বিদ্বেষমূলক টুইট বিতর্কে বড় শাস্তি এড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে পারেন রবিনসন
বিদ্বেষমূলক টুইটে বড় শাস্তির খাঁড়া ঝুলছিল। তবে আপাতত স্বস্তিতে ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন। ক্রিকেট খেলতে আর বাধা নেই। এমনকী ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজের দলেও যে তিনি থাকবেন তা স্পষ্ট করে দিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট ডিসিপ্লিন কমিশনের সিদ্ধান্ত।

সাড়া জাগিয়েও অনিশ্চয়তা
গত মাসেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে অভিষেক হয়েছিল অলি রবিনসনের। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে মূল্যবান ৪২ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬ রানের বিনিময়ে নেন তিন উইকেট। যদিও টেস্ট শুরুর দিনেই অর্থাৎ ২ জুন তাঁর পুরানো টুইট সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। যার জেরে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করে ইসিবি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে শুধু বাদই পড়েননি, তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার পড়েছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে।

বিতর্কিত টুইট
২০১২ ও ২০১৪ সালে যখন রবিনসনের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৮ ও ২০ তখন তাঁর টুইটে বর্ণ ও নারীবিদ্বেষ সংক্রান্ত বার্তা ছিল। যা জনসমক্ষে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন। ক্রিকেট ডিসিপ্লিন কমিশনের শুনানিতেও অংশ নিতে হয় আপত্তিকর টুইটের জন্য। যদিও কমিশন আজ জানিয়েছে, বিদ্বেষমূলক টুইট করার দায়ে রবিনসনকে আটটি ম্যাচে নির্বাসিত করা হলো, পাশাপাশি ৩২০০ পাউন্ড জরিমানা ধার্য করা হলো। এই আটটি ম্যাচের পাঁচটি আপাতত দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকছে। তিনটি ম্যাচের মধ্যে রবিনসন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট এবং সাসেক্সের হয়ে টি ২০ ব্লাস্টে দুটি ম্যাচ খেলেননি। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এখনই ক্রিকেট মাঠে নেমে পড়তে পারেন ইংল্যান্ডের এই পেসার।

ইংল্যান্ডের শক্তি বাড়ল
অগাস্টে ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজে শক্তিশালী দল নিয়েই নামতে চাইছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। এই টেস্ট সিরিজ দিয়েই আবার শুরু হচ্ছে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সংস্করণ। ফলে ৩০ জুন শুনানির পর কমিশন যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তাতে ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট স্বস্তি পেয়েছে। স্বস্তি পেয়েছেন রবিনসনও। তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত স্বাগত জানিয়ে মেনে নিচ্ছি। এত বছর আগের টুইট আমাকে অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি লজ্জিত করেছিল। সর্বোপরি আমার টুইট যাঁদের উদ্দেশ করে লেখা ছিল তাঁদের এবং অন্যদের ভাবাবেগে টুইট-বার্তাগুলি আহত করায় আমি আগেও ক্ষমা প্রার্থনা করেছি, আবারও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। কেরিয়ারে কঠিনতম সময় কাটালাম। আমার এবং পরিবারের কাছেও এই সময়কাল খুব কঠিন কেটেছে। আপাতত সামনে তাকানোই লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যেন এমন কাজ আরও কেউ না করেন সে বিষয়ে সচেতন করার কাজেও আমি সামিল হব।












Click it and Unblock the Notifications