নিউজিল্যান্ড বনাম ভারত, কপিল থেকে জাদেজা স্মরণীয় করে রেখেছেন বহু ম্যাচ - দেখে নিন সেরা ৫ মোকাবিলা
নিউজিল্যান্ড বনাম ভারত ওডিআই সিরিজ শুরু হওয়ার আগে, এই দুই দলের মধ্যে হওয়া সেরা ৫টি স্মরণীয় ওডিআই ম্যাচ ফিরে দেখা যাক।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ। এবার গন্তব্য নিউজিল্যান্ড। বিশ্ব ক্রিকেটে কিন্তু 'ব্ল্যাক ক্যাপস'-দের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেটিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ততটা চর্চিত নয়। এখনও পর্যন্ত দুই দেশ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্য়াচে ১০১বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে জয়ের হিসাবে সামান্য এগিয়ে ভারতই। মেন ইন ব্লু যেখানে ৫১টি ম্যাচে জিতেছে, ৪৪ টি ম্যাচের ফল গিয়েছে কিউইদের পক্ষে।
বুধবার (২৩ জানুয়ারি), থেকে শুরু হচ্ছে নিউজিল্যান্ড বনাম ভারত একদিনের সিরিজ। সাম্প্রতিককালে কিন্তু বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই খুব ভাল পারফর্ম করেছে কিউইরা। ঘরের মাঠে তারা প্রায় অপ্রতিরোধ্য। অপর দিকে ব্য়াটিং লাইন আপ নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও তাই নিয়েই একের পর এক সিরিজ জিতে চলেছে ভারত। সদ্য সদ্য অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতে দারুণ ছন্দে কোহলিরাও।
ফলে দুই দলের মধ্যে আগামী ৫ এদিনের ম্যাচে একা জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে। তবে সেভাবে চর্চিত না হলেও অতীতে কিন্তু এই দুই দল বেশ কিছু স্মরণীয় মোকাবিলায় মুখোমুখি হয়েছে। সিরিজ শুরুর আগে ফিরে দেখা যাক সেরকমই সেরা ৫ ম্যাচ।
চতুর্থ ওডিআই, রথম্যানস কাপ ১৯৯০
১৯৯০ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজ ১-০ ফলে জেতার পর ভারত ত্রিদেশীয় রথম্যানস কাপে অংশ নিয়েছিল। তৃতীয় দেশ ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে ওয়েলিংটনে, ততকালীন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন টসে জিতে আগে ব্য়াট নিয়েছিলেন। সম্মিলিত ব্য়াটিং প্রচেষ্টায় ২২১ রান তুলেছিল ভারত। মাত্র ৩ উইকেটে ১৪৮ রান তচুলে ম্য়াচ প্রায় পকেটে পুড়ে ফেলেছিল ব্ল্যাক ক্যাপস-রা। কিন্তু কপিল-প্রভাকর ও অতুল ওয়াসনের পেস ত্রয়ী ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। শেষ ২ বলে ২ রান দরকার ছিল। হাতে ছিল ১ উইকেট। ব্য়াট করছিলেন রিচার্ড হ্যাডলি। এই পরিস্থিতিতে কপিল তাঁকে বোল্ড করে ভারতকে ম্যাচ জেতান।
ষষ্ঠ ওডিআই, ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর ২০০২-০৩
সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের ভারত টেস্ট সিরিজ হেরেছিল ২-০ ফলে। ৭ ম্যাচের একদিনের সিরিজেও পিছিয়ে ছিল ১-৪ ফলে। এই পরিস্থিতিতে সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সৌরভ। শুরুতে দ্রুত কয়েক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৯ রান তুলেছিল কিউইরা। শ্রীনাথ ১০ ওভারে ২টি মেডেন-সহ মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। জবাবে সেওয়াগের ১১২ রানের ইনিংসের দৌলতে ভারত ম্য়াচ প্রায় জিতে গিয়েছিল। ৭ ওভারে ১৮ রান দরকার ছিল। হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু পরের কয়েক ওভার বীভিষিকার মতো যায়। