Jitesh Sharma: ভারতীয় দলে নতুন উইকেটকিপার, জিতেশ শর্মা কীভাবে নির্বাচকদের নজর কাড়লেন জানেন কি?
ঋষভ পন্থ মাঠের বাইরে। ভারতীয় টি ২০ দলে এখন উইকেটকিপিং করছেন ঈশান কিষাণ। তারই মধ্যে হাঁটুর চোট শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি ২০ সিরিজ থেকে ছিটকে দিল সঞ্জু স্যামসনকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন জিতেশ শর্মা। ফলে মনে করা যেতেই পারে, ২০২৪ সালের টি ২০ বিশ্বকাপের দল গঠনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচকদের ভাবনায় রয়েছেন বিদর্ভের এই উইকেটকিপার।

বিদর্ভের জিতেশ
জিতেশ শর্মা গত আইপিএলে খেলেন পাঞ্জাব কিংসের হয়ে। এবারও তাঁকে ধরে রেখেছে পাঞ্জাবের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। জিতেশ গত বছরই প্রথমবার আইপিএল খেলার সুযোগ পান। ২০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনেছিল পাঞ্জাব কিংস। ১২ ম্যাচে ২৩৪ রান করেছিলেন জিতেশ, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৩.৬৩। ফিনিশারের ভূমিকা পালনে তিনি কার্যকরী। এবারের নিলামের আহে যে ১৬ জন ক্রিকেটারকে পাঞ্জাব কিংস ধরে রেখেছিল তাতে জিতেশ ছিলেন অন্যতম। ২০২২ সালের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও জিতেশ দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। বিদর্ভের হয়ে ১০ ম্যাচে তিনি ২২৪ রান করেন। স্ট্রাইক রেট ১৭৫।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত উন্নতি
জিতেশ বিদর্ভের সিনিয়র দলে প্রথম সুযোগ রান ২০১৩-১৪ মরশুমে। তার আগে ২০১২-১৩ মরশুমে কোচবিহার ট্রফিতে তিনি ১২ ইনিংসে ৫৩৭ রান করেছিলেন। দুটি শতরান ও একটি অর্ধশতরান-সহ। ২০১৩-১৪ মরশুমে বিজয় হাজারে ট্রফিতে লিস্ট এ বা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে অভিষেক। প্রথম দুটি মরশুমে তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই সুযোগ পান। টপ অর্ডারেই বেশি ব্যাট করেছেন। ২০১৫-১৬ মরশুমে জিতেশ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন জিতেশ। সেবার একটি শতরান ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি-সহ ১৪৩.৫১ গড় রেখে ৩৪৩ রান করেন। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং আকৃষ্ট করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। ২০১৬-র নিলাম থেকে জিতেশকে মুম্বই নিয়েছিল ১০ লক্ষ টাকায়। তবে আইপিএল অভিষেক তাঁর হয় গত বছর পাঞ্জাব কিংসের হয়েই।

সাদা বলের ক্রিকেটেই বেশি সফল
২০১৫-১৬ মরশুমে রঞ্জি অভিষেক হয় জিতেশের। তবে সেবার আহামরি পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ৭ ম্যাচে ১৮০ রান করেছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জিতেশ ১৬ ম্যাচে ৫৫৩ রান করেছেন, তিনটি হাফ সেঞ্চুরি-সহ। টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন ৭৬টি, ১৭৮৭ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৯৩। একটি শতরান ও ৯টি অর্ধশতরান রয়েছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ৪৭ ম্যাচে ১৫৩০ রান রয়েছে, ২টি শতরান ও সাতটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। অমরাবতীর জিতেশ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও ফিনিশার হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রথমদিকের ম্যাচগুলিতে তিনি উইকেটকিপিং করছিলেন না। পরে বিদর্ভের টিম ম্যানেজমেন্ট জানতে পারেন জিতেশ নির্বাচকদের নজরে আছেন। তারপর থেকে তিনি দুরন্ত উইকেটকিপিংই শুধু করেননি, ইডেনে সেমিফাইনালে ঝোড়ো ব্যাটিং করে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেন। বিদর্ভের হয়ে এই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীও হন।

পাওয়ারহিটিং চমকপ্রদ
আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে একটিও ম্যাচ না খেলে বাদ পড়ার পরের কয়েক বছর জিতেশ ব্যাটিংয়ে জোর দেন। বড় শট খেলতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। যা তাঁর আইপিএলের আসরে প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করে দেয়। জনি বেয়ারস্টো দলে, সেখানে জিতেশের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ী ছিলেন অনেকেই। তবে তাঁর পাওয়ারহিটিং মুগ্ধ করে হেড কোচ অনিল কুম্বলেকে। কুম্বলের কাছ থেকেই আইপিএল অভিষেকের কথা জানতে পেরে তিনি ভালো খেলার জন্য আরও প্রত্যয়ী হয়ে ওঠেন। আইপিএলে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৩.০৩, যা পাঞ্জাব কিংসে ইংল্যান্ড তারকা লিয়াম লিভিংস্টোনের (১৮২.০৮) ঠিক পরেই রাখে জিতেশকে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের তালিকায় জিতেশ থাকেন দীনেশ কার্তিক, লিয়াম লিভিংস্টোন, আন্দ্রে রাসেল ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের পর পঞ্চম স্থানে। উমেশযাদব, ফৈজ ফজলের পর বিদর্ভের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ডাক পেলেন ভারতীয় দলে।












Click it and Unblock the Notifications