অনবদ্য ভুবনেশ্বরেও পরাস্ত ভারত! ক্লাসেনের কামব্যাকে কটকেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা
কটকে বরাবাটি স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৫ সালে ভারতকে হারিয়ে এখানেই তিন ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল প্রোটিয়ারা। তেম্বা বাভুমার দল আজ পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। কঠিন পিচে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দক্ষিণ আফ্রিকার ভিত মজবুত করেন তেম্বা বাভুমা ও হেনরিক ক্লাসেন। ক্লাসেন ৩২ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ৪৬ বলে ৮১ রান করে আউট হলেন। মেরেছেন সাতটি চার ও পাঁচটি ছয়। ভুবনেশ্বর কুমার নেন চারটি উইকেট। তবু ভারতকে চিন্তায় রাখল বোলিং বিভাগ।

ভারতের পুঁজি ১৪৮
এদিন টস জিতে চলতি সিরিজে দ্বিতীয়বারের জন্য ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান তোলে। ৩৫ বলে সর্বাধিক ৪০ রান করেন শ্রেয়স আইয়ার, দুটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে। দুটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ২১ বলে ৩৪ রান করেন ঈশান কিষাণ। দুটি করে চার ও ছয় মেরে ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন দীনেশ কার্তিক। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ১, ঋষভ পন্থ ৫, হার্দিক পাণ্ডিয়া ৯ ও অক্ষর প্যাটেল ছয়ে নেমে ১০ রান করেন। কার্তিককে এদিন নামানো হয়েছিল সাতে। ৯ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন হর্ষল প্যাটেল। ভারতের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যা ছিল ৪৭। আনরিখ নরকিয়া দুটি এবং কাগিসো রাবাডা, ওয়েন পার্নেল, ডোয়েইন প্রিটোরিয়াস ও কেশব মহারাজ একটি করে উইকেট নেন। তাবরেজ শামসি ২ ওভারে ২১ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি।

শুরুতে চাপে প্রোটিয়ারা
জবাবে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন ভুবনেশ্বর কুমার। তিন বলে ব্যক্তিগত চার রানে প্রথম ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে যান রিজা হেন্ডরিকস। হাতের চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি কুইন্টন ডি কক। ট্রিস্টান স্টাবসকে বাদ দিয়ে এ ম্যাচে হেন্ডরিক্স ও হেনরিক ক্লাসেন (Heinrich Klaasen)-কে দলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। রিজা আউট হলে প্রোটিয়াদের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫। নিজের পরের ওভারের পঞ্চম বলে ডোয়েইন প্রিটোরিয়াসকে ফেরান ভুবি। ৫ বলে ৪ রান করে প্রিটোরিয়াস আবেশ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ২.৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৩। ৫.৩ ওভারে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনকেও দুরন্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর। ডুসেন ৭ বলে ১ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় উইকেটটি পড়ে ২৯ রানে। পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৯, ভারতের বিরুদ্ধে টি ২০ আন্তর্জাতিকে যা দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে কম রান। ডুসেনকে আউট করে ভুবি টপকে যান রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। অশ্বিনের টি ২০ আন্তর্জাতিকে উইকেট রয়েছে ৬১টি। ভুবি পৌঁছে যান ৬২টিতে। যুজবেন্দ্র চাহাল ৬৯টি ও জসপ্রীত বুমরাহ ৬৭টি উইকেট পেয়েছেন টি ২০ আন্তর্জাতিকে।

বাভুমা-ক্লাসেন ম্যাচ ঘোরালেন
এরপরই জুটি বেঁধে হিসেব কষে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ও ক্লাসেন। ৯.১ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ১০ ওভারের শেষে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৫৭। একাদশ ওভারে হার্দিক পাণ্ডিয়া দেন ১৩ রান, দ্বাদশ ওভারে অক্ষর প্যাটেল বল করতে গেলে ক্লাসেনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ওঠে ১৯ রান। ত্রয়োদশ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করলেও এর পরের বলেই বাভুমাকে সাজঘরে পাঠান ভারতের হয়ে টি ২০ আন্তর্জাতিকে সর্বাধিক উইকেটের মালিক যুজবেন্দ্র চাহাল। চারটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে প্রোটিয়া অধিনায়ক ৩০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন। ক্লাসেন ও বাভুমার জুটিতে ৪১ বলে ৬৪ রান যোগ হয়। ১২.২ ওভারে ৯৩ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ উইকেটটি পড়ে।

অনবদ্য কামব্যাক
৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান তুলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টি ২০ বিশ্বকাপের পর এদিনই ফের দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে নামলেন। কামব্যাকেই টি ২০ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সর্বাধিক রান করলেন ক্লাসেন। শেষ পাঁচ ওভারে জেতার জন্য দরকার ছিল ৩৪। ১৬তম ওভারে চাহাল বল করতে গেলে ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার ২৩ রান নেন, ক্লাসেন দুটি ও মিলার মারেন দুটি ছক্কা। ১৭তম ওভারের শেষ বলে ক্লাসেন হর্ষল প্যাটেলের শিকার হন। ১৮তম ওভারে পার্নেলকে বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর কুমার। পার্নেল ৪ বলে ১ রান করেন। এরপর ১০ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। একটি করে চার ও ছয় মেরে ১৫ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার। ক্লাসেনের স্ট্রাইক রেট ১৭৬.০৮, মিলারের ১৩৩.৩৩।

ভারতকে ভোগাচ্ছে বোলিং
ভারতের বোলারদের মধ্যে সফলতম ভুবনেশ্বর কুমার চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। তাঁর ইনস্যুইং, আউটস্যুইং, নাকল বল সমস্যায় ফেলছিল প্রোটিয়া ব্যাটারদের। আবেশ খান তিন ওভারে ১৭ রান গিয়ে কোনও উইকেট পাননি। হর্ষল প্যাটেল ৩ ওভারে ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। হার্দিককে এদিন চতুর্থ ওভারেই আক্রমণে আনেন পন্থ। কিন্তু গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক ৩ ওভারে ৩১ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। যুজবেন্দ্র চাহাল ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল ১ ওভারে দেন ১৯ রান। ফলে দিল্লি ম্যাচের পর কটকেও বোলিং বিভাগ অস্বস্তিতে রাখল ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টকে। মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনমে ভারতকে নামতে হবে সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে। ভুবি ছাড়া উইকেট নেওয়ার মতো বোলারের অভাব ভারতকে ভোগাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুনীল গাভাসকর।












Click it and Unblock the Notifications