স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌরের শতরান, মহিলা বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বড় টার্গেট রাখল ভারত
মহিলা বিশ্বকাপে ফের জয়ের সরণিতে ফেরার আশা জাগাল ভারত। ব্যাটিং নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল তা আজ কেটে গেল হ্যামিলটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে মিতালি রাজের ভারত ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান করেছে। স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌর যথাক্রমে ১২৩ ও ১০৯ রান করেন। তাঁদের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ওঠে ১৭৪ বলে ১৮৪ রান।
লড়াইয়ে ফেরাল স্মৃতি-কৌর জুটি
মহিলাদের বিশ্বকাপে কৌরের এটি তৃতীয় শতরান। দ্বিতীয় শতরান করে মিতালি রাজকে স্পর্শ করলেন ডেপুটি স্মৃতি মান্ধানা। এখনও অবধি বিশ্বকাপে অপরাজেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের এটি মরণ-বাঁচন লড়াই। এদিন ওপেনিং জুটিতে ৬.৩ ওভারে ওঠে ৪৯ রান। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া করেন ২১ বলে ৩১, ৬টি চারের সাহায্যে। মিতালি রাজ ১১ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। ২১ বলে ১৫ রান করে আউট হন দীপ্তি শর্মা। মিতালি আউট হয়েছিলেন ৯.৩ ওভারে ৫৮ রানের মাথায়, দীপ্তি আউট হলে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৩.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। সেখান থেকে ৪২.৩ ওভার পর্যন্ত ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যায় স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌরের জুটি।
ঝড়ের গতিতে
৩০ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৬০। ৪৯ ও ৫০তম ওভারে ২ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ৬ রান এলেও ভারত ক্যারিবিয়ানদের ৩১৮ রানের টার্গেট দিতে পারল মান্ধানা-কৌর জুটির সৌজন্যেই। স্মৃতির হাফ সেঞ্চুরিটি এসেছিল ৬৬ বলে, কৌরের ৬১ বলে। ১০৮ বলে শতরান পূর্ণ করেন মান্ধানা, ৯টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে। হরমনপ্রীত কৌরের শতরানটি এসেছে ১০০ বলে, আটটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে।
জোড়া শতরান
১৩টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ১১৯ বলে ১২৩ রান করে আউট হন স্মৃতি মান্ধানা। ১০টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে পাঁচে নামা হরমনপ্রীত করেন ১০৭ বলে ১০৯। রিচা ঘোষ ৫, পূজা বস্ত্রকার ১০ ও ঝুলন গোস্বামী ২ রানে আউট হন। স্নেহ রানা ২ ও মেঘনা সিং ১ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আনিসা মহম্মদ ৫৯ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট দখল করেন।
তৃপ্তি মান্ধানার
ভারতের ১০০ রান এসেছিল ২০ ওভারে। ২০০ রান আসে ৩৫.৪ ওভারে। তিনশোর গণ্ডি ভারত পেরোয় ৪৭.১ ওভারে। স্মৃতি মান্ধানা বলেন, যে ইতিবাচকভাবে ইয়াস্তিকা খেলতে শুরু করেন সেটাই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিন উইকেট পড়ে যায় আমি একটু সতর্ক থেকে উইকেটের অপর প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করছিলাম। আমি এমনিতে ৯০ থেকে ১০০ স্ট্রাইক রেটে খেলে থাকি, কিন্তু প্রথম দিকে সেটা এদিন করতে পারিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী। আগের ম্যাচের পর বড় রান তোলার রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যেভাবে হ্যারি (হরমনপ্রীত)-র সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়তে পেরেছি, তাতে আমি খুশি। আগের ম্যাচে পরাজয় এবং এদিনও তিন উইকেট পড়ার পর যে শতরানটি করতে পেরেছি সেটা আমার করা শতরানগুলির মধ্যে প্রথম দুই বা তিনে থাকবে। উল্লেখ্য, মহিলাদের একদিনের আন্তর্জাতিকে এটি স্মৃতির পঞ্চম শতরান, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়।
(প্রচ্ছদের ছবি- স্মৃতি মান্ধানার ইনস্টাগ্রাম)












Click it and Unblock the Notifications