Manoj Tiwary: মনোজ আবেগের বশে নেওয়া অবসর ভাঙলেন, সব ফরম্যাটেই কি খেলবেন? বাংলার নেতৃত্বে কে?
Manoj Tiwary: আবেগের বশেই ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েছিলেন। সকলকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়ে। যদিও সেই সিদ্ধান্তটি ছিল স্বার্থপরের মতো। আজ ইডেনে এসে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এমনই দাবি করলেন মনোজ তিওয়ারি।
মনোজ জানিয়েছেন, প্রথমে স্ত্রী সুস্মিতা ও পরে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে কথা বলেই ধাতস্থ হন। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে তখন থেকেই অবসর ভেঙে ফিরে আসার চিন্তাভাবনা শুরু।

সিএবির মিডিয়া সেন্টারে মনোজকে নিয়ে আজ সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্নেহাশিস এবং সিএবির সচিব নরেশ ওঝা। স্নেহাশিস বলেন, আমি কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম মনোজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জেনে। কেন না, আমরা ভালো খেলেছি গত মরশুমে। তাছাড়া তিন বছরে দু-বার রঞ্জি ফাইনাল খেলা কঠিন ব্যাপার। ফাইনাল বাদে আমরা রঞ্জিতে বাংলা ভালোই খেলে। তাই মনোজকে ফোন করেছিলাম।
পাঁচ দিন আগে কী পরিস্থিতিতে অবসর ঘোষণা করেছিলেন তাও জানান মনোজ। বলেন, "আমি বাড়িতে একাই ছিলাম। স্ত্রী জিমে গিয়েছিল। আমি বরাবরই ইমোশনাল। যাঁরা আবেগপ্রবণ হয় তাঁদের কাছে হঠাৎ করে একটা সময় সব কিছু ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই। স্ত্রী আমার পোস্ট দেখে বাড়ি ফিরে প্রথমে বকাবকি করে। তারপর বোঝাতেও থাকে যে, এত বছর খেলার পর এভাবে বিদায় ঠিক নয়।"

মনোজ বলেন, স্নেহাশিসদার সঙ্গেও আমার কথা হয়। তখন উপলব্ধি করি, পূর্বসূরীরা যেমন পথ দেখিয়েছেন আমার ক্ষেত্রেও তেমনভাবেই চলা উচিত। অবসরের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হতে পারে না। এটা হওয়া দরকার সমষ্টিগতভাবে। আমিও ভেবে দেখলাম, গত বছর আমি খারাপ খেলিনি। আমাদের দল ভালো খেলেছে। আমিও একটা বছর খেলার কথা দিয়েছিলাম। তাই এই সিদ্ধান্ত বদল।
রাজনৈতিক চাপ তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল না বলে দাবি মনোজের। তিনি বলেন, আমি এখন সাদা বলের ক্রিকেট খেলি না। ফলে সময় আছে। শিবপুরে বিধানসভা এলাকায় কাজ ভালো হচ্ছে, আমি নিজে সেখানে থাকি। ফলে ক্রিকেট আর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছি। প্রথম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকে খেলার বিষয়ে উৎসাহ, সমর্থন পাই।

রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজের কথায়, আর একটা বছর খেলেই অবসর নেব। তখন আর মত বদলাব না। আমাদের দল ভালো। কোচ, সাপোর্ট স্টাফরা ভালো। আরও একবার চেষ্টা করে দেখি। রঞ্জি জিতে সিএবি সভাপতির হাতে তুলে দিতে চাই। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সিএবি ক্রিকেটারদের জন্য যা করে, অন্য কোনও সংস্থা তা করে না।
মনোজ যাতে অবসর ভেঙে ফিরে আসেন সেজন্য ইডেনের সামনে তাঁর ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড হাতে ক্রিকেটপ্রেমীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা বলতে থাকেন মনোজের অবসর মানছি না, তাঁর নেতৃত্বে রঞ্জি জিততে চাই। মনোজকে অধিনায়ক রাখা হবে কিনা সেটা নির্বাচকদের ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছেন স্নেহাশিস। তবে ইঙ্গিত মিলেছে, মনোজই রঞ্জিতে বাংলার অধিনায়ক হবেন।
অবসর ভাঙলেও সাদা বলের ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা নেই মনোজের। তিনি বলেন, ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এবার কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। অধরা রঞ্জি জয়ের লক্ষ্যপূরণে ধাবমান হবে, তারই ফাঁকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করার কাছাকাছিও রয়েছেন মনোজ। নিজের ফিটনেস নিয়েও সন্তুষ্ট। আজ থেকেই কোচ, সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পরিকল্পনা স্থির করতে চান।
(ছবি- সিএবি মিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications