পূজারার ভূয়সী প্রশংসায় দ্রাবিড়, দিল্লি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কামব্যাক ঠেকাতে সতর্ক ভারত
শুক্রবার থেকে দিল্লি টেস্টে মুখোমুখি ভারত-অস্ট্রলিয়া। অজিদের কামব্যাকের বিষয়ে সতর্ক থাকছে ভারত। পরিসংখ্যানকে পাত্তা দিচ্ছেন না ভারতের কোচ রাহুল দ্রাবিড়। প্রশংসা করলেন চেতেশ্বর পূজারার।
বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টে ভারত খেলতে নামবে বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দল হিসেবে। এই মুহূর্তে তিন ফরম্যাটেই ভারত বিশ্বের ১ নম্বর। নাগপুর টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রানে জিতলেও ভারতীয় দলে যে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই, সেটা আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ভারতের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়। অস্ট্রেলিয়া যে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে, সে ব্যাপারেও সতর্ক টিম ইন্ডিয়া।

১৯৮৭ থেকে অপরাজেয়
অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম (পূর্বতন ফিরোজ শাহ কোটলা)-এ ভারত ১৯৮৭ সালের পর থেকে কোনও টেস্টে পরাস্ত হয়নি। দিল্লিতে ভারত ৩৪টি টেস্ট খেলেছে, জিতেছে ১৩টিতে। মাত্র ৬টিতে হেরেছে। ১৯৫৯ সালে রিচি বেনোর সময় থেকে অস্ট্রেলিয়া আজ অবধি দিল্লিতে ৭টি টেস্ট খেলে একটিতেও জয় পায়নি। ২০১৩ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত দিল্লি টেস্টে ৮ উইকেটে জিতেছিল। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা মিলে নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। সবমিলিয়ে পরিসংখ্যান ভারতকে এগিয়ে রাখছে। দিল্লিতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর রোহিত শর্মার দল।

পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না দ্রাবিড়
যদিও পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর কথায়, আমি রেকর্ডের কথা জানি না। এ সব বিষয়ে মাথাই ঘামাই না। অতীতের দিকে তাকিয়ে কিছু হয় না। ভালো কিছু করতে হলে টেস্টের পাঁচ দিনে ফোকাস রাখতে হবে। অতীতে যা হয়েছে, হয়েছে। প্রতিপক্ষ আলাদা ছিল। ফলে অতীত নিয়ে বেশি আলোচনা করে কোনও লাভ নেই। কিছু বিষয় মাথায় রাখা যেতেই পারে, সব দলই করে। দিল্লিতে কোন সময় কোন ম্যাচে কী হয়েছিল, কত রান হয়েছিল, সেই সব ব্যাপারে নজর রাখা যেতেই পারে। আমরা সতর্কভাবে এই পরিসংখ্যানগুলি মাথায় রাখি।

অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সতর্ক
রাহুল দ্রাবিড় এদিন বলেন, একটা টেস্টের পর আমাদের মানসিকতায় কোনও বদল আসেনি। কেন না, একটা টেস্টে ভালো খেলতেই পারি। আবার এটাও ঠিক, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই চালাবে। নাগপুর টেস্ট থেকে নিশ্চিতভাবেই শিক্ষা নিয়েছে তারা। সেই শিক্ষাগুলিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। তবে আমরাও নাগপুরে যেভাবে ভালো খেলেছি, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইব। অতীত নিয়ে না ভেবে বর্তমানের কথা ভেবেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। নাগপুর টেস্টের ফলাফলও মাথায় রাখছি না। দিল্লিতে ভালো খেলতে হবে।

পূজারার প্রশংসায়
চেতেশ্বর পূজারা ভারতের ত্রয়োদশ ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নামছেন। দ্রাবিড়ের কথায়, যে কোনও ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই শততম টেস্ট এক বড় কীর্তি। প্রতিভার সঙ্গে দরকার হয় অনেক কিছুর। শততম টেস্ট বুঝিয়ে দেয় কোনও ক্রিকেটার কতটা দীর্ঘ সময় ধরে খেলার ক্ষমতা রাখেন। ফিটনেস, টিকে থাকার দক্ষতা, সাফল্য ও ব্যর্থতার চাপ সামলানোর ক্ষমতা সব কিছু জড়িয়ে থাকে। ১০০টি টেস্ট খেলতে হলে উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকতে হবে। বিভিন্ন বোলিং আক্রমণের পাশাপাশি মাঠে-মাঠের বাইরে নানা প্রশ্নবাণ সামলাতে হয়। ১০ বছর লাগেই শততম টেস্ট খেলতে। পূজারার ১৩-১৪ বছরে সেই মাইলস্টোন স্পর্শ করছেন। দলে তিনি দারুণ জনপ্রিয়। ড্রেসিংরুমে সকলেই তাঁর জন্য খুশি। দিল্লি টেস্ট তো বটেই, আগামী দিনেও পূজারা দারুণ ইনিংস উপহার দেবেন বলে আশাবাদী দ্রাবিড়। তাঁর ছেড়ে যাওয়া জায়গা তিন নম্বরেই পূজারা সফল। দ্রাবিড় বলেন, ১৩-১৪ বছর ধরে পূজারা অনেক ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। উল্লেখ্য, শততম টেস্টে স্টেডিয়ামে থাকবেন চেতেশ্বরের বাবা অরবিন্দ পূজারা, স্ত্রী পূজা ও কন্যা অদিতি।












Click it and Unblock the Notifications