লর্ডসে টেস্ট অভিষেকে সৌরভ যা পারেননি, তা করলেন নিউজিল্যান্ডের কনওয়ে
বাঁ-হাতি দুজনেই। তাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ডেভন কনওয়ে যখন অভিষেক টেস্টে লর্ডসে ব্যাট করছিলেন, তখন বারেবারেই তাঁর তুলনা হচ্ছিল প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের স্বপ্নের টেস্ট অভিষেকের সঙ্গে। লর্ডসে অভিষেকে সৌরভের টেস্ট শতরান করার রেকর্ড স্পর্শ করে সৌরভের রানের রেকর্ড গতকালই ভেঙেছিলেন কনওয়ে। আর আজ যা করলেন তা সৌরভও পারেননি। কনওয়ে ভাঙলেন ১২৫ বছরের পুরানো রেকর্ড। ১৮৯৬ সালে টেস্ট অভিষেকে ম্যাঞ্চেস্টারে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৫৪ রান করেছিলেন রঞ্জিত সিংজি। তিনি ভেঙেছিলেন ডব্লিউ জি গ্রেসের রেকর্ড, ১৮৮০ সালে ম্যাঞ্চেস্টারেই অজিদের বিরুদ্ধে অভিষেকে ১৫০ রান করেছিলেন গ্রেস। আজ রঞ্জিত সিংজির সেই রেকর্ডও চুরমার করে দিলেন কনওয়ে।

কনওয়ের আগে বিশ্বের আর ছয়জন ব্যাটসম্যান ছাড়া কেউই টেস্ট অভিষেকে দ্বিতশতরান পাননি। ইংল্যান্ডের রেইনল্ড ফস্টার ২৮৭ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১৯০৩ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক রুডলফ অপরাজিত ২২২ করেছিলেন টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, ২০০৩ সালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লরেন্স রো নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৪ করেন ১৯৭২ সালে। ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ম্যাথু সিনক্লেয়ার ২১৪ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মেয়ার্স দ্বিতীয় ইনিংসে ২১০ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট জেতান। শ্রীলঙ্কার ডন সারদা ব্রেন্ডন প্রিয়ন্থ কুরুপ্পু টেস্ট অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১ রান করেছিলেন। বিশ্বের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আজ টেস্টে দ্বিশতরান করার নজির গড়লেন কনওয়ে। ৩৪৭ বলে ২২টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করে তিনি রান আউট হন।

তাঁর আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিউজিল্যান্ড অল আউট হয় ৩৭৮ রানে। ৩ উইকেটে ২৪৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস। নিকোলস ৬১ রানে আউট হওয়ার পরই ধস নামে। ২৮৮ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর ২৯৪ রানের মাথায় সপ্তম এবং ৩৩৮ রানের মাথায় নবম উইকেট পড়ে যায়। শেষে কনওয়ের সঙ্গে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন নিল ওয়াগনার। ২১ বলে ২৫ করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

অভিষেক টেস্টে অলি রবিনসন চারটি উইকেট নেন। মার্ক উড তিনটি ও জেমস অ্যান্ডারসন দুটি উইকেট পেয়েছেন। জবাবে খেলতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে ইংল্যান্ড। শূন্য রানে কাইল জেমিসনের শিকার ডম সিবলে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে নতুন বলে দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ শুরু করেন টিম সাউদি ও কাইল জেমিসন। ১৮ রানের মাথায় সাউদির বলে জ্যাক ক্রলির উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।












Click it and Unblock the Notifications