলের ফের একবার সুযোগ পাওয়ার কথা। তবে অত্যন্ত অপেশাদারভাবে গোটা বিষয়টি সামলানো হল।

পঞ্চমত
যবে থেকে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর তৈরি হয়েছে, তবে থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের নানা সমস্যা সমাধানে আমাদের প্রত্যেকের কাছে হাজারো মেল এসেছে। আইপিএল ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হলেও যে খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে তাদের আর্থিকভাবে আরও নিরাপদ করতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও মজবুত করতে হবে। একে কম টাকা, তার উপরে সময়ে টাকা না পাওয়া একটা বড় সমস্যা। তা নিয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

ষষ্ঠত
আমার মতে সুপ্রিম কোর্ট যখন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ও বিসিসিআইয়ে কারা পদ সামলাতে পারবেন তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে তখন সিওএ-র উচিত হয়নি তাতে নাক গলানো। সরিয়ে দেওয়া লোকজন খুল্লামখুল্লা বিসিসিআইয়ের সভায় যোগ দিচ্ছেন। নিজের নিজের রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই সমস্ত ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তা নিয়ে সিওএ পদক্ষেপ করেনি।

সপ্তমত
আমার মনে হয়েছে এই সমস্ত বিষয় খেয়াল না করার অন্যতম কারণ এই কমিটিতে কোনও সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকা। ফলে সেজন্যই আমি জাভাগল শ্রীনাথের নাম সুপারিশ করেছিলাম। তবে সেই কথা মানা হয়নি। আমার মতে শ্রীনাথ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তি রয়েছে। খেলার বিষয়গুলি বোঝে, টেকনিক্যাল জ্ঞান রয়েছে। কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার হয়ে কাজ করেছে, আইসিসি রেফারি ও বয়স অনেক কম। তাই ওকেই আমার সবচেয়ে যোগ্য মনে হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications