কী ভাবে বিগত চার বছরে জিম্বাবোয় ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা ওপেনার শুনুন তাঁর মুখ থেকেই
কী ভাবে বিগত চার বছরে জিম্বাবোয় ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা ওপেনার শুনুন তাঁর মুখ থেকেই
সঠিক তারিখটা মনে নেই লালচাঁদ রাজপুতের তবে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে মাঠে নেমেছিল জিম্বাবোয়ে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজপুত বলেন, "ম্যাচের এক দিন আগে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমায় জানানো হয় টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যার কারণে সিরিজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন সিন ইরভিন, ক্রেগ উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা এবং ব্রেন্ডন টেলর।" ওই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল জিম্বাবোয়ে ৫-০ ব্যবধানে পাকিস্তানের কাছে তারা পরাজিত হয়েছিল।
জিম্বাবোয়ে দল ২০১৯ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তার পর আইসিসি নির্বাসিত করে তাদের। সেই খারাপ সময় কাটিয়ে এসে চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে সেরা ১২-এ তাঁর দল লড়াই চালাচ্ছে তাঁর দল এবং এতে স্বভাবতই খুশি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম নক্ষত্র। প্রাক্তন এই ওভেনারের কথায় তৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠছিল যখন তিনি বলছিলেন, "২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হই আমরা এবং তার পর নির্বাসিত হতে হয়। সব থেকে খারাপ সময় ছিল সেটা। ফলে বিগত চার বছরে এই পরিবর্তনে আমি গর্বিত।"
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিম্বাবোয়ের রুদ্ধশ্বাস এক রানে জয় টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এই মুহূর্তে জিম্বাবোয়ের জাতীয় দলের টেকনিল্যাল ডিরেক্টরের থেকে বেশি খুশি আর কে হতে পারেন। ২০০৭ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা রাজপুত বলেন, "আমার স্বপ্ন ছিল এই দলটাকে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া এই টি-২০ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করানোর। আমি ছেলেদের উপর গর্বিত।" কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত দলের সঙ্গেই ছিলেন রাজপুত কিন্তু দিওয়ালি তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চেয়েছিলেন তাই অস্ট্রেলিয়ায় আর যাননি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিম্বাবোয়ের ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা। ব্যাট হাতে এই ম্যাচে বড় অবদান রাখতে না পারলেও বল হাতে ম্যাচে রঙ বদলে দেন সিকান্দার। ২০২২ সালে সিকান্ডার পাঁচটি ওডিআই শতরান করেছেন। ২০২২-এর আগে তাঁর একমাত্র শতরানটি এসেছিল ২০১৫ সালে। রাজপুত বলছিলেন, "অত্যন্ত আবেগি ছেলে সিকান্দার। আমার মনে আছে যখন আমি জিম্বাবোয়ের দায়িত্বল নিই তখন ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম 'তুই কটা ম্যাচ জিতিয়েছিল জিম্বাবোয়েকে?' ও ৪০-৫০ রান করে দলে জায়গা ধরে রেখেই খুশি ছিল। আমি সিনিয়র ছেলেদের বলেছিলাম, যদি তোমরা সিনিয়ররা যদি বাড়তি দায়িত্ব না নাও তা হলে জিম্বাবোয়ের হয়ে খেলার কোনও মানে হয় না। দলকে যদি হারেই তা হলে আমি তরুণ ছেলেদের খেলাবো, ফলাফলের কথা না ভেবে। আমার এই কথাটা ওদের চিন্তা ভাবনায় বদল এনেছিল।"
জিম্বাবোয়ের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না রাজপুতের। তিনি গ্রেটার নয়ডায় আফগানিস্তানকে কোচিং করিয়ে খুশি ছিলেন। কিন্তু আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আধিকারিকরা তাঁকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে জুনিয়ার বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করার লক্ষ্যে কাবুলে আসতে বলে তখন পরিস্থিতি বদলায়। একটা সময় ভারতীয় এ দলকে কোচিং করানো রাজপুত বলেন, "আমি ওদের বিশেষ ভাবে বলেছিলাম যে আমি কাবুলে যাব না। যখন ওরা জোর করে তখন আমি পদত্যাগ করি। এক সপ্তাহের মধ্যে মাকোনি আমায় ফোন করেন এবং প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন।"
পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেছেন, "বিশ্বমানের পেস অ্যাটাক রয়েছে পাকিস্তানের কিন্তু ওদের ব্যাটিং দুই জনের উপর নির্ভর করে। সাধারণের থেকে নিম্ন মানের মিডল অর্ডার। একমাত্র শাদাব খানকে একজন কমপ্যাক্ট ক্রিকেটার মনে হয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications