Mohammed Shami: উত্তরপ্রদেশের অপমান ভোলেননি! ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় থেকে শখ, নানা অধ্যায় নিয়ে অকপট শামি

Mohammed Shami: মহম্মদ শামি। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ভারতের সর্বাধিক উইকেটশিকারী। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপেও সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন। তবে শামির এই উত্থানের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না।

ক্রিকেট কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগত জীবনে ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে। সেই সব কথাই শামি জানালেন ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক এক বহুজাতিক সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

Mohammed Shami: উত্তরপ্রদেশের অপমান ভোলেননি!

বাড়ির কাছে আমবাগানের মাঠে ছোটবেলায় ক্রিকেটে হাতেখড়ি শামির। দাদা খেলতেন। চেয়ারে বসে সেই খেলা দেখতে দেখতে রোদের তেজ কমলে মাঠে নামতেন। কোচ বদরুদ্দিনের ছাত্র শামিকে নিজের রাজ্যেই ব্রাত্য থাকতে হয়েছিল। আমরোহার সাহসপুর গ্রামের শামি দাদার সঙ্গে দু-বার উত্তরপ্রদেশের ট্রায়ালে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন।

প্রথমবার তেমন কিছু মনে করেননি। পরের বছর রঞ্জি দলের ট্রায়ালে গিয়ে দেখেন তিন দিনে ১৬০০ ক্রিকেটার দেখা হবে। যেন মেলা বসেছিল। এখানে কীভাবে প্লেয়ার বাছাই হবে তা নিয়ে সংশয়ী ছিলেন শামি। নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেন শামির দাদা। ট্রায়ালে থাকা নির্বাচক প্রধান বলেছিলেন, আমার চেয়ার নড়াতে পারলে তবেই শামি সুযোগ পাবেন।

যা শুনে শামির দাদা জবাব দেন, আপনার চেয়ার নড়ানো নয়, উল্টে দেওয়াও সম্ভব। দু-দুবার উত্তরপ্রদেশের ট্রায়ালে প্রত্যাখ্যাত হয়ে শামির জেদ চেপে যায়। পরের বছর ত্রিপুরাতেও গিয়েছিলেন। লাভ হয়নি। অবশেষে কোচের উদ্যোগে কলকাতায় ট্রায়ালের বন্দোবস্ত হয়। ২৫০০ টাকা নিয়ে ট্রেনে চেপেছিলেন, বাবার দেওয়া এটিএম কার্ডের পিন নম্বরও ভুলে গিয়েছিলেন।

অরুণ লালের ক্রিকেট আকাদেমিতে শামি দেখেন রান-আপের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সিমেন্টের পিচ। তবুও সেখানে নিজের সেরাটা দিতে থাকেন। টাকা ফুরিয়ে আসছিল। নিশ্চয়তা মিলছিল না সুযোগের। অবশেষে ডালহৌসি ক্লাবের অধিনায়কের আশ্বাসে বুকে বল পান শামি। কয়েকদিন পর তাঁকে বলা হয়, লিগে খেলানো হবে, তবে টাকা পাবেন না।

সে কথা বাবা-মাকে জানান শামি। তাঁরা বলেন, এভাবে চলবে কী করে? শামি নাছোড়বান্দা। তিনি বলেন, আমি এখানে খেলবই। ট্রায়ালে প্রথম দিনে পাউরুটি, ঘুঘনি খেতে দেওয়া হয়েছিল। শামি অপেক্ষায় ছিলেন ভাতের জন্য। কিন্তু তা দেওয়ার চল ছিল না। সেই ঘুঘনি খাওয়ার কথাও মনে রয়েছে শামির।

কলকাতায় ক্লাব ক্রিকেটে প্রথম মরশুমে ৯ ম্যাচে ৪৫ উইকেট নেন। মরশুম শেষে ক্লাবের সিইওর তরফে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া আর ট্রেনের টিকিট কেটে দেওয়া হয়। নিজের প্রথম রোজগার মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন শামি। সেটা আবার তাঁকেই ফিরিয়ে দেন বাবা। নিজের কেরিয়ারে বাবা, মা, দাদার অবদানের কথা বারবার উল্লেখ করেন ভারতীয় পেসার।

