লিচের কনকাসনে পরিবর্ত পার্কিনসন, লর্ডসে 'ঐতিহাসিক' টেস্ট অভিষেকের ডাক পেয়েই কী করলেন জানেন?
ম্যাট পার্কিনসন। আপাতত ইংল্যান্ডের এই ক্রিকেটারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হবে না-ই বা কেন? এমনভাবে যে তাঁর টেস্ট অভিষেক হতে পারে কল্পনাতেও আনেননি। লর্ডসে গতকালই শুরু হয় ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্ট। বাউন্ডারি লাইনের ধারে চার বাঁচাতে গিয়ে মাথায় চোট পান জ্যাক লিচ। কনকাসনের লক্ষণ থাকায় তিনি ছিটকেও যান টেস্ট থেকে। এরপরই পার্কিনসনকে তলব।
|
ইতিহাসে পার্কিনসন
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাট পার্কিনসনের নাম লেখা থাকছে ইংল্যান্ডের প্রথম কনকাসন সাবস্টিটিউট হিসেবে। টেস্টের প্রথম দিনে ষষ্ঠ ওভারে চার বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন লিচ। তিনি পয়েন্ট অঞ্চলে ফিল্ডিং করছিলেন। স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে ডেভন কনওয়ের ব্যাট ছুঁয়ে বল থার্ড ম্যান বাউন্ডারির দিকে যাচ্ছিল। সেটিই থামানোর প্রয়াস চালাতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম দেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেও ছিটকে যেতে হয় লিচকে। তিনি যেভাবে পড়ে গিয়ে চোট পান তাতে দুই দলের মেডিক্যাল স্টাফরাই তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলে তিনি দিন সাতেকের মধ্যে খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা দ্বিতীয় টেস্টেও লিচ অনিশ্চিত।
|
লিচের কনকাসন
এর আগে, দু-বার লিচ কনকাসনের কবলে পড়েন। একবার নিজের বাড়িতে সিঙ্কে মাথা লেগে অচৈতন্য হয়ে গিয়েছিলেন। আরেকবার মর্নি মরকেলের বলে ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় চোট পান। ফের লিচ কনকাসনের শিকার লর্ডস টেস্টে। এরপরই পার্কিনসনকে ডেকে পাঠানো হয় কনকাসন পরিবর্ত হিসেবে। ২৫ বছরের পার্কিনসন বুধবার রাতে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে টি ২০ ব্লাস্টের ম্যাচ খেলেছিলেন। টেস্ট দলে যোগ দেওয়ার ডাক পেতেই তড়িঘড়ি ম্যানচেস্টার থেকে রওনা দেন।
|
দীর্ঘ পথ পাড়ি
৩২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যোগ দেন দলের সঙ্গে। ২০১৯ সালে আইসিসি কনকাসন সাবস্টিটিউট রাখার অনুমতি দেয়। লর্ডস টেস্টেই জোফ্রা আর্চারের বলে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন স্টিভ স্মিথ। ফলে মার্নাস লাবুশানে হন প্রথম কনকাসন সাবস্টিটিউট। পার্কিনসনের টি ২০ আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০১৯ সালে, পরের বছরের গোড়ায় হয় একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক। একদিনের আন্তর্জাতিকে ৫টি ও টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৬টি উইকেট রয়েছে। ৩৭টি প্রথম শ্রেণির ম্য়াচে রয়েছে ১২৬ উইকেট।
|
লর্ডস জমজমাট
এদিকে, লর্ডস টেস্টও জমজমাট। প্রথম দিনে পড়ল ১৭ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের ১৩২ রানের জবাবে দিনের শেষে ইংল্যান্ড ৩৬ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান তুলেছে। নিউজিল্যান্ডের কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম সর্বাধিক ৪২ রান করেন, অভিষেক টেস্টে ইংল্যান্ডের পেসার ম্যাথু পটস ৯.২ ওভারে ১৩ রানের বিনিময়ে নেন চার উইকেট। ইংল্যান্ড ব্যাটারদের মধ্যে জ্যাক ক্রলে ৪৩, অ্যালেক্স লিস ২৫ ও জো রুট ১১ রান করেন, বাকিরা কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাননি। ৯২ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ১০০ রানের মাথায় পড়ে সপ্তম উইকেট। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট ও কাইল জেমিসন দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications