'বেঙ্গল এক্সপ্রেস' ঝুলনের মিশন লর্ডসের নেপথ্য কাহিনি

বাংলার চাকদা থেকে লর্ডসের ময়দান। যাত্রাপথটা সহজ ছিল না। ঝুলনের ক্রিকেটীয় পথের বিভিন্ন সময়ে যাঁরা নানা রূপে এসেছিলেন,কী বলছেন তাঁরা।

১০ ওভার ২৩ রান ৩ উইকেট ৩ মেডেন। এটা শুধু একটা সংখ্যা নয়, এটা একটা সাধনা। ৩৫ ঝুলন গোস্বামী যা করেন। আর যার ফল দেখল গোটা দুনিয়া। মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বঙ্গললনা ঝুলনই হয়ে উঠলেন গেম চেঞ্জার। ঝুলনকে যাঁরা দীর্ঘদিন কাছ থেকে দেখছেন তাঁরা বলছেন তাঁর সাফল্যের রেসিপি।

'বেঙ্গল এক্সপ্রেস' ঝুলনের মিশন লর্ডসের নেপথ্য কাহিনি

স্বপন সাধু , এঁর হাত ধরেই কলকাতা ময়দানে পা রেখেছিলেন চাকদার বছর ষোলর ঝুলন। রবিবার ৩৫ -র ঝুলনকে দেখে মুগ্ধ তাঁর প্রাক্তন কোচ। বলছেন গোল্ডেন বিদায়। আসলে ৩৫-র ঝুলনের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য জ্বলে উঠলেন বাংলার মেয়ে। সোমবারও ইংল্যান্ড থেকে নিজের প্রথম কোচকে ফোন করেছিলেন। কোচ স্বপন বাবুর টিপস ছিল পেস যেহেতু ১১২-১১৪র মধ্যে থাকে তাই গুড লেংথ স্পটে যেন বল ফেলেন তাঁর ছাত্রী। আর ফাইনালে নিজের কোচের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন ঝুলন। স্বপন সাধু -র কথায় কোনও পুরুষ ক্রিকেটার ১৬ বছরের কেরিয়ারের শেষে যা পারফরমেন্সের কথা ভাবতেও পারেনা তাই করে দেখাল ঝুলন। এদিন স্বপনবাবু যেন নস্টালজিক। ফিরে যাচ্ছেন প্রথমদিকে নিজের ছাত্রীকে তৈরি করার দিনগুলিতে। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি,'আমি যদি ১০ শতাংশ দিয়ে থাকি ও নিজে ৯০ শতাংশ দিয়েছে। সকলে অনুশীলন করে চলে যেত ও বলত স্যার আমায় আরও ক্যাচ দিন, আমি আরও অনুশীলন করব।' এই অধ্যাবসায়ই আজও ফল দিচ্ছে, মত ঝুলনের প্রথম কোচ স্বপন সাধু'র।

'বেঙ্গল এক্সপ্রেস' ঝুলনের মিশন লর্ডসের নেপথ্য কাহিনি

একইরকম ভাবে ঝুলনে মজে মহিলা ক্রিকেটের প্রাক্তন বঙ্গ অধিনায়ক মিঠু মুখোপাধ্যায়। তাঁর কাছে ঝুলনের ফাইনালের পারফরমেন্স আশ্চর্য কিছু নয়। ঝুলন যে মাপের ক্রিকেটার তাঁর কাছ থেকে বড় মঞ্চে বড় পারফরমেন্সই প্রত্যাশিত। আর সেটাই করেছেন তিনি। দল ঝুলনের কাছ থেকে এটাই চায় আর তিনি দলের প্রয়োজনে সেটাই করেছেন। তবে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের কথায় শুধু শুরু দিনেই নয়, আজও রোজ লড়াই করতে হয় ঝুলনকে। মহিলা ক্রিকেট খেলে যে অর্থ উপার্জন হয় তাতে বিলাসিতা করা সম্ভব নয়। তাই হাড়ভাঙা অনুশীলন করে এখনও যখন তিনি বাড়ি ফেরেন তখন নিজের কাজ গুছিয়ে নিজেকেই করে নিতে চাকদার এই মেয়েটিকে। দমদম পার্কের ছোট্ট ফ্ল্যাটে একাই থাকেন ঝুলন। পুরুষ ক্রিকেটের গ্ল্যামারের থেকে এখনও অনেক দূরে মেয়েরা। মিঠু মুখোপাধ্যায়ের সাফ কথা ঝুলনরা যে লড়াইটা করে যাচ্ছেন তার ফল পাবে পরবর্তী প্রজন্ম।

'বেঙ্গল এক্সপ্রেস' ঝুলনের মিশন লর্ডসের নেপথ্য কাহিনি

ঝুলনের লড়াইয়ের কথা সিএবি-র বর্তমান পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের কথাতেও। সিএবি-র যুগ্মসচিব পদে থাকার সময় মহিলা ক্রিকেটটা তিনিই দেখতেন। ফলে ঝুলনকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর মতেও ঝুলনের সাফল্যের চাবিকাঠি তাঁর অধ্যাবসায়। সুজনবাবু যেহেতু এখন সিএবি-র মাঠগুলির দায়িত্বে , তাই তাঁর কাছ থেকে মাঠে বাড়তি অনুশীলনের সম্মতি নিতেন ঝুলন। রোজ সকালে ফিজিক্যাল ট্রেনরকে সঙ্গে নিয়ে যাদবপুরের মাঠে অনুশীলন করতেন বঙ্গ স্পিডস্টার।

এটাই ঝুলন। ঝুলনকে আদর্শ করে বড় হতে গেলে প্রথমেই তাই ঝুলনের অধ্যাবসায় ও সংগ্রামকে নিয়েই এগোতে হবে পরবর্তী ঝুলনদের, এমনটাই মত বাংলার ক্রিকেটমহলের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+