রোহিতকে আউট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত : রাগে ফুঁসছে বাংলাদেশ
বেঙ্গালুরু, ২০ মার্চ : "আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হল বাংলাদেশ"
"এই আম্পায়ারদের শাস্তি হওয়া উচিত।"
"হারেনি, বাংলাদেশকে হারানো হয়েছে"
"বাণিজ্যের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ।"
ঠিক এই ধরনের হেডলাইনের মাধ্যমেই বৃহস্পতিবারের ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালকে বর্ণনা করা হয়েছে পদ্মাপারের সবকটি সংবাদমাধ্যমে।

কোথায় উৎসবের বাজনা বাজবে, সেই অপেক্ষায় ছিল দেশবাসী। তা না হয়ে, উল্টে করুণ বিদায়ের সুর বাজল। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে ১০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। রোহিত শর্মার ১৩৭ রানের ইনিংসের সুবাদে জিতে ভারত সেমিফাইনালে চলে গিয়েছে ভারত।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচের পর বলা ভালো রাগে ফুঁসছে বাংলাদেশ। গতকাল বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান ক্রিকেটপ্রেমীরা। আইসিসি, ভারত, ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের দুই আম্পায়ার, আইসিসি প্রধান এন শ্রীনিবাসন, সমালোচনার হাত থেকে বাদ পড়েননি কেউই। একইসঙ্গে ক্ষোভের ঝড় আছড়ে পড়ে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং মিডিয়াতেও। রোহিত শর্মার আউট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তুলকালাম ঘটে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলিও এই সিদ্ধান্তকে একহাত নিয়ে দেশবাসীর আবেগের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র দৈনিক জনকণ্ঠ লিখেছে, "বাংলাদেশ যে লড়াই করতে পারল না, তা আম্পায়ারদের জন্যই হয়েছে। আম্পায়ারদের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে অসহায়ই করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত শেষই হয়ে গেল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানও।"
সংবাদপত্র মানবজমিন লিখেছে, "আইসিসি'র ইশারাতেই হচ্ছে সব। তাদের অর্থের লোভেই ক্রিকেট তার শ্রী হারাচ্ছে। বলি হচ্ছে ছোট ছোট দলগুলো। ক্রিকেটও আজ পণ্য। অর্থ আয়ের মেশিন। মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে ক্রিকেটের সব আজ বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। সোয়াশ' কোটি লোকের দেশ ভারত বিশ্বের সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের উত্তম বাজার। আর এ সুযোগটা তারা নিচ্ছে ভালভাবেই। ক্রিকেটকে এখন তিন মোড়লের সংগঠনে দাঁড় করানো হয়েছে।"
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিখেছে, "ভারত শক্তিশালী দল। কিন্তু কাল ১০৯ রানের জয়ের পেছনে আমি ধোনিদের খুব বেশি কৃতিত্ব দিতে পারছি না। বরং এ জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন আম্পায়াররা।"
প্রথম আলো লিখেছে, "বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলায় এ রকম জঘন্য আম্পায়ারিং কোনোভাবেই কাম্য নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়েই যদি এ রকম ভুলে ভরা আর পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং হতে থাকে, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতেও আম্পায়ারিংয়ের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে আইসিসি।"
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে একরাশ হতাশা ও বঙ্গ ক্রিকেটারদের প্রতি সমবেদনাই জানিয়েছেন সবাই। আগামী দিনে মাশরাফি মোর্তাজা, মুশফিকুর রহমান, শাকিব আল হাসানরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলবেন। সব শেষে এখন এই আশাতেই বুক বেঁধেছেন বাংলাদেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমী আমজনতা।












Click it and Unblock the Notifications