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪ রান। হাতে ছিল ৩ উইকেট। প্রথম দুই বলে ১ রান ওঠার পর তৃতীয় বলে আউট হয়ে যান কাইফ। পরের বলটি ওয়াইড হলেও রান আউট হন জাহির খান। কিন্তু একবল বাকি থাকতে কোনওক্রমে ভারতকে জিতিয়েছিলেন শ্রীনাথ ও নেহরা।
তৃতীয় ওডিআই, নিউজিল্যান্ডের ভারত সফর ২০১৬-১৭
তিন ম্য়াচের ওডিআই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত রোহিত শর্মা (১৩৮ বলে ১৪৭) ও বিরাট কোহলি (১০৬ বলে ১১৩) জুটির ২৩০ রানের দৌলতে ৩৩৭ রানের পাহাড় গড়েছিল। জবাবে কিউইরা শুরুতেই গাপ্টিলের উইকেট হারালেও কলিন মুনরো ও দ্বিতীয় উইকেটে ১০৯ রান যোগ করে তাদের ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। পরের ব্যাটসম্য়ানরা প্রত্যেকেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন দলকে। ৬ উইকেট হাতে থাকতে তাদের ২৪ বলে ৩৫ রান দরকার ছিল। কিন্তু ভুবি-বুমরা জুটির অসাধারণ ডেথ বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচ ৬ রানে হেরে যায় নিউজিল্যান্ড।
ফাইনাল, আইসিসি নকআউট ট্রফি ২০০০
যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে ২০০০ সালে কেনিয়ায় আয়োজিত আইসিসি নকআউট ট্রফি-র ফাইনালে উঠেছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ব্ল্যাক ক্য়াপসরা। সচিন-সৌরভের এপেনিং জুটি ১৪১ রান যোগ করায় ভারতের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও পরের ব্য়াটসম্য়ানরা সেই ছন্দ ধরে রাখতে না পারায় ভারতের ইনিংস ২৬৪/৬-এই সীমাবদ্ধ রাখে নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক সৌরভ করেছিলেন ১১৭। সচিন ৬৯। রান তাড়া করতে গিয়ে এক সময় ১৩২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দুই ক্রিস - ক্রেয়ান্স ও হ্যারিস ষষ্ঠ উইরেটে ১২২ রান যোগ করেন। ৪৯ তম ওভারে হ্যারিস আউট হলেও ক্রেয়ান্স অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে জিতিয়েছিলেন।
তৃতীয় ওডিআই, ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর ২০১৪
অকল্যান্ডে তৃতীয় ম্য়াচের আগে ভারত ৫ ম্য়াচের ওডিআই সিরিজে ০-২ ফলে পিছিয়ে ছিল। টসে জিতে ধোনি কিউইদের ব্যাট করতে পাঠান। গাপ্টিলের শতরান (১১১) ও কেন উইলিয়ামসন (৬৫)-এর অর্ধশতরানের জোরে নিউজিল্যান্ড সব উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান তুলেছিল। শিখর-রোহিতের ভারতীয় ওপেনিং জুটি ৬৪ রান তুললেও পরের ব্য়াটসম্যানদের ব্য়র্থতায় ভারতের স্কোর ১৮৪/৬ হয়ে গিয়েছিল। এখান থেকে সবাইকে চমকে দিয়ে জাদেজা ও অশ্বিন ১০ ওভারের ৮৫ রান যোগ করেছিলেন। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য ১৮ রান দরকার ছিল। কোরি অ্যান্ডারসনের বলে ২টি চার ও ১টি ছয় মেরে জাদেজা তাকে শেষ বলে ২ রানে নামিয়ে আনেন। শেষ বলে মাত্র ১ রান নিতে পারায় ম্য়াচ অমিমাংসিতভাবে শেষ হয়।












Click it and Unblock the Notifications