IPL 2021: আইপিএলের আবিষ্কার কেকেআরের আইয়ার! ওপেনার ভেঙ্কটেশ কার সিদ্ধান্তে সফল জানেন?
ভেঙ্কটেশ আইয়ার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভক্ত। দাদাকে দেখেই বাঁ হাতে ব্যাটিং করা শুরু ছক্কা মারার বাসনা নিয়ে। আইপিএল কেরিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ধামাকাদার হাফ সেঞ্চুরি করে সে কথা জানিয়েছেন ভেঙ্কটেশ। এবার সামনে এল তাঁর ওপেনার হওয়ার নেপথ্য কাহিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্কে ভারতীয় ক্রিকেট যেমন বীরেন্দ্র শেহওয়াগের মতো বিস্ফোরক ওপেনার পেয়েছিল, অনেকটা তেমনই সিদ্ধান্ত ভেঙ্কটেশকে নিয়ে নেন এক মুম্বইকর।

খুশি কোচ
আইপিএলে কেকেআরের হয়ে ওপেন করতে নেমে ভেঙ্কটেশের দুটি ম্যাচ-জেতানো ইনিংস দেখে খুশি চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত। মুম্বই তথা ভারতের প্রাক্তন উইকেটকিপার মধ্যপ্রদেশের কোচ হিসেবে প্রথম ভেঙ্কটেশকে দিয়ে ওপেন করান। এ বছরের জানুয়ারিতে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি ২০-তে গোয়ার বিরুদ্ধে। চন্দ্রকান্তের কোচিংয়েই ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মরশুমে পরপর দুই বছর রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয় বিদর্ভ। ২০১৫ সালে একদিনের ক্রিকেট ও টি ২০-তে অভিষেক হয় ভেঙ্কটেশ আইয়ারের। ২০১৮ সালে খেলেন প্রথম রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ খেলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। তখন থেকে মধ্যপ্রদেশের হয়ে ছয় বা সাতে ব্যাট করতেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার।
ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল

সিদ্ধান্তে বাজিমাত
তবে ভেঙ্কটেশের প্রতিভা ও দক্ষতা নজর এড়ায়নি চন্দ্রকান্তের। তিনিই ভেঙ্কটেশকে প্রথম ওপেন করতে পাঠান। কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে সেই ম্যাচেই ৫২ বলে ৮৭ রানের ইনিস খেলেছিলেন ভেঙ্কটেশ। পাঁচ ম্যাচে মধ্যপ্রদেশের হয়ে সর্বাধিক ২২৭ রানও করেন তিনি। মিড ডে-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত বলেছেন, আমি ভেঙ্কটেশকে টপ অর্ডারে ব্যাট করাতে চাইছিলাম। গোয়া ম্যাচের সকালে তাঁকে বলি ওপেন করার জন্য। ভেঙ্কটেশ দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করছিলেন এই কারণেই কারণ আগে তিনি কখনও নতুন বলের মোকাবিলাই করেননি। ব্যর্থ হলে দলে জায়গা হারানোরও চিন্তা ছিল। তবে সে ব্যাপারে ভেঙ্কটেশকে চিন্তা করতে বারণ করে পাশে থাকার বার্তা দেন চন্দ্রকান্ত। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ঠিক এমনটা করেছিলেন পশ্চিমাঞ্চলের ম্যাচে
ইউসুফ পাঠানের ক্ষেত্রেও। ওই ম্যাচের আগেও ইউসুফ কখনও ওপেন করেননি। কিন্তু চন্দ্রকান্ত উপলব্ধি করেন নীচের দিকে ব্যাট করতে গিয়ে ইউসুফের দক্ষতার প্রতি সুবিচার হচ্ছে না। তাই ইউসুফকেও প্রথম ওপেন করতে পাঠান চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতই।
চন্দ্রকান্তের ভরসা
ভেঙ্কটেশকে চন্দ্রকান্ত ভরসা দিয়ে বলেছিলেন, দ্রুত আউট হয়ে ফিরে এলে বা কয়েকটা ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেও কিছু মনে করব না। কিন্তু ওপেন করতে নামলে ১২০টা বল খেলার সুযোগ থাকবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড় রান তোলাও সম্ভব হবে। এই ভরসা পেয়েই ওপেন করতে রাজি হন ভেঙ্কটেশ এবং প্রথম ম্যাচেই ঝকঝকে অর্ধশতরান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। এরপর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫ ম্যাচে ২৭৩ রান করেন ভেঙ্কটেশ, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য২৮ ফেব্রুয়ারি ইন্দোরে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১৪৬ বলে ১৯৮ রান। যে ইনিংসে ছিল ২০টি চার ও সাতটি ছক্কা।

মূল্যবান পরামর্শ
মুম্বই ও বিদর্ভকে কোচ হিসেবে সাফল্য এনে দেওয়া চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত মধ্যপ্রদেশের কোচ হয়ে ভেঙ্কটেশকে যেভাবে দেখেছেন তাতে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়েও বেশ আশাবাদী তিনি। চন্দ্রকান্তের কথায়, ভেঙ্কটেশের মধ্যে শেখার আগ্রহ অনেক রয়েছে। খুব দ্রুত সব কিছু রপ্ত করে নিতে পারেন। নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রেখে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যেতে হবে। ওপেন করার সময় তাঁকে শেষ অবধি নট আউট থাকার লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে।
ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল
গর্বিত পরিবার
ভেঙ্কটেশের পিতা রাজাশেখরন পুত্রের সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্ত্রী ঊষাকে। অর্থনীতিতে এমবিএ উত্তীর্ণ ভেঙ্কটেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও সফল হয়েছিলেন। পড়াশোনা ও খেলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভেঙ্কটেশের মা ঊষা ছেলেকে খুব সাহায্য করেছেন রাজাশেখরন বলেছেন, ভেঙ্কটেশ সব সময়ই পড়াশোনা ও ক্রিকেটকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ভেঙ্কটেশের মা বরাবর নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে এসেছেন, যেমন- মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে, ক্লাস কেমনভাবে করতে হবে, কীভাবে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত ইত্যাদি বিষয়ে। ভেঙ্কটেশের মধ্যে যে ভালো বিষয়গুলি সকলের নজরে আসবে সবটাই মায়ের শিক্ষার জন্যই।












Click it and Unblock the Notifications