ক্লাব ক্রিকেট খেলার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখে অবাক হন শামি। সতীর্থর থেকে জানতে পারেন ভারতীয় দলে সুযোগের বিষয়টি। শামি মনে করেন, রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্সেই তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতীয় দলে সুযোগের পর চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার দিনগুলিও ভোলেননি। ফিটনেস নিয়ে সতর্ক হন। রঞ্জিতে নামার আগে অবধি জিমেও যাননি।

নিজের গ্রামে অনেকে সেনাবাহিনীর কাজে যোগদানের লক্ষ্যে অনুশীলন করতেন। দৌড়, হাই জাম্প, লং জাম্প, এগুলিই শামির ক্রিকেটজীবনের প্রথমদিকের অনুশীলন ছিল। মাছ ধরা, ঘোরা, ড্রাইভিংয়ের শখ রয়েছে। তবে এখন জাতীয় সড়কে বাইক চালানোর ঝুঁকি নেন না। অটো থেকে বাস, ট্রাক থেকে ট্রাক্টর চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বাবার নজর এড়িয়ে ট্রাক্টর চালাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটিয়েছিলেন। ব্রেক অবধি পা পৌঁছচ্ছিল না। ট্রাক্টর নিয়ে সটান জলাশয়ে। অর্ধেকটা ডুবে ট্রাক্টর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পালিয়েছিলেন, তবে পরে বাবার বকুনি জোটে। চার চাকার গাড়ি চালানো এখন তাঁর পছন্দের। বন্ধুর কথায় ট্রাক চালিয়েছিলেন মাঠে। বাস চালাতে গিয়ে ভেবেছিলেন এটা সম্ভব হবে না। তবে জেদেই সব অসম্ভবকে সম্ভব করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ঝড়ঝাপটার কথাও উল্লেখ করেছেন শামি। স্ত্রী হাসিনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। শামির কথায়, আমি কোনও দোষ করিনি। কাউকে খুন করিনি। তাই পালানোর প্রশ্ন নেই। যে অন্যায় করে সে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরিবার পাশে ছিল। পরে ঠিক করি, নতুনভাবে শুরু করতে হবে।

যেহেতু তিনি অন্যায় করেননি, ফলে ঘরে নিজেকে আবদ্ধ রাখবেন না বলেও জেদ চাপে। দেরাদুনে গিয়ে শুরু করে দেন অনুশীলন। উল্লেখ্য, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় বিশ্বকাপের আগে কলকাতায় জামিন নিয়ে শামিকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলতে যেতে হয়েছিল। শামি বলেন, কেউ উপরে উঠতে চাইলে তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা হয়। কেউ কষ্ট করে সেখানে ওঠার চেষ্টা করেন না।

তবে অপরের ভালো দেখে যাঁরা জ্বলার, তাঁদের পাত্তা না দিয়েই এগোতে চান শামি। বলেন, খারাপ সময়ে পাশে থাকার লোক কম থাকে। ফলে বন্ধু বাছাইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সাক্ষাৎকারে শামি জানিয়েছেন, নিজেকে ফিট রাখতে সুশি তাঁর পছন্দ। তবে লোভে পড়ে বিরিয়ানি চেখে দেখার লোভ সামলাতে পারেন না। শেফরাও তাঁর জন্য বিরিয়ানি বানান। আরসালানের বিরিয়ানিও পছন্দের। কেকেআরে খেলার সময় হোটেলে সেই বিরিয়ানি আসতো। অনেকে মিলে খেতেন। তারপর বিরিয়ানির পাত্র রাখা হতো শামির ঘরের সামনে। ফলে সবাই ভাবতেন, শামি একাই বিরিয়ানি সাবাড় করেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+