তেলঙ্গানার মন্ত্রী হিসেবে শপথ আজহারের, একনজরে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার
তেলঙ্গানার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কংগ্রেস নেতা তথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন। মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির মন্ত্রিসভায় আজ থেকে তিনিই একমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।
রাজভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা মুখ্যমন্ত্রী-সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতিতে আজহারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

আজহারউদ্দিনের অন্তর্ভুক্তির ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছেছে, যেখানে আরও দু'জনের জায়গা ফাঁকা রয়েছে। বিধানসভার শক্তি অনুযায়ী, তেলঙ্গানায় ১৮ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই মন্ত্রিত্ব লাভকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কংগ্রেস জুবিলি হিলস উপনির্বাচনে কঠিন লড়াই চালাচ্ছে, যেখানে এক লাখের বেশি মুসলিম ভোটার নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
চলতি বছরের জুন মাসে বিআরএস বিধায়ক মাগান্তি গোপীনাথ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় এই উপনির্বাচন হচ্ছে। তেলঙ্গানা সরকার গত অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রাজ্যপালের কোটায় আজহারউদ্দিনকে বিধান পরিষদের সদস্য (এমএলসি) হিসেবে মনোনীত করেছিল। তবে রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা এখনও এই নিয়োগের অনুমোদন দেননি।
আজহারউদ্দিন ২০২৩ সালের নির্বাচনে জুবিলি হিলস বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ফলে জুবিলি হিলস বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে আজহারকে মন্ত্রী করার উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। যদিও তাতে লাভ হয়নি। আজহারকে মন্ত্রী করার বিষয়টি বিহার বিধানসভা নির্বাচনেও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের মন জয়ে হাতিয়ার করতে পারে কংগ্রেস।
২০০০ সালে কুখ্যাত ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আজহারের ক্রিকেট কেরিয়ার আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায় এবং বিসিসিআই তাঁকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। তবে ২০১২ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিল। আজহারউদ্দিন ২০০৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং একই বছর উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাজস্থানের টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি হেরে যান।
২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর আজহারকে তেলঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। হায়দরাবাদের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুযোগ পাননি। এরপর আজহারউদ্দিন ২০২৩ সালের নির্বাচনে জুবিলি হিলস বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, হেরেও যান।












Click it and Unblock the Notifications