কেনের প্রশংসা সচিনের! কোন কোন খামতিতে বিরাটের ভারত ডুবল দেখিয়ে দিলেন তেন্ডুলকর
টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের পারফরম্যান্স দেখে হতাশ হলেও আশা ছাড়ছেন না সচিন তেন্ডুলকর। দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক ভারতের ব্যাটিংয়ের ত্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রশংসা করেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ক্যাপ্টেন্সির, জমাট রণকৌশলের। ভারতের বোলারদের পারফরম্যান্সেও হতাশার সুর শোনা গিয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের গলায়। সচিনের বিশ্লেষণ ভারতীয় দল কতটা গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করে তা দেখা যাবে বুধবারের আফগানিস্তান ম্যাচেই।

সচিন বলেন, নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আমাদের দলের কাছে কঠিন দিন গিয়েছে। তবে এমন দিন মাঝেমধ্যে আসে যখন যা-ই করা হোক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল কিছুতেই মেলে না। সত্যি কিছু বলার নেই। আমি আশা রাখছি, এই টুর্নামেন্টেই আমাদের দল দারুণ কিছু করবে। কিউয়িদের বিরুদ্ধে ভারত ক্যাচিং-আপ গেম খেলছিল বলে উল্লেখ করে মাস্টার ব্লাস্টার বলেন, নিউজিল্যান্ড এমন দাপট দেখাচ্ছিল যে আমাদের ব্যাটাররা সহজে সিঙ্গলস নিতেও পারছিলেন না। ফলে তাঁরা বড় শট খেলতে বাধ্য হন। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মতো ভারতীয়রা বিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করতে না পারাতেও কিছুটা হতাশ সচিন।

কেন উইলিয়ামসন ও তাঁর অধিনায়কত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন সচিন। ভারতের বিরুদ্ধে সঠিক রণকৌশল নিয়েই নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। কিউয়ি কোচ গ্যারি স্টেডও বলেছেন, ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে ১১০ রানে থামিয়ে দেওয়া সত্যিই স্পেশ্যাল। সচিনের কথায়, প্রথম বল থেকেই ফিল্ডিং সাজানো, বোলিং পরিবর্তনে কেন সর্বোচ্চ মানের অধিনায়কত্ব উপহার দিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনাও দুর্দান্ত ছিল। প্রথম ছয় ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৩৫। পাঁচ ওভারে এসেছিল ২০, অ্যাডাম মিলনে এক ওভারে দিয়েছিলেন ১৫ রান। ৬ থেকে ১০ ওভারের মধ্যে খেলাটাই ফারাক গড়ে দেয় বলে মন্তব্য সচিনের। এই ২৪ বলে মাত্র ১৩ রান আসে, একটি উইকেটও পড়ে। এটাই এই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ছিল, যেখানে ভারত বড় রান তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেছে। কেন না, দ্রুত উইকেট পড়লে তখন ব্যাটারদের মাথায় বড় পার্টনারশিপ গড়ার ভাবনা চলে আসে। কিন্তু সিঙ্গলসও সহজে না আসায় আমাদের ব্যাটাররা বড় শট খেলতে যান। সেটা করতে গিয়েই রোহিত, বিরাট আউট হয়েছেন। সচিনের এই মতের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন হরভজন সিংও। তিনিও বলেন, ভারতের ইনিংসে ৯ ওভার বা ৫৪ বল ডট গিয়েছে, কোনও রান আসেনি। সহজে সিঙ্গলস নিতে পেরে স্বভাববিরুদ্ধ শট খেলেন ব্যাটাররা। বিরাট যেভাবে লেগ স্পিন সামলাতে গিয়ে ক্রস ব্যাটে শট খেলে আউট হলেন তেমন শট মারতে সচরাচর তাঁকে দেখা যায় না।

ঋষভ পন্থকে স্বাভাবিক খেলা খেলতে না দেওয়ার কিউয়ি রণকৌশলেরও প্রশংসা করেছেন সচিন তেন্ডুলকর, যা অনেকটা ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের মতো বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। সচিনের কথায়, পন্থ নামতেই আক্রমণে নিয়ে আসা হল পেসারদের। স্পিন বোলিংয়ের প্রান্তও বদলে দেওয়া হয়। এটাও কেনের স্মার্ট মুভ বলে মন্তব্য সচিনের। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে যখন মিচেল স্যান্টনার পন্থের বিরুদ্ধে বোলিং করতে আসেন তখন তাঁকে আনা হয়েছিল লঙ্গার এন্ড থেকে, যাতে পন্থ মিড উইকেটে আক্রমণাত্মক শট খেলতে বাধ্য হন। সেদিকেই বাউন্ডারি ছিল অনেকটা দূরে। গতকালও ঠিক তেমনটাই করা হয়েছে, যাতে বড় বাউন্ডারি পন্থকে শান্ত রাখার জন্য কার্যকরী হয়।
লেগ স্পিনাররা যেভাবে গুগলি, টপ স্পিন, ফ্লিপারের সঙ্গে সাধারণ লেগ স্পিনের মিশেল ঘটিয়েছেন তারও প্রশংসা করেছেন সচিন। তাঁর মতে, ইশ সোধি খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছেন। মিচেল স্যান্টনারও। তাঁরা দুজনে ৮ ওভারে মাত্র ৩২ রান খরচ করেছেন। এটা দারুণ পারফরম্যান্স যা নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে সহায়ক হয়েছে। সচিন বলেন, এইসব জায়গায় ভারতেরও পারফরম্যান্স ভালো করতে হবে। অল্প রানের পুঁজি থাকলে দ্রুত তিন উইকেট তুলে নেওয়া লক্ষ্য থাকা উচিত ছিল ভারতের। কিন্তু একটির বেশি উইকেট আসেনি। সবমিলিয়ে যেমন বোলিং হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি বলেও খেদ মাস্টার ব্লাস্টারের।












Click it and Unblock the Notifications