Mohammed Shami:ময়দানের তাঁবুতে কেটেছে রাত, মাইলস্টোন ম্যাচের আগে রইল শামির জীবনের অজানা গল্প
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পরবর্তী ভারতীয় ক্রিকেটে দুই উজ্জ্বল বঙ্গ প্রতিনিধির নাম ঋদ্ধিমান সাহা ও মহম্মদ শামি। শিলিগুড়ির পাপালি আগেই দলে ব্রাত্য হয়েছেন । কিন্তু মেন ইন ব্লুতে বঙ্গ পতাকা সফল ভাবে বর্তমানে বহন করছেন মহম্মদ শামি। বুধবার নিজের ১০০ তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছেন শামি। বর্তমানে জাহির-শ্রীনাথদের রেকর্ড ভেঙে তিনিই বিশ্বকাপের ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।
উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও বাংলা থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটের মঞ্চে উত্থান হয় মহম্মদ শামির। বছর ২২ শামি ক্রিকেটের টানে উত্তর প্রদেশ থেকে চলে আসেন ক্রিকেট পাগল শহর কলকাতাতে। কেমন ছিল তিলোত্তমাতে শামির প্রথম যুগের দিনগুলি। শামির কাছে কলকাতা যৌবনের উপবন। এই ময়দানের প্রতিটি ঘাসে লেখা আছে দেশের সর্বকালের সেরা সিম বোলারের উত্থান কাহিনী।

কলকাতায় প্রথম শামি খেলেন ডালহৌসি ক্লাবে, ২০০৫ সালে। উত্তরপ্রদেশ থেকে বাকি ৩ খেলোয়াড়ের সঙ্গেই এসেছিলেন শামি। ডালহৌসি ক্লাবে প্রথম ট্রায়াল দেন। রত্ন চিনতে ভুল করেননি ডালহৌসি ক্লাবের তৎকালীন সচিব তপন চাকি। দ্রুত সই করিয়ে দেন শামিকে।
শামির মাইলস্টোন ম্যাচের আগে অতীতে ফিরে গেলেন তপন চাকি। তাঁর কথায়, '২০০৫ সালে শামি প্রথম আসে কলকাতায়, উত্তর প্রদেশ থেকে তিনজন বোলার এসেছিল। ওদের ট্রায়াল হয়েছিল অরুণ লালের অ্যাকাডেমিতে। প্রথম বল দেখেই আমার ওকে ভালো লেগেছিল। ওকে সই করিয়ে নিই। প্রথমে আমাদের ক্লাবের ঘরেই থাকত। পরে আমরা ওকে অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দিই।'
একইসঙ্গে শামি বলেন, 'আমাকে সবথেকে বেশি মুগ্ধ করেছিল শামির সারল্য, আজও একইরকমভাবে আমাদের সম্মাণ দেয়, কোনও তারকা সুলভ ব্যবহার ওর মধ্যে নেই। ২০১৯ সালে পিঙ্ক বল টেস্টের সময় ওই আমাকে কোহলির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। আজও একই রকম ব্যবহার করে আমাদের সঙ্গে।'
ডালহৌসি ক্লাবে এক বছর খেলেছিলেন । এরপর শামিকে টাউন ক্লাবে সই করান দেবব্রত দাস। এই ক্লাব থেকেই কলকাতার ক্লাব ক্রিকেটে নিজের জাত চেনান শামি। খেলেন চার বছর এই ক্লাবে খেলেন বর্তমান ভারতীয় দলের তারকা বোলার, এই ক্লাবে খেলেই বাংলার নির্বাচকদের নজর কারেন, সুযোগও পান বাংলা দলে। শামির নামের সঙ্গে প্রবল ভাবেই জুড়ে গেছে টাউন ক্লাব। পুরানো সেই দিনের কথাই উঠে এল ক্লাব কর্তা সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের কথায়।
সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা প্রথমে খবর পাই ডালহৌসি ক্লাব একজন ভালো বোলারকে সই করিয়েছে। তৎকালীন আমাদের ক্লাবের সচিব দেবব্রত দাস শামিকে টাউনে নিয়ে আসেন। ওর কলকাতায় থাকার জায়গা ছিল না। দেবব্রত দাস নিজের ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। আমাদের খুব গর্ব হয় শামিকে নিয়ে। আমাদের ক্লাব থেকে উঠে আসা একটা বোলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।'
একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'শামি বিরিয়ানি খেতে খুব ভালোবাসত। ম্যাচ জিতলেই ওকে বিরিয়ানি খাওয়াতে হতো।'
ক্রমেই বঙ্গ ক্রিকেটের তারকা হয়ে উঠেন শামি। এরপর শামিকে মোহনবাগান ক্লাবে সই করায়। বরাবর কম কথা বলা ছেলেটার জীবন মনে হয় টেক্কা দেবে ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্যকেও। ব্যক্তিজীবনে সমস্যার সময় খুব কাছ থেকে শামিকে দেখেন সৃঞ্জয় বসু। কেমন ছিল সেইসব দিন? কিভাবে বার বার ক্যাম ব্যাক করেন শামি, সেই কথা উঠে এল প্রাক্তন মোহনবাগান সচিবের কথায়।
ময়দানের টুম্পাই দা বলেন, 'শুধু ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা নয় চোটের সমস্যাও ওকে ভুগিয়েছে বার বার। কিন্তু অসম্ভব জেদ ও মনের জোরকে সম্বল করেই ফিরে এসেছে। ও সবার কাছে একটা উদাহরণ। খারাপ সময় কারোর সারা জীবন থাকে না। শামিরও থাকেনি। ও এখন জীবেনর সেরা ছন্দে আছে।'












Click it and Unblock the Notifications