মহম্মদ শামিকে টি ২০ বিশ্বকাপের দলে না দেখে অবাক মদন লাল! কেন ব্রাত্য অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার? জানুন কারণ
ভারতের টি ২০ বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়নি মহম্মদ শামিকে। রিজার্ভ ক্রিকেটারদের তালিকায় নাম রয়েছে। যদিও বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি ২০ সিরিজের দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ শামি। এশিয়া কাপে ভারতের ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি ২০ বিশ্বকাপের দলে শামিকে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেকেই। যদিও দল নির্বাচনে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তহীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার ছবিই ধরা পড়েছে।

শামির জন্য সওয়াল
হর্ষ ভোগলে গতকালই বলেছিলেন, শামি টি ২০ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় থাকলে আইপিএলের পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখে নিতেই পারতেন নির্বাচকরা। এই বক্তব্য একশো শতাংশ খাঁটি। একটা সময় বলা হচ্ছিল, নির্বাচকরা শামিকে শুধু টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকেই খেলাতে চান। যদিও শামি কখনও নিজে এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। আইপিএলে বল হাতে সফল হয়েছেন, গুজরাত টাইটান্সকে খেতাব জেতানোর পিছনে ভূমিকাও নিয়েছেন। যদিও তাঁকে গত টি ২০ বিশ্বকাপের পর থেকে আর টি ২০ ফরম্যাটে ভারতীয় দলে সুযোগই দেওয়া হয়নি। এ পর্যন্ত তবুও ঠিকই ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে দুটি টি ২০ সিরিজের দলে রেখে টি ২০ বিশ্বকাপে রিজার্ভ তালিকায় রাখা কোন ভাবনায় সেটা নিয়েই চলছে চর্চা।

অটোমেটিক চয়েস ব্রাত্য
ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেছিলেন, জসপ্রীত বুমরাহর পর মহম্মদ শামি ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার নিরিখে অটোমেটিক চয়েস। বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারিও বলেছিলেন, শামিকে অবশ্যই টি ২০ বিশ্বকাপে খেলানো উচিত। এমনকী গতকাল প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর প্রাক্তন প্রধান কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত বলেন, তিনি নির্বাচক প্রধান হলে অবশ্যই তাঁর দলে শামিকে রাখতেন। তার প্রধান কারণ হলো, শামি ভালো বোলিং করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় পেস সহায়ক উইকেটে বাউন্স আদায় করে নিয়ে শুরুর দিকে কয়েকটি উইকেটও তুলে নিতে পারতেন। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনও ভারতের টি ২০ বিশ্বকাপ দলে দেখতে না পেয়ে অবাক। সম্প্রতি প্রাক্তন ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রীও শামিকে খেলানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।

মদন লাল অবাক
তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মদন লাল বলেছেন, শামি বিগ ম্যাচ বোলার। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার ক্ষমতা রাখেন। আমি বুঝতে পারছি না কেন তাঁকে ১৫ সদস্যের দলে রাখা হলো না। শামি এমন একজন বোলার যিনি প্রথম তিন ওভারে উইকেট তুলে নিতে পারেন। কোনও টুর্নামেন্ট জিততে গেলে অবশ্যই ভালো বোলিং আক্রমণ প্রয়োজন। কোনও দল ১৮০ রান তুলেও বোলিং দুর্বল হলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে না। অস্ট্রেলিয়ায় টি ২০ বিশ্বকাপ, ভারতীয় দলে তিনজন স্পিনার। আমার মনে হয় না অস্ট্রেলিয়ায় স্পিনাররা খুব বেশি সুবিধা আদায় করতে পারবেন। কোনও একটি দিন বা কোনও উইকেটে স্পিনাররা সফল হতে পারেন। তবে সামগ্রিক টুর্নামেন্টের কথা ধরলে শক্তিশালী পেস বোলিং রাখাই উচিত ছিল। মদন লাল বলেন, আমি খুশি জসপ্রীত বুমরাহ ও হর্ষল প্যাটেল ফেরায়। সামনের সিরিজগুলিতে তাঁদের ফিটনেসের দিকে নজর থাকবে। অর্শদীপ সিং ভালো বল করছেন, ভুবনেশ্বর কুমার রয়েছেন। তবুও বলব, টি ২০ বিশ্বকাপের দলে শামিকে রাখা উচিত ছিল। অভিজ্ঞ শামি অস্ট্রেলিয়ায় বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকরী হতে পারতেন বলেই মত মদনের।

কেন ছিটকে গেলেন অভিজ্ঞ পেসার?
এরই মধ্যে সূত্রকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, টি ২০ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে লড়াই চলছিল মহম্মদ শামি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মধ্যে। দ্রাবিড় ও রোহিতের সমর্থন ছিল অশ্বিনের প্রতি। ডাউন আন্ডারে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা অশ্বিনেরও রয়েছে। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের যুক্তি ছিল, খুব কম দলেই বাঁহাতি ব্যাটারের সংখ্যা বেশি। সেক্ষেত্রে শামির চেয়ে কার্যকরী বেশি হবেন অশ্বিনই। নির্বাচকরা সেই যুক্তি মেনে নিতেই দলে জায়গা হয়নি শামির।












Click it and Unblock the Notifications