IPL 2021: কেকেআর ম্যাচেই ধোনি ভাঙলেন কার্তিকের রেকর্ড! জিতে কী বললেন মাহি-জাড্ডু?
২০১০ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচ টাই হয়েছিল। সেই ম্যাচে অবশ্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুরেশ রায়না। আইপিএলে আজ অবধি কোনও টাই ম্যাচের সাক্ষী থাকতে হয়নি ক্যাপ্টেন কুলকে। আজও হল না। কেকেআরের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিল চেন্নাই সুপার কিংস। এমন জয়কে উপভোগ্য বলেই অভিহিত করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ব্যাট হাতে তিনি এদিন সফল হননি। লাসিথ মালিঙ্গা ধোনিকে দুবার আইপিএলে বোল্ড করেছিলেন। বরুণ চক্রবর্তীর বলে এদিন নিয়ে তিনবার বোল্ড হলেন মাহি। তবে কেকেআরের বিরুদ্ধেই তিনি ভেঙে দিলেন দীনেশ কার্তিকের রেকর্ড। সবমিলিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে টানা হাফ ডজন ম্যাচ জিতে স্বস্তিতে ধোনি।
|
কী বললেন ধোনি-জাড্ডু?
এদিনের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ধোনি বলেন, জিততে পেরে ভালো লাগছে। কখনও কখনও ভালো ক্রিকেট খেলেও হারতে হয়। আবার বিপক্ষের তুলনায় খারাপ খেলেও যখন জেতা যায় সেই জয়টাও উপভোগ্য। দুই দলই ভালো খেলেছে। এই ম্যাচ দেখে খুশি হবেন ক্রিকেটপ্রেমীরাও। এই পিচ জোরে বোলারদের পক্ষে সহজ ছিল না। তা সত্ত্বেও আমরা মোটের উপর ভালোই বোলিং করেছি। ফাস্ট বোলারদের ছোট ছোট স্পেলে বল করাই পিচ থেকে তেমন সাহায্য মিলছিল না বলে। ১৭০ এই পিচে লড়াইয়ের মতো রান। জাদেজাও ভালো বোলিং করেছেন, বল থমকে যায়নি, স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটসম্যানদের কাছে পৌঁছেছে। আমরা যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিলাম তাতে এই ম্যাচ এই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কেকেআরের যথেষ্ট কৃতিত্ব রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে টানা ষষ্ঠ জয় প্রসঙ্গে ধোনি বলেন, প্রতি ম্যাচ থেকেই আমরা যা শিখছি তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রতি ম্যাচেই আগের চেয়ে উন্নতির লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে। ম্যাচের সেরা রবীন্দ্র জাদেজা বলেন, টেস্ট ম্যাচ থেকে সাদা বলের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ম্যাচের উপযোগী ব্যাট চালানো সহজ নয়। আমি আগেও অবশ্য এমন ইনিংস খেলেছি, সেটারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছি। ১৯তম ওভারে ২২ রান আসায় এটাকে ম্যাচ উইনিং ওভার বলা হলেও ঋতুরাজ ও ফাফ দু প্লেসি যে ভালো শুরু করেছিলেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটে-বলে দলগত সংহতিতেই এই জয়।

টি ২০ আন্তর্জাতিকে ধোনির রেকর্ড
২০০৬ থেকে ২০১৯ অবধি মহেন্দ্র সিং ধোনি ৯৮টি টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেছেন। ক্যাচ ধরেছেন ৫৭টি, স্টাম্প আউট করেছেন ৩৪টি। ইনিংসে ৫টি ক্যাচ ধরার নজিরও রয়েছে তাঁর। ধোনির মোট ৯১টি শিকারের পর রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। ৫৭টি ম্যাচে তাঁর শিকার ৬৪টি। ক্যাচ ৪৯টি, স্টাম্পিং করেছেন ১৫ বার। তৃতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন কিপার দীনেশ রামদিন, উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে তাঁর শিকারের সংখ্যা ৬৩, বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের ৬১টি ও পাকিস্তানের কামরান আকমলের টি ২০ শিকারের সংখ্যা ৬০।
ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল

বিশ্বকাপেও চ্যালেঞ্জারহীন মাহি
টি ২০ বিশ্বকাপেও উইকেটের পিছনে সর্বাধিক শিকার মহেন্দ্র সিং ধোনিরই। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল অবধি তিনি টি ২০ বিশ্বকাপে ৩৩টি ম্যাচ খেলেছেন, শিকারের সংখ্যা ৩২, ২১টি ক্যাচ ধরেছেন ও স্টাম্প আউট করেছেন ১১টি। টি ২০ বিশ্বকাপে শিকারের নিরিখে প্রথম পাঁচে ধোনির পরেই রয়েছেন কামরান আকমল (৩০), দীনেশ রামদিন (২৭), কুমার সঙ্গকারা (২৬) ও মুশফিকুর রহিম (১৯)।
ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল

কার্তিকের রেকর্ড ভাঙলেন
চলতি আইপিএলেই ধোনির টি ২০-তে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরার রেকর্ড টপকে গিয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। এদিন সেই কার্তিকের ক্যাচ তালুবন্দি করেই ফের তাঁকেই টপকে গেলেন ধোনি। আইপিএলে আজ কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে দুটি ক্যাচ ধরেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। আইপিএলে ২১৪তম ম্যাচ খেললেন তিনি। ২০৭টি ইনিংসে তাঁর শিকারের সংখ্যা ১৫৫, ক্যাচ ধরেছেন ১১৬টি, স্টাম্প আউট করেছেন ৩৯টি। ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চারটি ক্যাচ ধরেছেন। উইকেটকিপার হিসেবে আইপিএলে শিকারের নিরিখে ধোনির পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কেকেআরের দীনেশ কার্তিক। ২০৬টি ম্যাচে কার্তিকের মোট শিকারের সংখ্যা ১৪৬, ক্যাচ ১১৫টি, স্টাম্প আউট ৩১। তাঁদের পরে রয়েছেন যথাক্রমে রবিন উথাপ্পা (৯০), পার্থিব প্যাটেল (৮১) ও ঋদ্ধিমান সাহা (৭৯)। বাংলার ঋদ্ধিমান সাহা আইপিএলে ১২৮টি ম্যাচে ৫৯টি ক্যাচ ধরার পাশাপাশি স্টাম্প আউট করেছেন ২০টি। ইনিংসে ঋদ্ধির সেরা শিকারের সংখ্যা তিনটি ক্যাচ-সহ ৪। আটে রয়েছেন ঋষভ পন্থ। ৭৮টি আইপিএল ম্যাচে পন্থের শিকারের সংখ্যা ৬০, তার মধ্যে ৫০টি ক্যাচ। কুইন্টন ডি কক রয়েছেন নবম স্থানে। বর্তমানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটকিপার। আইপিএলে মোট চারটি দলের হয়ে খেলেছেন ৭৪টি ম্যাচ, ৪৮টি ক্যাচ-সহ তাঁর শিকারের সংখ্যা ৬২। এই কজন ছাড়া আর কারও শিকারের সংখ্যা ৫০ পেরোয়নি।
ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল












Click it and Unblock the Notifications