লর্ডসে অ্যান্ডারসনের কোন পদক্ষেপ তাতিয়ে দেয় বুমরাহদের? জানালেন ভারতের ফিল্ডিং কোচ
লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের এক ঘটনাই ফোকাস নড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ডের। অন্তত তেমনটাই মনে করছে ব্রিটিশ ক্রিকেট মহল। জসপ্রীত বুমরাহ-র বোলিংয়ে জেমস অ্যান্ডারসনের মাথা গরম করা আর তারপর দুই দিন ধরে তার জের চলে। ভারতের ফাঁদে পা দিয়েই জো রুটদের বিপত্তি বলে সরব হয়েছেন অনেক প্রাক্তন। এমনকী তিন টেস্ট বাকি থাকলেও বিরাটদেরই ফেভারিট ধরছেন অনেকে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন ভারতীয় ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর।
|
লর্ডসের উত্তাপ
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাতকারে বুমরাহ-র অ্যান্ডারসনকে শর্ট পিচ বা বাউন্সার দেওয়া প্রসঙ্গে শ্রীধর বলেন, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা বজায় রেখে ক্রিকেট খেললেও জসপ্রীত বুমরাহ স্বভাবগতভাবে কাউকে আঘাত করতে চান না। বুমরাহ ৮-১০টি বল করেছিলেন, ইয়র্কার বা বাউন্সারে অস্বস্তিতে ফেলেন জেমস অ্যান্ডারসনকে। কিন্তু উইকেট পাচ্ছিলেন না। আগে ফাস্ট বোলাররা অলিখিত নিয়ম মানতেন। বেশি বাউন্সার না দিয়ে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতেন। এটা পারস্পরিক বোঝাপড়া। এখন সে অলিখিত নিয়ম মানাও হয় না। ফলে বুমরাহ যে অন্যায় কিছু করেছেন তা নয়। উল্লেখ্য, লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ লগ্নে বুমরাহ-র বল হেলমেটে লাগে অ্যান্ডারসনের। তারপরও তাঁর শরীর লক্ষ্য করে বাউন্সার বল করে যান বুমরাহ, যা মাথা গরম করে দেন জেমস অ্যান্ডারসনের।
|
অস্বস্তিতে জিমি
শ্রীধরের দাবি, সেদিন খেলা শেষের পর সকলে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, তখন বুমরাহ নিজেই অ্যান্ডারসনের কাছে যান। তাঁর পিঠে হাত রেখে বলার চেষ্টা করেন, যেটা হয়েছে সেটা ইচ্ছাকৃত নয়। কিন্তু বুমরাহ কার্যত দুঃখপ্রকাশ করলেও তা মানতে অগ্রাহ্য করেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার। তিনি বলেন, তুমি কেন আমাকে এতো জোরে বোলিং করছ? আমিও কি তোমাকে এমনটা করব? আমাদের প্রথম ইনিংসে তুমি টানা প্রতি ঘণ্টার ৮০ মাইল বেগে বল করার পর আমাকে দেখেই ৯০ মাইল প্রতি ঘণ্টায় বোলিং করা শুরু করলে! সেটা শুনে অশ্বিন বলেন, জেমস অ্যান্ডারসনের মুখে এমন কথা শুনে আমিও অবাক হয়ে গিয়েছি! উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মুম্বই টেস্টে বিরাট কোহলি দ্বিশতরানের পরও অ্যান্ডারসন তাঁকে কৃতিত্ব দিতে চাননি। বলেছিলেন, ঘরের মাঠের পিচ কোহলির দুর্বলতা ঢেকে দিচ্ছে। পরে মাঠে নেমে সেই মন্তব্যের জন্য অ্যান্ডারসনের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়ান খোদ অশ্বিন।
|
অ্যান্ডারসনই তাতালেন ভারতকে
শ্রীধর বলেন, বুমরাহ খুব ভালো ছেলে। অ্যান্ডারসনকে তিনি বলতে গিয়েছিলেন শুধু যেটা হয়েছে সেটা ইচ্ছাকৃত নয়। কিন্তু তাঁর জবাবে অ্যান্ডারসনের পাল্টা দেওয়াটাই গোটা দলকে তাতিয়ে দেয়। এটা দলকে আরও এককাট্টা করে দিয়েছিল। দলের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রত্যেকের মধ্যে যেন কেউ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। যার প্রভাব দেখা গিয়েছে পঞ্চম দিনে। অশ্বিন এরপর বলেন, সেদিন ইংল্যান্ডকে ১৮০ রানের টার্গেট দিলেও আমরা রুটদের চাপে ফেলতে পারতাম। উল্লেখ্য, ২৭২ রানের টার্গেট দিয়ে ইংল্যান্ডকে যখন চ্য়ালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ভারত, টিম হাডলে বিরাট কোহলি বলেছিলেন, এই ৬০ ওভার এমনভাবে নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে যাতে ইংল্যান্ডের নরক দর্শনের অনুভূতি হয়। পঞ্চম দিন সকালে বুমরাহকে প্ররোচিত করার পাশাপাশি লাগাতার ইংল্যান্ডের পেসাররা শর্ট বল করে যান। যদিও শামি-বুমরাহ-র জুটি ভাঙতে পারেননি। এই সেশনেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বলে ইংল্যান্ডকে দুষছেন প্রাক্তনরা, এমনকী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
|
ভয় পেয়েছে ইংল্যান্ড!
লর্ডস টেস্টে বিরাট কোহলিরা ইংল্যান্ডের মাথার উপর চড়ে বসায় রুটের দল যে টিম ইন্ডিয়াকে ভয় পাচ্ছে সেই মন্তব্য আগেই করে কটাক্ষ করেছেন ডেভিড লয়েড। এবার ভারতীয় পেসারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টিভ হার্মিসন। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড পেসারদের থেকেও ইংল্যান্ডের পরিবেশে সঠিক বল করার নিরিখে অনেক এগিয়ে মহম্মদ শামি। শামির সঙ্গে ইশান্তের বোলিং পার্টনারশিপ তাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শামির বোলিংকে ম্যাথু হগার্ড বা নিজের বোলিংয়ের মতো বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ৬ ফুট চার ইঞ্চির ইশান্ত আর ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির শামির বোলিং পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে অস্বস্তিতে ফেলছে একজন বল ভেতরের দিকে আনায় এবং অন্যজন কিছুটা বাইরের দিকে বল পাঠিয়ে ব্যাটসম্যানদের খেলতে বাধ্য করছেন, যেন একজন অপরজনের পরিপূরক। ফলে এই জুটি যে তিনটি টেস্টেও বিরাটের বড় অস্ত্র হতে চলেছেন সে ব্যাপারে আত্নবিশ্বাসী হার্মিসন।












Click it and Unblock the Notifications