লক্ষ্মীরতন বাংলার কোচ হয়ে চলতে চান সৌরভের দেখানো পথেই, ডেপুটি সৌরাশিস, ব্যাটিং পরামর্শদাতা রামন
লক্ষ্মীরতন শুক্লা ও সৌরাশিস লাহিড়ী জুটিতেই আস্থা রাখল সিএবি। এবারের রঞ্জির পর বাংলার হেড কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অরুণ লাল। তারপর থেকে চলছিল নতুন কোচের সন্ধান। অবশ্য শেষ অবধি লক্ষ্মীরতন শুক্লাই সকলকে পিছনে ফেলে বাংলার হেড কোচ হলেন। তিনি ছিলেন অনূর্ধ্ব ২৫ দলের কোচের পদে। লক্ষ্মীর সঙ্গে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সৌরাশিস। ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে বাংলার প্রাক্তন কোচ ডব্লিউভি রামনকে নিয়োগের কথা জানিয়েছেন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া।

বাংলার লক্ষ্মীলাভ
সিএবি সূত্রে গতকালই জানা গিয়েছিল লক্ষ্মীরতন শুক্লার নামই আসন্ন মরশুমের জন্য বাংলা দলের কোচ হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে। রামনকে ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগের কথাও গতকালই জানা গিয়েছিল। সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া, সচিব স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্য়ায়রা গতকাল অনেক রাত অবধি সিএবিতে বৈঠক করে এই নামে সিলমোহর দেন। সূত্রের খবর, তার আগে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরামর্শও নেওয়া হয়। অভিষেক নিজে ফোন করে রাজি করান ডব্লিউভি রামনকে। আলাদা করে বোলিং কোচের ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শিবশঙ্কর পালই বাংলা দলে বোলিং কোচের ভূমিকায় থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।

শুক্লা-সৌরাশিস জুটি
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আসন্ন ক্রিকেট মরশুমের জন্য কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের নাম ঘোষণা করেন অভিষেক। লক্ষ্মীরতন শুক্লা নিজে এদিন সিএবিতে গিয়েছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানান সিএবি সভাপতি। ছিলেন সচিব স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস, কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সহ সভাপতি নরেশ ওঝা। অভিষেক বলেন, বাংলা দলের কোচ হিসেবে আমাদের অত্যন্ত কাছের লক্ষ্মীরতন শুক্লার নাম ঘোষণা করতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমাদের সমস্ত পদাধিকারীরা সর্বসম্মতভাবে তাঁকে কোচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও যাঁরা কোচ হওয়ার দৌড়ে ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্যকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। আমি আশা করি, তাঁর প্রশিক্ষণে বাংলা দল সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারবে। বাংলা দলের প্রতি লক্ষ্মীরতন শুক্লার দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। ক্রিকেটারদের সঙ্গে তিনি সহজেই মিশে যেতে পারবেন। দ্রুত বাংলা দলের অনুশীলন শুরু হয়ে যাবে বলেও জানান অভিষেক।

নতুন চ্যালেঞ্জ
বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা সিএবি কর্তাদের তাঁর উপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা আমার কাছে একটা নতুন দায়িত্ব। যখন বাংলার হয়ে খেলতাম তখনও যেভাবে সেরাটা দিতাম কোচ হিসেবেই সেটাই দেব। আমি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। বাংলার আগের কোচেরা অসাধারণ কাজ করে গিয়েছেন। অনেক সময়ই আমরা ট্রফির কাছাকাছি পৌঁছেও জিততে পারিনি। আগামী মরশুমের টুর্নামেন্টগুলিতে শিখরে পৌঁছাতে হবে।

কোচের দর্শন
লক্ষ্মীর কথায়, আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকে সব কিছু করতে পারেন। প্রত্যেককে নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে বলব। কঠিন পরিস্থিতিতে স্নায়ুর চাপ কীভাবে সামলাতে হয় সেটা সকলকে বুঝিয়ে সেইমতো দলকে তৈরি করব। বাংলা দলে যাঁরা সুযোগ পান তাঁদের দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকে না। নতুন বছর, নতুন মরশুম। আশা করি, সব কিছু ভালোই হবে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। যখন খেলতাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলতেন বড় কিছু চিন্তা না করে সব কিছু স্বাভাবিক রেখে এগোতে। সেটাই আমি অনুসরণ করি। বাংলার ক্রিকেটকে সকলে মিলেই সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ধরা পড়েছে এলআরের কথায়। ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রে বয়সভিত্তিক দলের কোচেদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন লক্ষ্মী।
(ছবি- সিএবি মিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications