টি ২০ বিশ্বকাপের দল দেখে ভারতের বড় ঝুঁকি চিহ্নিত করলেন জনসন, মহম্মদ শামির জন্য খুলতে পারে দরজা?
অস্ট্রেলিয়ায় টি ২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারতের দল ঘোষণার পর থেকেই চলছে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, মহম্মদ শামিকে এই দলে রাখা উচিত ছিল। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন স্পিডস্টার মিচেল জনসন মুখ খুললেন ভারতের দল গঠন নিয়ে। ভারতীয় নির্বাচকদের বড় ঝুঁকিও তিনি চিহ্নিত করেছেন।

শামিকে নিয়ে চর্চা অব্যাহত
ভারতের টি ২০ বিশ্বকাপের দলে চার বিশেষজ্ঞ পেসার- জসপ্রীত বুমরাহ, হর্ষল প্যাটেল, ভুবনেশ্বর কুমার ও অর্শদীপ সিংকে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছেন অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। এঁদের মধ্যে বুমরাহ ও হর্ষল চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন। এশিয়া কাপে ভারতের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছিল অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের বিষয়টি। এরপরই মহম্মদ শামিকে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি ২০ বিশ্বকাপের দলে রাখার পক্ষে সওয়াল করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে শোনা যায়, নির্বাচকরা শামিকে শুধু টেস্ট ও ওয়ান ডে-তে খেলাতে চান। যদিও সেই তত্ত্ব খারিজ হয়ে গিয়েছে শামিকে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি ২০ সিরিজের দলে রাখার ফলে। বিশেষজ্ঞরা নির্বাচকদের দিশাহীনতার উল্লেখ করে বলেন, শামি আইপিএলে সফল হয়েছিলেন। ফলে টি ২০ বিশ্বকাপের কথা ভেবে তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখে নেওয়া যেত। সেটা হলে শেষ লগ্নে এসে এতটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হতো না।

শেষ মুহূর্তে রিজার্ভ
শামি গত টি ২০ বিশ্বকাপের পর থেকে একটিও টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি। একটি সংবাদমাধ্যম এমন দাবি করে, ভারতের টি ২০ বিশ্বকাপের দল গঠনের সময় শামি ও অশ্বিনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় ও অধিনায়ক রোহিত শর্মা স্পিন বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে অশ্বিনকে দলে চান। সেই ইচ্ছাকে মান্যতা দেন নির্বাচকরা। শামিকে রাখা হয় রিজার্ভ হিসেবে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক উইকেটে স্পিনাররা কতটা কার্যকরী হবেন বা ভারত কতজন স্পিনার নিয়ে নামবে সেটাই বড় প্রশ্ন।

অস্ট্রেলিয়ায় সফলতম
ভারতীয় দলে যতজন পেসার রয়েছেন তাঁদের চেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় শামি অনেক বেশি সফল। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে ৫৩ উইকেট নিয়েছেন। ব্রেক থ্রু দিতে পারদর্শী শামি পাওয়ারপ্লে-র ওভারে অস্ট্রেলিয়ার পিচে প্রতিপক্ষের কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এক নির্বাচককে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শামি যেহেতু ১০ মাসের বেশি সময় টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি তাই তাঁকে সরাসরি টি ২০ বিশ্বকাপের দলে রাখা যায়নি। সব কিছুর একটি প্রক্রিয়া থাকে। শামিকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দেখে নেওয়া হবে। এই ৬টি টি ২০ আন্তর্জাতিকে কোনও বোলারের ফিটনেস নিয়ে সমস্যা থাকলে বা ছন্দে নেই বলে মনে হলে শামির সামনে টি ২০ বিশ্বকাপের দরজা খুলতে পারে। শামির অনুপস্থিতিতে ভারতীয় দলে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন হর্ষল প্যাটেল। তিনি বা বুমরাহর মধ্যে কোনও একজন ফিট না হলে শামিকে টি ২০ বিশ্বকাপের দলে রাখা যেত বলে দাবি ওই নির্বাচকের।

জনসনের পরামর্শ
এরই মধ্যে ভারতীয় শিবিরের জন্য চিন্তার কথা শুনিয়েছেন মিচেল জনসন। তিনি বলেন, যদি দলে ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার ও কয়েকজন স্পিনারের সঙ্গে মাত্র চারজন বিশেষজ্ঞ পেসার দলে রাখা হয়, সেটা কিছুটা ঝুঁকিরই। দল দেখে মনে হচ্ছে, ভারতের একাদশে দুই বিশেষজ্ঞ পেসার, অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া ও দুই স্পিনার থাকবেন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় তিনজন বোলারকে খেলানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিছু পরিস্থিতিতে চারজন পেসারও খেলানো যায়। পারথে তেমনটা প্রয়োজন হতে পারে। সেখানে দলে চারজন বিশেষজ্ঞ পেসার থাকলে সেটা ঝুঁকিপূর্ণই। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে সব সময়ই যে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগে বল করতে হবে তা নয়। পেস ও অতিরিক্ত বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে লেংথে ফোকাস রাখতে হবে, শর্ট পিচ ডেলিভারিও কার্যকরী হবে বলে অভিমত জনসনের।












Click it and Unblock the Notifications