বৃষ্টির জেরে ভেস্তে গেল প্রথম সেশনের খেলা, দেড় দিনে অস্ট্রেলিয়ার ১৪ উইকেট ফেলতে হবে ভারতকে
বৃষ্টির জেরে ভেস্তে গেল সিডনি টেস্টের প্রথম সেশনের খেলা। মাঠের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত ম্যাচে একটা বলও গড়ায়নি।
বৃষ্টির জেরে ভেস্তে গেল সিডনি টেস্টের প্রথম সেশনের খেলা। মাঠের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত ম্যাচে একটা বলও গড়ায়নি। ভারতের রানের থেকে তিন শতাধিক রানে পিছিয়ে থাকলেও এদিন খেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৪ উইকেট। সিডনি টেস্ট শেষ হতে আর দেড় দিন বাকি। সুতরাং, অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে যত দ্রুত সম্ভব আউট করতে না পারলে এই টেস্টে জয়ের আশা কমবে। দেড়দিনে ভারতকে অস্ট্রেলিয়ার ১৪ উইকেট ফেলতে হবে। আর সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেলে বিরাটদের দ্রুত স্কোরবোর্ডে রান তুলতে হবে। বলতে গেলে সিডনি টেস্ট এখন এক টান-টান উত্তেজনার উপরে দাঁড়িয়ে। এই উত্তেজনার পারদ বাড়বে কি বাড়বে তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির উপরে। তিনি যদি জয়ের ব্যাপারে আগ্রাসী হন তাহলে রবিবার ও সোমবার এক উত্তেজক ক্রিকেট সিডনি-তে দেখতে পাওয়া যাবে বলেই আশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

বৃষ্টির জন্য টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষের খেলা ভেস্তে গিয়েছিল। সেখানেও ১ ঘণ্টার মতো খেলার সময় নষ্ট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া সে সময় ২৩৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। ভারতীয় দলের থিঙ্ক ট্য়াঙ্কের মতে ওই ১ ঘণ্টা সময় পেলে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট না করতে পারলেও অন্তত আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়া যেত। তার উপরে চতুর্থ দিনের সকালেও দেড় ঘণ্টার মতো খেলার সময় নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির জন্য মেলবোর্ন টেস্টেও সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল। কিন্তু, তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। সিডনি টেস্টে ভারতীয় দল ব্যাটিং ও বোলিং-এ অস্ট্রেলিয়াকে এখন পর্যন্ত টেক্কা দিয়েছে। এই টেস্টেও ভারতের দিকেই জয়ের পাল্লা ভারী। আর সিডনি টেস্ট বিরাটরা জিতে নিলে এক নয়া নজিরও স্থাপন হবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় তো হবেই সেই সঙ্গে ২-১ ফলে সিরিজ জয়ের রেকর্ড অনেক দিন পর্যন্তই টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা।
চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষ হওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা বাদে খেলা শুরু হয়। ৮৩.৩ ওভারে খেলা শুরু হলেও ৮৪.১ ওভারে নতুন বল নেওয়ার অনুমতি দেন আম্পায়রা। আর এতেই আসে সাফল্য। নতুন বল আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় সামির রিভার্স স্যুইং-এ অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন কামিন্স। এই কামিন্স-ই বল হাতে যতনা ভয়ঙ্কর ছিলেন ব্যাট হাতে তার থেকে বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে মেলবোর্ন টেস্টে ভারতের জয় প্রায় আটকে দিয়েছিলেন। সিডনি টেস্টেও আশঙ্কা ছিল কামিন্সে-এর ব্যাটে না জয়ের সম্ভাবনা দূরে চলে যায়। কিন্তু, সামির দুরন্ত রিভার্স স্যুইং-এর কোনও জবাবই এদিন কামিন্সের কাছে ছিল না। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, একে খারাপ আবহাওয়া নিয়ে একটা উৎকন্ঠা, তারসঙ্গে ভারতের পাহাড় প্রমাণ রানের চাপ কিছুটা হলেও কামিন্সের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। আর সেই ফায়দা তুলতে সমর্থ হয়ে যায় ভারত। সামির বলে একদম বোল্ড হয়ে যান কামিন্স। এর পরের অস্ট্রেলিয়ার টেল এন্ডাররা আর কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। হ্যান্ডসকম্ব ফিরে যেতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ। কুলদীপ যাদব ৫ উইকেট, সামি ও জাদেজা ২ টি করে এবং বুমরাহ ১ উইকেট ঝুলিতে পোরেন। ৩০০ রানে থমকে গিয়ে ফলো-অন করতে বাধ্য হয় অস্ট্রেলিয়া।












Click it and Unblock the Notifications