বাংলাদেশকে প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে হারাল বাবরের পাকিস্তান, দল গঠন ও ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে চাপে মাহমুদুল্লাহ
পতাকা বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তান। মীরপুরে অনুশীলনে অনুমতি ছাড়াই পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে। যদিও মাঠের বাইরের সেই বিতর্ক প্রভাব ফেলল না বাবর আজমের দলের পারফরম্যান্সে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস সম্বল করে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটাতে পাকিস্তান সিরিজেই ঘুরে দাঁড়াতে চাইছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচে শেষরক্ষা হল না। আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি ২০ ম্যাচ।

এদিন জয়ের জন্য ১২৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে পাকিস্তানের ষষ্ঠ উইকেট পড়েছিল ৯৬ রানে। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৩২ রান। এরপর আর কোনও উইকেট পড়েনি পাকিস্তানের। ১৮তম ওভারে বল করতে মুস্তাফিজুর রহমান দেন ১৫। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামও ১৫ রান খরচ করে বসেন। শেষ ওভারের প্রথম বলে কোনও রান না হলেও আমিনুল ইসলামের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান শাদাব খান। চার উইকেটে ম্যাচ জেতে পাকিস্তান, চার বল বাকি থাকতেই। শাদাব ১০ বলে ২১ করে অপরাজিত থাকেন। ৮ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ নওয়াজ। টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ঢেকে এই জয় নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল।
Bangladesh set Pakistan a target of 128 runs!#BANvPAK | #HarHaalMainCricket pic.twitter.com/a3FnQbWfXZ
— Pakistan Cricket (@TheRealPCB) November 19, 2021
আজ মীরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশের হয়ে এদিন অভিষেক হল সইফ হাসানের। তবে তিনি ও অপর ওপেনার মহম্মদ নঈম দুজনেই আউট হলেন ১ রান করে। ৩ ওভারে ১০ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ফেরেন। ১৫ রানের মাথায় আউট হন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৫। মাহমুদুল্লাহ ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট পড়ায় ৯ ওভারের শেষ বলে ৪০ রানে। আফিফ হোসেন সর্বাধিক ৩৪ বলে ৩৬ রান করেন। ২২ বলে ২৮ করেন উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান। মেহেদি হাসান ২০ বলে ৩০ করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ সাত উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে। পাকিস্তান এদিন শাহিন শাহ আফ্রিদিকে খেলায়নি। তাঁর পরিবর্তে দলে আসা মহম্মদ নওয়াজ ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। হাসান আলি ২২ রানের বিনিময়ে পান ৩ উইকেট। মহম্মদ ওয়াসিম নেন ২৪ রানে দুটি উইকেট। একটি মেডেন-সহ চার ওভারে ২০ রান খরচ করে শাদাব খান পান একটি উইকেট।

জবাবে খেলতে নেমে পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। মাত্র ২০ বলের ব্যবধানে ৮ রানের মধ্যে এই চারটি উইকেট পড়ে। মহম্মদ রিজওয়ান ১১, বাবর আজম ৭, হায়দার আলি ও শোয়েব মালিক শূন্য রানে ফেরেন। ২.৪ ওভারে পড়েছিল প্রথম উইকেট ১৬ রানের মাথায়। ৬ ওভারের শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪। ফখর জামান খুশদিল শাহকে নিয়ে এরপর দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ৩৬ বলে ৩৪ রানে আউট হন। ১৭তম ওভারে খুশদিল শাহ ৩৪ রানে আউট হন, পাকিস্তানের ষষ্ঠ উইকেটটি পড়ে ৯৬ রানের মাথায়। বাংলাদেশের হয়ে তাস্কিন আহমেদ ৩১ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন। মেহেদি হাসান চার ওভারে ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। মুস্তাফিজুর ও শরিফুল ইসলামও একটি করে উইকেট দখল করেন। তবে বাংলাদেশের দল গঠন ও মাহমুদুল্লাহর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মুশফিকুর রহিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি ২০ সিরিজের দলে সুযোগ পাননি। দল ঘোষণার পর বাংলাদেশের নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান মিনহাজুল আবেদিন বলেছিলেন, তামিম ইকবালের চোট রয়েছে। টেস্ট সিরিজে তাই মুশফিকুর রহিম যাতে ফ্রেশ হয়ে নামতে পারেন সেজন্য তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ দায় এড়িয়ে বলেন, এ বিষয়ে যা বলার টিম ম্যানেজমেন্টই জানে। যদিও তিনি নিজেও টিম ম্যানেজমেন্টের অঙ্গ। তবে মুশফিকুর রহিম বলেছেন, এটা ঠিক বিশ্বকাপে আমি ভালো খেলতে পারিনি। কিন্তু আমার বিশ্রামের জন্য কাউকে কিছু বলিনি। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলাম খেলতে প্রস্তুত। কিন্তু জানতে পারি টিম ম্যানেজমেন্ট, হেড কোচ, নির্বাচকমণ্ডলী এবং টিম ডিরেক্টর আমাকে বাদ দিয়েছেন। অভিজ্ঞ মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে এবারের টি ২০ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৪৪ করেছিলেন। মাহমুদুল্লাহ করেন ৮ ম্যাচে ১৫৯। সুপার টুয়েলভে সব ম্যাচ হারায় মাহমুদুল্লাহর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকী বাংলাদেশের যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩৯ বলে ৫৩ রান দরকার ছিল তখন নেমে বাংলাদেশের অধিনায়ক করেন ২৪ বলে ৩১, তিন রানে ম্যাচ হারে টাইগাররা। এদিনও ব্যাটে রান নেই মাহমুদুল্লাহর।












Click it and Unblock the Notifications