বিরাট-শাস্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে! সরব বিস্মিত কপিল ও পাঠান
রবি শাস্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের হেড কোচ হিসেবে তিনি আর মেয়াদ বৃদ্ধিতে রাজি নন। বিরাট কোহলিও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি টি ২০ বিশ্বকাপের পর আর ভারতের টি ২০ দলকে নেতৃত্ব দিতে চান না। মজার ব্যাপার হল, এই দুই ঘোষণাই সামনে এল টি ২০ বিশ্বকাপের ঠিক আগে। যা উদ্বেগে রাখছে ক্রিকেট ভক্তদের। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন কোহলির সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় বা পদ্ধতিকে সমর্থন করছেন না কপিল দেব ও ইরফান পাঠান।

নেতৃত্ব-ত্যাগের ঘোষণার সময়
২০১৬ সালের পর ফের টি ২০ বিশ্বকাপ হচ্ছে। বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে ভারত কোনও আইসিসি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ফলে আরও একবার দেশবাসী যখন বিশ্বজয়ের প্রত্যাশা করছেন তখনই সামনে এসেছে বিরাট কোহলির টি ২০ অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই জানিয়েছে, ভারকীয় ক্রিকেটের আগামী দিনের রূপরেখা ঠিক করতে আলোচনা চলছে গত ৬ মাস ধরে। সেখানেই প্রশ্ন, কী এমন প্রয়োজন হয়ে পড়ল যে বিশ্বকাপের আগেই বিরাটকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা করতে হল?

তর্ক-বিতর্কে উদ্বেগ
যুক্তি-তর্কে দুটি দিক উঠে আসতে পারে। কেউ কেউ বলতে চাইছেন, ২০১১ সালে যেমন সচিন তেন্ডুলকরের শেষ বিশ্বকাপ ছিল আর সেই বিশ্বকাপ জিতে তা সচিনকে উপহার দিতে গোটা দল এককাট্টা হয়ে লড়াই করেছিল, বিরাট হয়তো তেমন কিছুই উস্কে দিতে চেয়েছেন। যাতে বিরাটের সতীর্থরা চাইবেন ক্যাপ্টেন কোহলির প্রথম তথা শেষ টি ২০ বিশ্বকাপ জিতে বিরাট অধিনায়কত্ব ছাড়ার মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি চাপমুক্ত হয়েই নামতে পারবেন। সেখানেই আসছে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। বিশ্বের সমস্ত দেশ যেখানে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে রণকৌশল ঠিক করছে সেখানে ভারতের প্রস্তুতিটাই যেন ভাঙা হাটের মতো। কোচ মুখে যতই বলুন টি ২০ বিশ্বকাপ জেতা তাঁর কাছে আইসিং অন দ্য কেক, সেখানে না জিতলেও যে খুব একটা যাবে আসবে না তাও বোঝা গিয়েছে শাস্ত্রীর কথায়। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জেতা বা এগিয়ে থেকেই তিনি বেশি তৃপ্ত। বিরাট কোহলিও আগেভাগে টি ২০ অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা করে বসে রইলেন। তিনি যদি নীতি মেনেই চলবেন তাহলে কেন তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের অধিনায়কত্ব আগেভাগে ছাড়লেন না? টি ২০ বিশ্বকাপ জিতলে সহানুভূতি আদায় করে বিদায় নেব আর হারলে আগেই তো অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেছি, এমন যুক্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের আশ্বস্ত করছে না। বরং রাখছে উদ্বেগে।

অবাক পাঠান
টি ২০ বিশ্বকাপের পর যদি তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর কোনও আঁচ বিরাট পেয়েই থাকেন তাহলে তিনি তো টি ২০ বিশ্বকাপে দলের শেষ ম্যাচের পরও দায়িত্ব ছাড়তে পারতেন। এমন উদাহরণ তো প্রচুর রয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে। তাতে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকত না। ইরফান পাঠান বলেছেন, বিরাটের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণার সময় আমাকেও অবাক করেছে। সকলে সাধারণত টুর্নামেন্টের শেষে এমন ঘোষণা করে থাকেন। বিরাট কোহলি একজন ভালো অধিনায়ক, টেস্টেও আমরা তা দেখেছি। কী হবে তাহলে যদি বিরাটের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জেতে? অনেকে বিরাটের আইসিসি টুর্নামেন্ট না জেতার কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত বিরাট অনেক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে এখন সকলের মতোই চাইব বিরাট যাতে টি ২০ বিশ্বকাপ জিতেই টি ২০ অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন।

বিস্মিত কপিলের খোঁচা
বিরাটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছে তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কপিল দেব। বিরাট যেভাবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেছে তাতে বিস্মিত তিনি। কপিলের কথায়, এমনটা ভাবতেই পারি না। এখনকার দিনে এটা দেখে অবাক লাগে ক্রিকেটাররাই ঠিক করে ফেলেন কী করা উচিত আর কী নয়! আমার মতে, এ সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্বাচকদের ভূমিকা থাকা উচিত। এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ক্রিকেটারদের নির্বাচক ও বোর্ডকর্তাদের বিষয়টি জানানো উচিত। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিরাটের এত তাড়াহুড়ো করার দরকার ছিল না। তিনি একজন ব্রিলিয়ান্ট প্লেয়ার। একটা মরশুম খারাপ গেলেই তা ভালো ক্রিকেটার বা ভালো অধিনায়কের বিষয়টিকে বদলাতে পারে না। বিরাট যদি সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে নির্বাচকদের জানিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক আছে। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সে ব্যাপারে কিছু বলার নেই। তবে আজকাল ক্রিকেটাররাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন! বিরাট জানিয়েছেন টি ২০ ফরম্যাটে তিনি অধিনায়ক থাকতে চান না। এটা ধোনিও করেছিলেন। কিন্তু টুইটে এই ধরনের ঘোষণা আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে। এর কারণ বুঝতে পারিনি। ক্রিকেটাররা আজকার নিজেরাই আগে জানিয়ে দিচ্ছেন, এই অবধি খেলব, তারপর নয়, কিংবা আইপিএল বা টি ২০ শুধুই খেলব। এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণার যে সাহস তাঁদের দেখি তাঁকে কুর্নিশ!












Click it and Unblock the Notifications