ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনই পাখির চোখ, মোটিভেশনের কথা তুলে ধরে স্পষ্ট করলেন শামি, পাশে লক্ষ্মী
অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দলে জায়গা পাননি। এরপর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট, টি২০ ও একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ রয়েছে ভারতের।
তাতে ভারতীয় দলে মহম্মদ শামির প্রত্যাবর্তন হবে কিনা তা নিয়ে চলছে জল্পনা। বাংলার হয়ে দুটি রঞ্জি ম্যাচেই বল হাতে জ্বলে ওঠা শামি মনে করেন, এখনও তাঁর মধ্যে ক্রিকেট অবশিষ্ট রয়েছে। ফিট থেকে ভারতীয় দলের হয়ে খেলাই তাঁর মোটিভেশন।

আজ গুজরাতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাকে জেতানোয় অবদান রাখা শামি দাবি করেন, তিনি "সুস্থ" আছেন এবং ভারতীয় দলে ফেরার জন্য "প্রস্তুত"। শামি বলেন, "অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আমি বিশ্বাস করি ভাগ্যও একটি ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি মানুষ দেশের জন্য খেলতে চায়। তাই আমি (আবার) এর জন্য প্রস্তুত। আমার উদ্দেশ্য হলো সুস্থ থাকা এবং সব সময় ভারতীয় দলের জন্য উপলব্ধ থাকা। মাঠে আমি পারফর্ম করে যাব এবং বাকিটা নির্বাচকদের হাতে।"
নিজের চোট থেকে ফেরার প্রসঙ্গে শামি বলেন, "এটা একটা স্বস্তি। মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে খুব ভালো লাগছে। কারণ আপনি এমন একটি কঠিন সময় (চোট) থেকে ফিরে আসছেন এবং তারপর মাঠে থাকছেন। রঞ্জি ট্রফি, ঘরোয়া মরশুম, সাদা বলের ক্রিকেট, তারপর আইপিএল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, তারপর দলীপ ট্রফি এবং এখন এই দুটি ম্যাচ। তাই ছন্দ, ধারাবাহিকতায় খুশি। এখন মনে হচ্ছে ক্রিকেট এখনও (আমার মধ্যে) অবশিষ্ট আছে।"
শামির অনবদ্য শেষ দিনের বোলিং-এর সুবাদেই বাংলা ২০০৩ সালের পর রঞ্জি ট্রফিতে প্রথমবার গুজরাতকে হারাতে সক্ষম হলো। অস্ট্রেলিয়া সফরে সাদা বলের ভারতীয় দলে শামি নির্বাচিত না হওয়ার পর প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর এবং এই সিনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। শামি ফের জোর দিয়ে বলেছেন যে, গোড়ালির অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠার পর তিনি পুরোপুরি সুস্থ এবং খেলার সব ফরম্যাটের জন্য উপলব্ধ।
ভারতীয় দলে ফেরা নিয়ে তাঁর ভাবনা জানতে চাইলে শামি বিতর্কে না জড়ানোর পক্ষেই ছিলেন। তিনি হেসে বলেন, "আমি সব সময় কোনও না কোনও বিতর্কে জড়াই, আপনাদের ধন্যবাদ। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।" উল্লেখ্য, বাংলা-গুজরাত ম্যাচ চলাকালীন শামির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন জাতীয় নির্বাচক আরপি সিং।
বাংলা দলের হয়ে খেলার ব্যাপারে শামি বলেন, "১১ মাস আগে আমি মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ খেলেছিলাম। আর এখন এই দুটি ম্যাচ খেলে ফেললাম। আমার ভালো লাগছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সময়ে যখন আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তখন আপনার দল আপনার পাশে আছে।"
শামি আরও জানান যে তিনি কিউরেটরদের ইডেন গার্ডেন্সে সবুজ পিচ তৈরি করতে বলেছেন, কারণ তিনি মনে করেন বাংলার পেস আক্রমণ ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা। শামি বলেন, "আমি আগেই বলেছিলাম যে আমাদের একটি সবুজ পিচ দরকার, কারণ আমাদের চারজন পেসার আছে। তাঁরা ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা। আমাদের ৬ পয়েন্ট, ৭ পয়েন্ট পাওয়ার ক্ষমতা আছে যদি আমরা সবুজ পিচে খেলি।"
বাংলার প্রধান কোচ লক্ষ্মী রতন শুক্লা শামিকে ভারতীয় দলে ফেরানোর হয়ে সওয়াল করলেন। লক্ষ্মী বলেন, "মহম্মদ শামির কারও কাছ থেকে সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই একটি সার্টিফিকেট। তাঁর ভক্ত, মিডিয়া এবং তাঁদের সবার চেয়ে বড় নির্বাচক, যিনি উপরে আছেন (ঈশ্বর), তাঁর সমর্থন আছে।"
চলতি রঞ্জি ট্রফিতে সর্বাধিক উইকেটশিকারীদের তালিকায় শামি আপাতত তিন নম্বরে রয়েছেন। ২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে। এখন দেখার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দলে শামিকে রাখা হয় কিনা, যে সিরিজ শুরু ইডেনেই।












Click it and Unblock the Notifications